২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয় এমন এক অবিস্মরণীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে, যা সমকালীন বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা। কেউ একে বলছেন ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান’। কেউ বলছেন জুলাই বিপ্লব’। নাম যেটি হোক না কেন, তা একদিন ইতিহাস নির্ধারণ করবে। বস্তুত বিড়ালটি কালো নাকি সাদা সেটি বিবেচ্য নয়; বরং সেটি ইঁদুর ধরতে পারে কি না তাই দেখার বিষয়। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে একটি অসাধারণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, সেটিই বড় ঘটনা।
রাষ্ট্র কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনাকে বিপ্লব বলা হয়। বিশেষত একটি সরকার বা শাসককে উৎখাত করে অন্য আরেকটি শাসনব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করা এবং তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে যে সর্বজনীন আন্দোলন ঘটে সেটিই বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়। অন্য দিকে নিছক একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি সরকার পরিবর্তনকে গণ-আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান বলা হয়ে থাকে।
১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের এবং ১৯৯০ সালে জেনারেল এরশাদের পতন ঘটেছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অনেকে ‘বিপ্লব’ না বলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বলাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত মনে করেন। সেটির প্রকৃতি ছিল ভিন্ন; কারণ সেখানে একটি বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। আবার আমরা বাংলাদেশীরা ওই ঘটনাকে গৌরবময় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বললেও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দিল্লির বিজয় বলে আখ্যায়িত করে থাকে। সেটি যে আমাদের জন্য অবমাননার তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে।
ইতিহাসে আমরা বিভিন্ন বিপ্লবের ঘটনা দেখতে পাই। এর মধ্যে আমেরিকান বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব ও চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লব উল্লেখযোগ্য। ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৪ সালের মধ্য সংঘটিত যুদ্ধে উত্তর আমেরিকার ১৩টি ব্রিটিশ শাসিত রাজ্য থেকে ঔপনিবেশিক শক্তি হটিয়ে আমেরিকা স্বাধীন হয়ে একটি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই সময়ে ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাস করছিলেন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ও থমাস জেফারসন। তারা আমেরিকার বিপ্লবের কাহিনী ও চেতনাকে ফরাসি চিন্তাবিদদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। ফলে ১৭৮৭ থেকে ১৭৯৯ সালের মধ্যে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের চেতনা ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। এ বিপ্লব ফ্রান্সের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃতিকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছিল। রাজতন্ত্রের পরিবর্তে সেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। ১৭৯২ সালে বিপ্লবীরা সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে একটি জাতীয় কনভেনশন আহ্বান করেন। তারা গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ফরাসি বিপ্লবের পাশাপাশি ইউরোপের আরো বেশ কয়েকটি দেশেও গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। ফরাসি বিপ্লব যে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমতার দর্শনের ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়েছিল; তা আজো বিশ্বে জনপ্রিয়তা নিয়ে টিকে আছে।
১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে রুশ কমিউনিস্ট পার্টির বিপ্লব সংঘটিত হয়। সেখানে জারের স্বৈরশাসন উৎখাত করে কমিউনিজমের বিজয় হয়। পশ্চিম ইউরোপে রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র উৎখাত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও রাশিয়ায় ঘটে ভিন্ন কিছু। সেখানে এক দলীয় কঠোর কমিউনিস্ট নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্পদ ব্যক্তি মালিকানা থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চলে যায়। ১৯৪৯ সালে একই ধরনের আরেকটি বিপ্লব ঘটে চীনে। সেখানে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট বিপ্লব হয়। এরপর কিউবা ও পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয়। বিশেষত পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও দর্শন তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। অবশ্য সমাজতন্ত্র তথা কমিউনিজম বিশ্বে মাত্র কয়েক দশক টিকে ছিল। ৭০ বছরের ব্যবধানে তাসের ঘরের মতো উড়ে যায়। চীনের বর্তমানে কমিউনিস্ট শাসনকে সমাজতান্ত্রিক না বলে একদলীয় শাসন বলা শ্রেয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ঘটেছিল আরেকটি বিপ্লব যাকে ‘ইসলামী বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। সে বিপ্লব ৪৫ বছর ধরে টিকে আছে। আফগানিস্তানেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের হটিয়ে ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিও বিপ্লব। সিরিয়াতেও একই কায়দায় আরেকটি সরকার কায়েম হয়েছে।
