রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীতে ইফতারির ব্যাপক আয়োজন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মতিঝিল ও বেইলি রোড ফুটপাতে বাহারি খাদ্যপণ্যে সাজানো হয়েছে ইফতারির দোকান। পছন্দের ইফতার পণ্য পাওয়ায় ক্রেতারা যেমন খুশি, তেমনি বিক্রি ভালো হওয়ায় সন্তষ্ট বিক্রেতারাও।

পেঁয়াজু, বেগুনি, ডিম ও চিকেন চপ, বিফ স্টিক, শামি কাবাব, রেশমি কাবাব, সুতিকাবাব, হালিম, কাটলেটসহ বাহারি ইফতার কেনা-বেচায় ব্যস্ত এই এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মতিঝিলের অফিসপাড়ার ফুটপাতে স্বল্প মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বাহারি ইফতার। রমজান উপলক্ষে স্থাপিত বিভিন্ন দোকানে বিকেল থেকে এসব দোকানে ইফতার কিনতে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

রোববার (০৩ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, ফার্মগেট, কাওরানবাজার ও বেইলি রোড এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

দোকানিরা বলছেন, তীব্র যানজটের কারণে অনেকেই ইফতার কাওরান বাজারসহ এসব এলাকায় সেরে বাড়ি ফেরেন। তাই নিম্ন আয় ও কর্মব্যস্ত মানুষের ইফতারির বড় ভরসা ফুটপাতের এসব দোকান। অভিজাত হোটেলের মতো দামি ইফতার সামগ্রী না থাকলেও ফুটপাতের এসব দোকানে বাহারি পদের অভাব নেই।

বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলার ঘুগনি, মুড়ি, জিলাপি, জালি কাবাব, চিকেন হালিম, গরু ও খাসির হালিম, আলু সমুচা, বিফ সমুচা, আলুর চপ, শাকের চপ, ভেজিটেবল রোলসহ বাহারি ইফতারি অল্প দামেই কিনছেন কর্মব্যস্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

দোকানিরা জানান, বেগুনি, পেঁয়াজু, সমুচা, আলুর চপ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা করে। ডিমের চপ ১৫ টাকা, জালি কাবাব ১৫ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২০টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বুন্দিয়া কেজি ১২০ টাকা, চিকেন ললি পোপ ৩০ টাকা পিস, চিকেন বল ১৫ টাকা পিস, হালিম ছোট বাটি ৬০ টাকা মাঝারি ১২০ টাকা, লুচি ১০ টাকা পিস, চিকেন পেটিস ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

মতিঝিলের ব্যাংক পাড়ায় ইফতারির দোকান নিয়ে বসা মো. শফি নয়া দিগন্তকে বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে এখানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছি। আমাদের কাছ থেকে সাধারণত বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইফতারি কিনে নিয়ে যান।

ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, জিলাপি স্বল্প মূল্যে বিক্রি করেন বলে জানান শফি।

তিনি আরো জানান, কেউ চাইলে দোকানে বসেও ইফতার করতে পারেন। আবার চাইলে ইফতার নিয়েও যেতে পারেন। একজন চাইলে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মাধ্যমে ভালো ইফতারি করতে পারবেন।

তিনি বলেন, জিনিসের দাম বেশি থাকার কারণে দাম একটু বেশি পড়ছে। গত বছরও এখানে ২৫ টাকার মধ্যে একজন রোজাদার ইফতার করেছেন।

দৈনিক বাংলা মোড়ের ইফতার বিক্রেতা মো. ফারুক বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে বেচাকেনা কম ছিল। এবার একটু বেশি ক্রেতা থাকবে বলে আশা করছি। দুই চারদিন গেলে বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা রোজাদারদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী ইফতারি বানাই। বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, হালিম, জিলাপি, সমুচা, ভেজিটেবল রোল, ভেজিটেবল চপ, ঘুগনিসহ ইফতারির প্রায় সব আইটেমই আমাদের কাছে আছে। হোটেলে এসব আইটেমের যে দাম আমরা তা থেকে অনেক কম রাখি।

ইফতার কিনতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইয়ান কাদির জিহাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ইফতার অফিসে করতে হবে। তাই আসরের নামাজ পড়ে ইফতার কিনে নিলাম।গত দুই বছর এখান থেকে ইফতার কিনি।

মতিঝিল দিলকুশার ইফতারি বিক্রেতা রফিক বলেন, একজন রোজাদার অল্প টাকায় ইফতারি করতে পারেন- এই চিন্তা করেই আমরা ইফতারির খাবার তৈরি করি।