লিটন দাস হয়তো ভেবেই রেখেছিলেন, তিনি টসে জিতবেন। টস হারের পর তার অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল তেমনটাই। তার সেই হতচকিত অভিব্যক্তির রূপটাই ছিল যেন বাংলাদেশের গোটা ইনিংস।
ধসের শুরু একদম প্রথম ওভার থেকেই। ১০ ওভারে ৫৭ রানেই হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। এরপর গুটিয়ে যাওয়া যখন সময়ের অপেক্ষা, তখন শামীম ও জাকের ধরলেন হাল। এনে দিলেন ১৩৯ রানের মান বাঁচানো পুঁজি।
শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবুধাবিতে শুরুটাই হয় বিদঘুটে। দুই ওভার শেষে কোনো রান যোগ না করতেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। ফেরেন দুই ওপেনারই। খেলা শুরুর আগেই যেন ব্যাকফুটে চলে গেল টাইগাররা।
প্রথম ওভারে নুয়ান থুসারার ওভারে কোনো রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ, উল্টো শেষ বলে উইকেট দিয়ে ফিরেছেন তানজিদ তামিম। সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগে পরবর্তী ওভারেই ফেরেন পারভেজ ইমন।
তিনিও খুলতে পারেননি রানের খাতা। দ্বিতীয় ওভারে চামিরার ৪ বল খেলে ফেরেন কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে। এই ওভারেও আসেনি রান। দুই ওভার শেষে স্কোর ০/২!
২.২ ওভারে এসে অবশেষে রানের খাতা খুলে বাংলাদেশ। রান নিয়ে খাতা খুলেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। উইকেটে তার সাথে ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তবে তিনিও টিকতে পারেননি।
দলের বিপদ বাড়িয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন ৪.৩ ওভারে দলীয় ১১ রানে। হৃদয়ের ইনিংস শেষ হয় ৯ বলে ৮ রানে। এদিকে এমন বাজে শুরুর পর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এমতাবস্থায় ৬ষ্ঠ ওভারে তিনটা চার হাঁকিয়ে কিছুটা চাপমুক্ত করেন লিটন দাস। তবে স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি; ৭.২ ওভারে ফেরেন শেখ মেহেদীও (৯)। চারে প্রমোশন পেয়েও আস্থা রাখতে পারেননি।
৭.২ ওভারে মেহেদীকে হারানোর পর পরই ফিরতে পারতেন লিটন। তবে এলবিডব্লুর আবেদন হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তবে পাওয়া জীবনটা বেশিদূর টানতে পারেননি।
৯.৫ ওভারে হাসারাঙ্গার শিকার লিটন দাস। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৬ বলে ২৮ করে। তাতে ৫৭ রানে ৫ম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। এরপরেই হাল ধরেন শামীম-জাকের।
শামীম-জাকেরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মান বাঁচানো একটা পুঁজির দিকে ছুটতে থাকে দল। ১৬ ওভারে পৌঁছায় তিন অঙ্কের ঘরে। তবে এরপর প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি তারাও।
শেষ চার ওভারে ৩৯ রান আসলেও, দুজনে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন তা দৃষ্টিকটু। আরেকটু ব্যাট চালানো যেতো কিনা, সেই প্রশ্ন করাই যায়। শামীম ৩৪ বলে ৪২* ও জাকের সমান বলে করেন ৪১* রান।
তাদের জুটিতে আসে ৫১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৩ রান। বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে পৌঁছায় ১৩৯ রানে। হাসারাঙ্গা ২৫ রানে নেন ২ উইকেট।








