ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে ভারত সীমান্তঘেঁষা সিলোনিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক ও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শাহাদাত মজুমদারের বিরুদ্ধে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তৈরি বেড়িবাঁধ, তৈরি হয়েছে নদীভাঙনের শঙ্কা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে সিলোনিয়া নদীর পেঁছিবাড়িয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও জামে মসজিদের সামনে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রথম এক সপ্তাহ আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে বালু তোলা হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে জামে মসজিদ এলাকা থেকে তা উত্তোলন করা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর তীরে পাইপলাইন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেখা গেলেও ড্রেজার মেশিন পাওয়া যায়নি। পেঁছিবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে বড় বালুর স্তূপ দেখা যায়। সেখান থেকে চারটি পিকআপে বালু সরবরাহ করা হচ্ছিল। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক পিকআপে বালু ভর্তি করছিলেন। সেখানে যুবদল নেতা শাহাদাত মজুমদার ও বিএনপি নেতা ফারুককে বসে থাকতে দেখা যায়।

প্রতিবেদক ছবি তুলতে গেলে এক শ্রমিক নিষেধ করেন। পরে নদীর তীরে গেলে প্রতিবেদককে দেখে দূর থেকে একজন জিজ্ঞাসা করেন। এর তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তিনটি পিকআপ ও কয়েকজন শ্রমিককে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ফারুক ও শাহাদাত মজুমদার ছাড়াও আরো কয়েকজন বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। এ কাজে বন্দুয়ার হারুন পাটোয়ারীর নামও উঠে এসেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নদীর ওপারে ভারত এবং এপারে বাংলাদেশ। সীমান্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সাথে কথা বলতে চাইলে তারা ভয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে খবর পেয়ে গতকাল উপজেলা প্রশাসন থেকে দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক বলেন, ‘মূলত জিওব্যাগের জন্য ওখান থেকে বালু তোলা হয়েছে।’ তার দাবি, গত তিন দিন ধরে বালু তোলা হয়েছে এবং আশপাশে গাড়ি আসার জায়গা না থাকায় ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, ‘এটা মূলত একটা সরকারি কাজের জন্য।’ তার দাবি, বালু বিক্রি করা হচ্ছে না এবং প্রশাসনকে প্রতি ফুট বালুর জন্য ৫০ পয়সা করে দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সিলোনিয়া নদীতে জরুরি সরকারি কাজের জন্য বালু নেয়া হচ্ছে। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে বা সরকারি কাজে এসব বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা বলেন, ‘আমি গতকাল লোক পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে তখন ড্রেজার মেশিন পাইনি। এরপরও আমরা আবার যাবো এবং অভিযান পরিচালনা করবো।’

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে। বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।