রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে দীর্ঘ ৩৯ দিনের দুর্গম পথ অতিক্রম করে নেপালের এভারেস্ট কালা পাথরে পৌঁছেছেন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তনচংগ্যা। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে পাঁচ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট কালা পাথরে পৌঁছান তিনি। বীর কুমারের দাবি- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট কালা পাথরে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশী এবং প্রথম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/আদিবাসী সাইক্লিস্ট তিনি।
‘সি টু হিমালয়াস-এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক এই পরিবেশ সচেতনতামূলক অভিযানের সূচনা হয়েছিল কক্সবাজারের কবিতা চত্বর সমুদ্রসৈকত থেকে। গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রাহক কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন বীর কুমার। এরপর দুই চাকায় চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন তিনি। সেখান থেকে শিলিগুড়ি ও নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করেন হিমালয়ের অত্যন্ত দুর্গম ট্রেইলে। এভারেস্ট কালা পাথরে ওঠার আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে হিমালয়ের আরো তিনটি অতিদুর্গম চূড়া ও পাস অতিক্রম করেন বীর কুমার।
১৮ সেপ্টেম্বর : ৫,০৮৩ মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট (বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট)।
১৯ সেপ্টেম্বর : ৫,৫৫০ মিটার উচ্চতার ছুকুং রি পিক সামিট (বিকেল ৪টা ৫১ মিনিট)।
২১ সেপ্টেম্বর : ৫,৫৩৫ মিটার উচ্চতার কঠিন ‘কংমা লা পাস’ অতিক্রম  (বেলা ১টা ৫৩ মিনিট)।
২২ সেপ্টেম্বর (৩৮তম দিন) : এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে অবস্থান।
২৩ সেপ্টেম্বর (৩৯তম দিন) : সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চূড়ান্ত লক্ষ্য ৫,৫৫০ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট কালা পাথরে পৌঁছান।
অভিযানের উদ্দেশ্য ও প্রতিক্রিয়া
৩৯ দিনের এই দুরূহ অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল রেকর্ড বা পথ জয় নয়; রক্তদান, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তুলে ধরা। কালা পাথর চূড়া থেকে বীর কুমার তনচংগ্যা বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে পথ যতই কঠিন হোক, থেমে যাওয়া যায় না। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, তীব্র শারীরিক-মানসিক চাপ ও পাহাড়ি খাড়া পথ সামলে এগোতে হয়েছে। দেশবাসীর ভালোবাসাই আমাকে এই সাহস জুগিয়েছে।’
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগগা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার তনচংগ্যা দীর্ঘ দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথে যুক্ত। তিনি ‘কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক’ ও ‘ওয়াগগা ভলান্টিয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা। এর আগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ, টেকনাফ-তেঁতুলিয়া ক্রস-কান্ট্রি রাইড সম্পন্ন করা ছাড়াও ভারতের ১০টি রাজ্যে প্রায় ৭১ দিনে ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।