করোনার প্রাদুর্ভাব চলাকালীন গত দেড় বছরে ব্যাংক খাত থেকে সাড়ে তিন হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ব্যাংকাররা বলছেন, কর্মীরা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। ব্যাংকারদের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদলের এক বৈঠকে এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের কর্মীদের ব্যাংক থেকে জোরপূর্বক ছাঁটাই বা বাধ্যতামূলক চাকরি থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। করোনা মহামারীর সময়ে একজন ব্যাংকারকে বাদ দেয়ার বিষয়টি অমানবিক বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়। অনেক কর্মীই উচ্চ বেতনের হওয়ায় তারা অন্য কোথাও চাকরিও জোগাড় করতে পারেনি। বিষয়টি ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এ সময়ে এবিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু ব্যাংকার নিয়ম মেনেই স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে চলে গেছেন। তাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনও সন্তোষজনক না হওয়ায় তারাই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু ব্যাংকারদের এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এত বিশাল সংখ্যক কর্মীর চাকরি থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীর মধ্যেই ব্যাংকগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। এমন অভিযোগের পাহাড় জমা হতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ছয়টি ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায় ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি ছয় ব্যাংকের তিন হাজার ৩১৩ জন কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে ‘স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৭০ জন। আর ১২ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই, ২০১ কর্মকর্তাকে অপসারণ ও ৩০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের ২০১, সিটি ব্যাংকের এক হাজার ৯৮, ডাচ্বাংলা ব্যাংকের ২৭৯, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩৫, ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার ২১১, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৪৬ জন কর্মী ব্যাংক থেকে চলে গেছেন। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।








