একদিকে অর্থ সঙ্কট অন্যদিকে করোনা মহামারী। এ কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিরাকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড-এর। আর ব্যবসাই যেখানে ঝুকিতে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির হাজারেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়ে বেকার। কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও আর্থিক সঙ্কটের ফলে কারখানাটি পুরোদমে চালু করতে পারছে না। চলতি মূলধন ঋণের ঘাটতি মেটাতে পারছে না মিরাকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে কোম্পানিটি রফতানির পরিমাণ বাড়াতে মূলধন সঙ্কটে পড়ে। বিসিআইসি ও লিয়েন ব্যাংকের কাছে ঋণ সহায়তা চাইলেও তা পায়নি তারা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরং বকেয়া ঋণ ফেরত দিতে চাপ দেয় কোম্পানিটিকে। উপায় খুঁজে না পেয়ে উদ্যোক্তারা কোম্পানির মালিকানা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরে ২০১৯ সালে ১৭ অক্টোবর শেয়ার বিক্রির চুক্তিনামা করা হলেও নানা কারণে সেই শেয়ার আর ট্রান্সফার করা যায়নি।

এদিকে অর্থসঙ্কটে থাকায় কোম্পানিটির উৎপাদন ১০ শতাংশে নেমে আসে। নতুন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মেহমুদ ইকুইটিজ লিমিটেডের কর্ণধার ডা: একেএম শাহবুব আলম দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেয়ার পর তারা ব্যাংকের কাছে ৫৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৭২ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা চেয়েছেন। ব্যাংক এখনো সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তবে ব্যাংক রাজি হলেও পুনর্গঠিত ঋণ হিসেবে কিস্তি বাবদ যে অর্থ আসবে, তা পরিশোধ করাও কষ্টকর হবে।

কোম্পানির একটি সূত্র জানায়, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান যে অবস্থায় তাতে সক্ষমতার ৯০ ভাগ অর্জন করেও ঝুঁকিমুক্ত হওয়া যাবে না। কারণ, কোভিডের কারণে বাইরের ক্রয় আদেশও কমেছে প্রায় ৫০ ভাগ। বর্তমানে বিসিআইসিই একমাত্র স্থানীয় ক্রেতা। পাট মন্ত্রণালয়ের প্লাষ্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্থানীয় বাজারও সীমিত হয়েছে।

এদিকে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে যা আছে সেই তুলনায় কোম্পানিটির ঋণে বোঝা অনেক বেশি। যা এই কারখানা থেকে ৯০ শতাংশ উৎপাদন অর্জন করেও লাভ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে ভলিউম অর্ডার পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে এই করোনা পরিস্থিতিতে।

জানা গেছে, চারটি কারখানাতে সমান্তরালভাবে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ জোগার, মান সম্পন্ন উৎপাদন এবং প্রতিযোগিতা মূল্যে বিক্রয় করা অসম্ভব। বড় জোর একটি বা দু’টি কারখানা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতায় চালাতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ উৎপাদন হওয়া সম্ভব।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে অবস্থিত মিরাকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা। ১৯৯৩ সালে নিবন্ধিত এই কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট, ১৯৯৮ সালে বিসিআইসি, টিএসপিসিএল ও সিসিসিএলের সাথে শেয়ারহোল্ডারস চুক্তি সম্পাদিত হয়। এরপরে ২০০০ সালে ডিএসই ও সিএসই’র তালিকাভুক্ত হয়।