গাজা শহরের মধ্যাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০৫ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ১৭ দিন ধরে তল্লাশি চালানোর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য জানায়।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে কাফনে মোড়ানো লাশগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখার সময় স্বজনরা সেখানে জড়ো হন। তারা তাদের প্রিয়জনদের শনাক্ত করেন এবং শেষ বিদায় জানান।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মিসরের একটি কমিটির সাথে সমন্বয় করে এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘এরা সবাই সাধারণ নাগরিক ও মানুষ। শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।’
গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাগ্রিদ আল-হানাওয়ি। স্বামী ও চার সন্তানসহ তার মেয়ে হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
তাগ্রিদ আল-হানাওয়ি বলেন, ‘নাগরিক নিবন্ধন তালিকা থেকে তাদের পুরো পরিবারটিকেই মুছে ফেলা হয়েছে। আজ সেই ক্ষত আবার তাজা হয়ে উঠল, তবে শেষ পর্যন্ত আমি তাদের দেহাবশেষ স্পর্শ করতে পেরেছি এবং মর্যাদার সাথে তাদের দাফন করতে পেরেছি।’
ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, আবাসিক ভবনটিতে হামলার ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো লাশ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চালানো ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৪৩১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো পাঁচ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি





