নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও কবিরহাট উপজেলা (আংশিক) নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ) আসন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে লড়াই হবে ২০ দল ও মহাজোটের প্রার্থীর মধ্যে। ২০ দলের লক্ষ্য হারানো আসন পুনরুদ্ধার আর মহাজোট চায় আসনটি ধরে রাখতে। বিএনপি তাদের আগের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০ দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
অন্য দিকে মহাজোট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। নির্বাচনে এই দুই ভিআইপি প্রার্থীর মনোনয়ন নিজ নিজ দলের ব্যতিক্রমী কোনো সিদ্ধান্ত না হলে বিএনপিতে মওদুদ আহমদ এবং আওয়ামী লীগে ওবায়দুল কাদেরের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে এলাকাবাসী মনে করেন। জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মোবারক হোসেন আজাদ এখানে মনোনয়ন প্রার্থী।
এ আসনে জামায়াতের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জামায়াতের ভোট পাবেন ২০ দলীয় প্রার্থী। বিএনপি নেতারা জানান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঈদুল ফিতরের দিন নিজ বাড়ির মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বিকেলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকা কবিরহাটে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তার আগে পবিত্র রমজানে ইফতার মাহফিলেও তাকে যেতে দেয়া হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হক এ প্রতিবেদককে জানান, নিরাপত্তার কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। তার আগে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বসুরহাট পৌর হলে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মওদুদ আহমদের। পুলিশ প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলেও সমাবেশের আগের দিন অনুমতি বাতিল করে। পরে ব্যারিস্টার মওদুদ অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি।
একইভাবে সুন্দলপুর ও নরোত্তপুরে সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানেও ব্যারিস্টার মওদুদ প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান হয়নি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ: হাই সেলিম বলেন, প্রশাসন তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পালনে বাধা দিচ্ছে এবং হামলা মামলা গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। তবুও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বিজয়ী করতে হবে, এ চিন্তাচেতনা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপর দিকে আওয়ামী লীগও থেমে নেই। তারাও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী ছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আওয়ামী লীগ এ আসনে ওবায়দুল কাদেরকে বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানান, দলের কেন্দ্র থেকে যাকে সমর্থন করতে বলা হবে তাকেই ভোট দেবে নেতাকর্মীরা।



