বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার মধ্য দিয়ে টানা চার বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে ফুরফুরে মেজাজে ছিল আওয়ামী লীগ। যদিও ওই নির্বাচন ছিল মাঠের প্রধানবিরোধী দল বিএনপি জোটবিহীন নির্বাচন। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় স্বতন্ত্র ও জোটের লোকজনের মাধ্যমে ডামি (নকল) প্রার্থী বানিয়ে সাজানো একটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠান করায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়।
এর আগেও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন ছিল। আন্তর্জাতিক মহলের চাওয়া ছিল- এ দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের। বারবার তারা এ বিষয়ে তাগাদা দিলেও ওই মতগুলো উপেক্ষা করেই ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনের জন্ম দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর বছরের মধ্যসময়ে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী দলগুলো রাজপথে চড়াও হয়। তখন রাজপথ অগ্নিগর্ভ হয়ে কোটাসংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনে। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নজিরবিহীন পতন ঘটে এবং অবসান ঘটে দেশের জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা নতুন আরেক স্বৈরশাসকের। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব মন্ত্রী-এমপিও আত্মগোপনে চলে যান। এদের মধ্যে কেউ কেউ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান, আবার কেউ কেউ বিমানযোগে বিদেশে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ এবং তার সরকারের টপ টু বটম এভাবে পলায়ন শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও এটা নজিরবিহীন হিসেবে ধারণা করা হয়।
ওই ঘটনার পর থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেনি, আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা প্রকাশ্যে কোনো সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেননি, এমনকি কোনো নেতা সংবাদ সম্মেলন করেও রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ-বিদেশে অবস্থান করা সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলা কয়েকটি অডিও প্রকাশ হয়েছে, যা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
অবশ্য ৫ আগস্টের পর দলীয় ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং ওই পেজের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড জোরালোভাবে তুলে ধরছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন সময় দলের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য-বিবৃতি ও কর্মসূচি তুলে ধরছেন।