জীবনের চাকা কখন কোথায় থেমে যায়—তা কেউ জানে না। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পাটগুদাম রেলি মোড় এলাকার মো: সাগরের জীবনও তেমনি হঠাৎ করেই থমকে গেছে এক দুর্ঘটনায়। তিন মাস আগেও তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। একটি ব্যাটারির দোকানে কাজ করে মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার চালাতেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে বস্তি সংলগ্ন রেললাইনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসকদের কঠিন সিদ্ধান্ত—প্রাণ বাঁচাতে কেটে ফেলতে হয় তার দু’টি পা।

এরপর থেকেই যেন অন্ধকার নেমে আসে সাগরের পরিবারে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন তিনি। সংসারের ব্যয়, চিকিৎসা সবকিছু মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে পুরো পরিবার।

সাগরের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় সাগরের বাসায় যান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান। তিনি সাগরের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপ‌স্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ‌জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন।

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাগরকে একটি হুইলচেয়ার দেয়া হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সাগরের পরিবারে। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এমন সহমর্মিতার জন্য।

স্থানীয় বাসিন্দারাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন মানবিক সহায়তা শুধু একজন মানুষের জীবনেই নয় সমাজেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

দুর্ঘটনায় সবকিছু হারিয়েও সাগরের জীবনে আবার নতুন করে বাঁচার আশা জেগেছে। সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে এমন মানুষদের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনতে—সাগরের ঘটনাই তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।