বিশ্বের পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৌশলগত ও যুক্তিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন কৌশলগত অক্ষ তৈরি হচ্ছে। লোহিত সাগরের মোচা বন্দর, সৌদি আরব, পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও তুরস্ককে ঘিরে পরিবর্তিত সমীকরণের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি এবং ইউরেশিয়াকে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা চলছে। এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান ও স্বার্থ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খান হলে সেন্টার অব মিলিটারি হিস্ট্রির আয়োজনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্কের প্রসাথে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভুল তথ্য ও পররাষ্ট্রনীতির কিছু ত্রুটির কারণে সৌদি আরবের সাথে সামরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। একইসাথে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের ব্যবহারের জন্য ১৩টি সংযোগ বা ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রামগড় সংযোগ ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যতম বড় ও স্পর্শকাতর পরিবর্তন। অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, মস্কো সফর এবং মিসরকে আহ্বান জানানোর মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু বিশ্বমঞ্চের এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও জোটে বাংলাদেশকে ডাকা হচ্ছে না।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা প্রসাথে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াকে কেন্দ্র করে তিনটি প্রধান শক্তিকেন্দ্র গড়ে উঠছে। ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত ইউরেশিয়ায় ভূকৌশলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই। এ প্রসাথে তিনি জবিগনিউ ব্রজেজিনস্কির ‘দ্য গ্র্যান্ড চেসবোর্ড’ এবং হ্যালফোর্ড ম্যাকিন্ডারের ভূকৌশলগত তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন। ইউরেশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব হারালে ইউরোপেও দেশটির অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি ড্রোন কারখানা তৈরি করা হচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকতে হলে কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইরানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক বা রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয় র‌্যাশনাল বা যুক্তিসঙ্গত ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে জাতীয় ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে।

জুলাই-আগস্টের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে জাতি বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে পারে। জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়; সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে দাঁড়ালেই প্রকৃত জাতীয় প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে। একপক্ষীয় চিন্তার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে খাপ খাওয়াতে জনগণকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, জাতীয় ঐক্য ও বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণের সমন্বয় প্রয়োজন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, মক্কা চুক্তিকে শুধু সামরিক জোট হিসেবে দেখলে এর বহুমাত্রিক কৌশলগত গুরুত্ব অনুধাবন করা যাবে না। এ চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, তুরস্কের বাইরাক্তার ড্রোন, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং সৌদি আরবের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সাথে সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সৌদি আরব বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

অধ্যাপক লতিফ মাসুম বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ডিটারেন্স’ বা নিবৃত্তি একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা। শক্তিশালী কৌশলগত জোটের সাথে যুক্ত থাকলে সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে বাংলাদেশ শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশীদার হিসেবেও যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল হবে—এমন আশঙ্কাও অমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের ভূমিকা এবং সৌদি-ইরান সমঝোতায় চীনের মধ্যস্থতা এর উদাহরণ। ফলে মক্কা চুক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মক্কা চুক্তিতে যোগদানের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। চুক্তির প্রতিটি শর্ত ও ধারা জাতীয় সংসদ, রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও জনগণের আলোচনার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে টেকসই কৌশলগত সিদ্ধান্তের জন্য গণতান্ত্রিক ঐকমত্য জরুরি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফজলে এলাহি আকবর বলেন, দেশের স্বার্থে মক্কা প্যাক্ট থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন থাকা ঠিক হবে না। জাতীয় স্বার্থ ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে এর বাস্তবতা ও সম্ভাব্য সুফল নিয়ে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন।

মক্কা প্যাক্টের আর্টিকেল-৫ নিয়ে আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে বাংলাদেশ এতে জড়িয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কাকে ভিত্তি করে চুক্তি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। ন্যাটোর ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্টিকেল-৫ নিয়ে যে ধরনের ভয় দেখানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার মিল রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ফজলে এলাহি আকবর বলেন, সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে পুরো জাতি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মক্কা প্যাক্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য জোরদারের ক্ষেত্রে বিএনপির সামনে একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’ রয়েছে।

নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমোডর জসিমউদ্দীন বলেন, মক্কা চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব। বাংলাদেশ সরাসরি সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবেও যুক্ত হয়ে সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নৌখাতে দক্ষ প্রায় দুই হাজার টেকনিশিয়ান রয়েছে। এসব দক্ষ জনবল সৌদি আরবের সাথে সহযোগিতার আওতায় কাজে লাগানো গেলে উভয় পক্ষই উপকৃত হতে পারে।

মাতারবাড়ীতে বড় আকারের কৌশলগত জ্বালানি মজুদাগার গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তুলতে পারলে সঙ্কটের সময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সৌদি আরবের মতো জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। এর বিনিময়ে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক সাবমেরিন সংগ্রহ ও বঙ্গোপসাগরে নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সহযোগিতা কাজে লাগতে পারে।

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, মুসলিম বিশ্বের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করা উচিত। মক্কা চুক্তি বিষয়ে আরো আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে চুক্তি থাকা উত্তম। একটি রাষ্ট্র ছোট না বড়, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়; রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিই তাকে বড় করে। কিউবার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশও নিজস্ব স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে।

সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়া রয়েছে। বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে নেয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তথ্য ফাঁস হলে বাংলাদেশকে চুক্তিতে নেয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, বৈরিতা নেই’—এ নীতিকে তিনি সমালোচনা করে বলেন, সবার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। দেশের ঐক্যের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এস কে আকরাম আলী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মক্কা চুক্তির নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি। বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। তিনি মক্কা চুক্তির বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, প্রফেসর মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুহুল আমিন, তরুণ সঙ্ঘের সভাপতি ফজলুল হক, সাবেক সচিব আবুল হোসেন, নুরুল হুদা চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, জুলাই আন্দোলনের সংগঠক খমেনি এহসান, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও প্রফেসর তারেক ফজল।