ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাথে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনার জন্য মিসরের রাজধানী কায়রোতে সফর করছে এক ইসরাইলি প্রতিনিধি দল।

বুধবার ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম কান নিউজে প্রকাশিত খবরে এই তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, ইসরাইলি প্রতিনিধি দল মিসরীয় প্রতিনিধি দলের সাথে যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনায় মিলিত হবে।

এর আগে রোববার হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়াসহ দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল কায়রোতে যায়। এই প্রতিনিধি দলে হামাসের বহির্বিশ্ব শাখার প্রধান খালেদ মিশাল ও গাজায় হামাসের প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ারও রয়েছেন।

বুধবার হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামাস নেতৃত্ব মিসরীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আব্বাস কামেলের সাথে কায়রোতে গোয়েন্দা বিভাগের সদর দফতরে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসরাইলের সাথে বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এতে আরো বলা হয়, বিনিময়ের জন্য ফিলিস্তিনি বন্দীদের তালিকা যথাযথ রেখে ইসরাইলকে সম্মত করাতে মিসরের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ইসরাইলের সাথে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর টানা ১১ দিনের সংঘর্ষের পর মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে ইসরাইলের কারাগারে মোট চার হাজার ছয় শ' ৫০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন। অপরদিকে ২০১৪ সালে ইসরাইলের গাজায় আগ্রাসনের সময় হামাস দুই সৈন্যসহ চার ইসরাইলিকে অপহরণ করে। ইসরাইলি নাগরিকদের ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে বর্তমানে হামাস ও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মধ্যে দর কষাকষি চলছে।

এর আগে ২০০৬ সালে গাজা থেকে ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের সদস্যরা সীমান্তে দায়িত্বরত ইসরাইলি সৈন্য গিলাদ শালিতকে অপহরণ করেন। গিলাদ শালিতের মুক্তির জন্য হামাসের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছরের দর কষাকষির পর ২০১১ সালে এক হাজার ২৭ ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে গিলাদ শালিতকে মুক্তি দেয়া হয়।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই