সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে এক ইরাকি সশস্ত্র সংগঠন। আল-উইয়াত আল-ওয়াদ আল-হক নামের স্বল্প পরিচিত এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দেশটিতে হামলা করতে আসা তিনটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানানো হয়।

আল-উইয়াত আল-ওয়াদ আল-হকের বিবৃতিতে জানানো হয়, সংযুক্ত আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করে হামলার জন্য তারা মোট চারটি ড্রোন পাঠায়।

ইরাক ও ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নীতিগত অবস্থানের জেরে এই হামলা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

সংগঠনটিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ইরান সমর্থিত ইরাকের শিয়া সশস্ত্র সংগঠন কাতিব হিজবুল্লাহর একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে মনে করছেন। কাতিব হিজবুল্লাহকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছে।

এই হামলার ফলে উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিক থেকেই আমিরাতের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলো।

হামলার পরপরই ইরাকের শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর এর নিন্দা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, কিছু ‘বেআইনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ উপসাগরীয় দেশে হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরাককে ‘ঝুঁকিপূর্ণ আঞ্চলিক যুদ্ধে’ টেনে নেয়ার চেষ্টা করছে।

ইয়েমেনে যুদ্ধ ও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করলেও মুকতাদা আল-সদর যেকোনো প্রকার সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

এর আগে আরো তিন দফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি, ২৪ জানুয়ারি ও ৩১ জানুয়ারি তিন দফায় আমিরাতের ওপর হামলা চালায় ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বের আরব জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরীক সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আরব বসন্ত পরবর্তী দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির সরকারের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের সাথে সাথে আমিরাতও অংশ নিয়ে আসছে।

অপরদিকে ২০২০ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইরের সাথে স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে আমিরাতের এই পদক্ষেপের নিন্দা করা হচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা