কারখানার ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ, খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের যথাযথ সংরক্ষণ ও লেবেলিং না করা এবং তেলাপোকা-মাছির উপস্থিতির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে হক ফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই, গাজীপুরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
অভিযানে দেখা যায়, কারখানার অভ্যন্তরে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সংযোজন দ্রব্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব দ্রব্যের লেবেলিংয়েও ত্রুটি পাওয়া যায়।
কারখানার বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকা ও মাছির উপস্থিতি দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। ফলে ওই পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের সেলফ লাইফ স্টাডি ও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখাতে পারেনি। খাদ্য সংযোজন দ্রব্য নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহারের যথাযথ প্রমাণ বা রেকর্ডও তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।
এছাড়া খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়ের চালান, রসিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাসুদুর রহমান রুবেলের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া, বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক আফসানা ইসলাম কেয়াসহ আনসার ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় পাওয়া অনিয়মগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের পরিপন্থী।
পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ও ৩৮ ধারায় হক ফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার টাকা আদায়ও করা হয়েছে।
একইসাথে ভবিষ্যতে এসব অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।














