টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার উখিয়া ও টেকনাফের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে আনুমানিক লক্ষাধিক মানুষ। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উখিয়া উপজেলার ১০ গ্রাম এবং টেকনাফ উপজেলার ৪০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির তথ্য মিলেছে।
টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য মতে, টেকনাফে ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কম হলেও ৮০ হাজার মানুষ বন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে আটটি গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নে সাতটি গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার পাঁচটি গ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নে সাতটি গ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নে আটটি গ্রাম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, ‘ভারী বর্ষণের ফলে কিছু গ্রামে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হচ্ছে।’
অপরদিকে উখিয়ায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১০টি গ্রামে জলাবদ্ধতাসহ সবজি ক্ষেত, বীজ তলা ও পানের বরজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনসহ এলাকায় দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নামের তালিকা তৈরি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালংয়ের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিনটি ক্যাম্পে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে বেশকিছু রোহিঙ্গা পরিবার।
অব্যাহত বর্ষণে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলী প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকদের সতর্কতার সাথে গোসল করতে বলছে লাইফ গার্ড কর্মীরা। এছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফের সাথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মধ্যে নৌযোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।