আধুনিক বিশ্বের কয়েকটি বিপ্লবের উদাহরণ দেয়া হলো। চৌদ্দ শ’ বছর আগে আরবের মরুময় জনপদে একটি মহাবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা:-এর নেতৃত্বে সে বিপ্লব তৎকালীন আরববাসীর জীবনে আমূল পরিবর্তন বয়ে আনে। নবী কারীম সা: একটি রাষ্ট্রকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেছিল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বিপ্লব এতটাই মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, প্রায় দেড় হাজার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তা এখনো সজীব ও সতেজ রয়েছে।
এবারে দেখা যাক চব্বিশে বাংলাদেশে কী ঘটেছে। গণতন্ত্রের খোলস নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সত্তরের দশকে বিপুল জনসমর্থন পেলেও মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর ক্ষমতায় বসে তিনি নিজের আসল চরিত্র উন্মোচন করেন। তিনি অতি দ্রুত চরম স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হন। একইভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনা ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’র অবয়বে জনগণের সামনে হাজির হয়ে ক্রমান্বয়ে প্রথমে স্বৈরশাসক এবং পরে নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট হিসেবে রূপান্তরিত হন। তিনি তার ১৬ বছরের শাসনে রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে শুরু করে নাগরিকদের সব অধিকার খর্বের এমন পর্যায়ে পৌঁছান, তা পরিমাপ করা অসম্ভব। তার পাপের সীমা এতটা ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, দুনিয়ার কোনো আইনে তাকে তার প্রাপ্য প্রকৃত সাজা দেয়া সম্ভব নয়। ফরাসি বিপ্লবের যে মন্ত্র ছিল স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বÑ হাসিনার আমলের বাংলাদেশে তা চরম মাত্রায় ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল।
হাসিনা সরকার ২০১০ সালে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে তার সীমালঙ্ঘনের যাত্রা শুরু করে। এরপর একে একে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি প্রহসনের নির্বাচন করে প্রতারণার মাধ্যম ক্ষমতায় টিকে থাকে। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে সার্বিক নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দেয়। এর মানে হলো প্রতারণা ও জোরজবরদস্তি করে যে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছিল তারও কোনো বৈধতা ছিল না। পার্লামেন্টের বৈধতা না থাকা মানে সরকারও অবৈধ। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো তার ক্ষমতার বৈধতার বিষয়টি নাগরিকরা চ্যালেঞ্জ করতে পারছিলেন না। তিনি ফ্যাসিবাদী কায়দায় তার সব প্রতিপক্ষ দমনে প্রতিবেশী একটি দেশের সহায়তা নেন। শেখ হাসিনা সরকার শুধু নির্বাচন আর পার্লামেন্ট নামক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেনি; রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক সব প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে গেছে।
১৯৭১ সালে যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এত বছর পরও তাকে তারা ‘স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি’ ‘ইসলামী মৌলবাদী’ ‘সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি’ ইত্যাদি অভিধায় বিভক্ত করে রেখেছিল। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাত্রা এতটা ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তছরুপ হয়েছে। বিদেশে পাচার হয়েছে। পুলিশকে নিষ্পেষণের নিষ্ঠুর এক যন্ত্রে পরিণত করা হয়। এমনকি বিচার বিভাগকে পর্যন্ত নির্যাতনের হাতিয়ার বানানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার সমালোচকদের দমিয়ে রাখতে জেল-জুলুম ও খুন করা ছিল তার কাছে ক্রীড়া-কৌতুকের মতো। শেখ হাসিনা ও তার সরকারের অপরাধ ও পাপের মাত্রা পরিমাপ করা সত্যিই একটি দুঃসাধ্য কাজ। বিরোধী দলগুলো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রাণপণ চেষ্টা করেও যখন কুলিয়ে উঠতে পারছিল না, তখন তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদের উৎখাতে আন্দোলনে অবতীর্ণ হন এবং সফলতা পান।
