গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরবে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি ফাঁস করার জন্য দুর্নীতি করার চেয়ে বেশি শাস্তি পেতে হবে।

আজ রোববার হাতিরপুলস্থ গণসংহতি আন্দোলনের দলীয় কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখ্তার, সম্পাদকম-লীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দিন পাপ্পু এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপক রায় প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্য পাঠের পর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে জোনায়েদ সাকি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার সকল সুযোগ এই আইন রুদ্ধ করবে। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম ও গণবিরোধী কিছু ঘটলে জনগণের সামনে তা উন্মোচন করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি একদিকে সরকার আইন করছে ফৌজদারি আইনেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তল্লাশির পরওয়ানা ছাড়াই যে কাউকে গ্রেফতার ও তল্লাশী করার অধিকার পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। যে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদ- দেয়া হয়েছে, সেই আইন আরো ভয়াবহ পরিমাণে বেশি শাস্তির বিধানসহ চালু করা হচ্ছে বাংলাদেশে। জামিন পাবার মৌলিক মানবাধিকারকেও ক্ষুণœ করা হয়েছে। এই আইন আগে থেকে কার্যকর থাকলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতি, ক্রেস্টের সোনার জালিয়াতি কিংবা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সচিব পদে পদোন্নতির মতো সংবাদগুলো প্রকাশ করা সম্ভব হতো না বলে গণমাধ্যমের সম্পাদকরা জানিয়েছেন। সর্বোপরি, গণমাধ্যমের সাথে বৈঠকে আইনের যে সংশোধনীগুলোর প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার কোনটিই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই আইনের পূর্বসূরী ৫৭ ধারায় এখনো গ্রেফতার আছেন শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম, ৫৪ দিন ধরে আটক আছেন ছাত্র ফেডারেশন নেতা মারুফ হোসেন। হয়রানির শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, আগামী ৩ অক্টোবর বুধবার এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ৬ অক্টোবর শনিবার এই বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে মনি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টের মুনীর-আজাদ মিলনায়তনে।