রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব (শাবি প্রেসক্লাব)। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সল ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (৪ অক্টোবর) রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।
অস্ত্রধারীদের ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবানকেও মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামও হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করা হয়।
ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। আহত সাংবাদিকেরা হলেন দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম।
শাবি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এবং স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ সদস্য ছাত্রদলের হামলার শিকার হন। ওই ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি উৎসাহিত হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। এ ধরনের ঘটনায় কাউকে প্রশ্রয় না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে রাবির সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।