ছাত্র-জনতার মাত্র এক মাসের আন্দোলনে দেশের কথিত প্রধানমন্ত্রী, তার সরকারের পুরো মন্ত্রিসভা, জাতীয় সংসদের সব সদস্য, স্পিকার, আমলা, বিচারক, অফিস প্রধান থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নামক দলের সব নেতাকর্মী এবং তাদের দোসর ও সমর্থক পুলিশ, খতিব ও ধর্মযাজকসহ একযোগে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের পলায়ন পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।
বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদ হটানোর কাজটি যখন ক্রমান্বয়ে জটিল হয়ে উঠছিল, তখন এক ঐশ্বরিক শক্তির সাহায্যে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্টকে অপসারণে সক্ষম হন। আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া বা চীনের বিপ্লবের পর প্রতিপক্ষের লাখ লাখ লোক হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু নবী করিম সা:-এর নেতৃত্বে মক্কা বিজয়ের পরে কোনো রক্তপাত হয়নি। তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের পরে এ দেশে তেমন কোনো রক্তপাত হয়নি। দেশবাসী বিরাট মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। এটি জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা সমুন্নত করেছে। ফরাসি বিপ্লবের মতো আমাদের জুলাই বিপ্লবের চেতনাও ছিল ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত। বাংলাদেশী জাতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা সাম্য, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জাতি এখন অপেক্ষা করছে অপরাধীদের যেন আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করা হয়।
একটি বিপ্লবের দু’টি অংশ থাকে। প্রথম অংশ হলো বিদ্যমান অন্যায্য এস্টাবলিসমেন্টকে ভেঙেচুরে উপড়ে ফেলা এবং দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে নতুন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো বিনির্মাণ করা। ফ্যাসিবাদী সরকার ও তার কাঠামো ভাঙতে অনেক সময় লেগেছে। তেমনি পুরনো কাঠামো ভেঙে বা সংস্কার করে উন্নততর কাঠামো গড়ে তোলার কাজেও অনেক সময় লাগবে। উল্লিখিত বিপ্লবের কোনোটি একদিনে বা স্বল্প দিনে ঘটেনি। বছরের পর বছর লেগেছে সংস্কার বা বিনির্মাণের কাজে। সুতরাং বাংলাদেশে যে অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরো সময়ের প্রয়োজন হবে। কারণ যে অভিপ্রায় নিয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করেছে, রক্ত ও জীবন দিয়েছে, তা নিছক একটি দলীয় সরকার তাড়িয়ে আরেকটি দলীয় সরকার ক্ষমতায় বসাতে নয় নিশ্চয়। শুধু ভোটের অধিকার ফিরে পেতে নয়। নাগরিকদের সব মৌলিক অধিকার আদায় ও সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে যে রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে উঠেছে তার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করাই জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাদের অভিপ্রায় নানা স্লোগান ও দেয়ালের গ্রাফিতির মাধ্যমে যা প্রকাশ করেছে, তা অর্জন করার কাজটিও বেশ কঠিন। এ জন্য বেশ সময় লাগবে। যে দূষিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তরুণদের প্রত্যাশার আলোকে তা বিনির্মাণের কাজটি এখন সর্বাগ্রে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সন্দেহ নেই, যেকোনো বিচারে দেশে একটি বিপ্লব ঘটেছে। বিপ্লবের প্রথম পর্ব তথা দূষিত রাজনৈতিক কাঠামো ভাঙার কাজটি শেষ হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে সংস্কার ও বিনির্মাণের। এ জন্য দরকার ছিল একটি বিপ্লবী সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত বৈপ্লবিক চরিত্র দেখাতে পারেনি। তবে জনগণ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এখনো বিপ্লবের চেতনা দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ জন্য আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রতিবিপ্লব সংঘটনের কিছু দুর্বল প্রচেষ্টা ছাত্ররা রুখে দিয়েছেন। তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বিপ্লবের চেতনা জাগ্রত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পাশে রয়েছে আমাদের দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। জাতির ক্রান্তিকালে তারা যে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে তা জনগণ সশ্রদ্ধ চিত্তে চিরকাল মনে রাখবেন। আর সমাজের যে সচেতন অংশটি তাদের সাথে একাত্ম হয়ে আছে, তারা বিপ্লবের ফলে একটি নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা করা যায়।
স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের শেকড় সমূলে উৎপাটনে একটি বৈপ্লবিক চেতনাসম্পন্ন সরকার প্রয়োজন। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে দেশে-বিদেশে সমর্থন পাচ্ছেন তা তাকে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে বিরাট শক্তি জোগাতে পারে। জনগণের বিপ্লবী চেতনা বাস্তবে রূপদানে তরুণ বিপ্লবীরা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সামনে রেখে আগামী দিনগুলোতে সজাগ থাকবেন বলে আশা করা যায়।
লেখক : গবেষক ও সাবেক সচিব
ayubmiah@gmail.com

