২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এর আগে ও পরে ৬১৩টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় ১৩ হাজার ৩৮৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার করা অনেক নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে এনে তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে বিভিন্ন মিডিয়াতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যা মিডিয়া ট্রায়ালেরই নামান্তর। এ কাজের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাবেক সহ-সভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রিক, আব্দুল জব্বার ভুইয়া, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী আবেদ রাজা, মো: আক্তারুজ্জামান, মো: কামাল হোসেন, মো: মাহবুবুর রহমান খান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ গত ২০১২, ২০১৫ এবং ২০১৯ সালের বিভিন্ন মামলায় রিমান্ড, গ্রেফতার ও পরবর্তী ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অবশ্য পালনীয় বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এই সমস্ত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ দেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনও বটে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সমস্ত বেআইনি মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়েছে, বিএনপির গত ২৮ অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রায় সব থানাতেই মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবরের পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপির মহাসচিবসহ মোট ১৬৪ জন নেতাকর্মীর নামে উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ইতোমধ্যেই আমরা অবগত হয়েছি যে, পল্টন থানায় উক্ত মামলায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিএনপির অনেক দায়িত্বশীল নেতাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ব্যতিরেকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক। আমরা এধরনের হীন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব হয়রানিমূলক মামলায় মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হচ্ছে। আইনজীবীদের জনপ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সাড়ে তিন বছর আগে মারা গেলেও গত ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আমিরা এ ধরনের বেআইনি, হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ১০ নভেম্বর ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা দি গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর হাতে নিপীড়ন-নিগ্রহের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রজাতন্ত্রের পুলিশ বাহিনী কোনো অনির্বাচিত সরকারের বিরোধীদল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। একইসাথে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাব, দেশের প্রচলিত আইন, বিধি এবং সংবিধান অনুযায়ী স্বীয় দায়িত্ব পালনের জন্য। অন্যথায় আইন ও সংবিধান ভঙ্গকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে রাজধানীর নয়াপল্টস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।











