প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোগান্তি কমাতে এবং কনস্যুলার সেবা আরো সহজলভ্য করতে, মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরবর্তী ফুভাহমুলাহ দ্বীপে দুই দিনব্যাপী বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রধান করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।

গত শুক্র ও শনি দেশটির ফুভাহমুলাহ ও আশপাশের কয়েকটি দ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এ ভ্রাম্যমাণ এই কনসুলার সেবা দেয়া হয়। হাইকমিশনের এই সেবা নিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিল অফিসে উপস্থিত হন বহু প্রবাসী বাংলাদেশী।

দুইদিন চলা ভ্রাম্যমাণ এই ক্যাম্পে ১০০ ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট ও ২৮টি বিএমইটি কার্ডের আবেদন গ্রহণ করার পাশাপাশি বিশেষ আইনগত সেবা, ওয়েজ আর্নার্স সদস্যপদ, ফ্রি মেডিক্যাল সেবা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা দেয়া হয়। হাইকমিশনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান উক্ত দ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

এসময় তারা বলেন, রাজধানী মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে না গিয়েই নিজেদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। ফুভাহমুলাহ থেকে মালেতে যাতায়াতে বিমানে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং যাতায়াত ভাড়াবাবদ খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এর সাথে যোগ হয় মালে থাকা-খাওয়ার খরচ এবং কাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির ও সম্মুখীন হতে হয়। এ অবস্থায় সরাসরি দ্বীপে এসে হাইকমিশনের সেবা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত প্রবাসীবান্ধব ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তারা।

ভ্রাম্যমাণ এই কনসুল্যার ক্যাম্প পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা বাংলাদেশীদের স্বাগত জানান এবং তাদের সাথে মতবিনিময় করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

এসময় তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের সময়, কষ্টার্জিত অর্থ ও মূল্যবান কর্মঘণ্টার সঠিক মূল্যায়ন করাই হাইকমিশনের মূল লক্ষ্য। রাজধানী থেকে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে থাকা স্বল্প আয়ের প্রবাসী ভাইদের দুর্ভোগ কমাতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দ্বীপে ই-পাসপোর্ট, বিএমইটি নিবন্ধনসহ যাবতীয় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দেয়া হবে।’

মালদ্বীপের ফুবাহমুল্লাহ আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই কনস্যুলার সেবা ক্যাম্প, প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ছিল সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি উদ্যোগ, যা তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।