বাংলাদেশে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্থ করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ। বিশ্ব সংস্থাটির মতে, এ আইন ব্যক্তি স্বাধীনতা ও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। এটি সাংবাদিক, ব্লগার ও ইতিহাসবিদদের কাজের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের যৌক্তিক চর্চাকে শাস্তির আওতায় আনবে।
মঙ্গলবার জেনেভা থেকে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাাসানি এক বিবৃতিতে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এমন বায়বীয় বিধান রয়েছে যার আওতায় অনলাইনে মত প্রকাশের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটলে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে বা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ঠ হলে কোনো ব্যক্তির সাত বছর কারাদন্ড বা জরিমানা হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় সঙ্গিত বা জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননাকর কোনো প্রপাগান্ডা বা প্রচারনা চালালে ১০ বছরের কারাদন্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টকে এই আইনে সন্নিবিশিত করা হয়েছে, যার আওতায় প্রথমবার অপরাধ করলে ১৪ বছরের কারাদন্ড ও পুনরাবৃত্তি ঘটলে যাবৎজীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুলিশকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের ব্যাপকভিত্তিক ক্ষমতা দিয়েছে। এই আইনের অধীনে অনেক অপরাধই অজামিনযোগ্য। এটি আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশে উৎকন্ঠার সৃষ্টি করেছে। এই আইন সরকারকে ডিজিটাল তথ্যের ওপর অবারিত ক্ষমতা দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের আওতায় বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউতে বাংলাদেশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সুপারিশগুলোর সাথে একমত পোষণ করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সাথে জাতীয় আইনে সামঞ্জস্য রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমস্যাযুক্ত বিধানগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জরুরিভিত্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যথেচ্ছ গ্রেফতার, আটক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিধানগুলোতে ভারসাম্য আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এ জন্য মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনার কার্যালয় বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
আরো পড়ুন : ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্টদূতের সাথে বিএনপির বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৯
গতকাল বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাজনৈতিক ও নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এ দিকে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে ‘ডিপ্লোম্যাট বাংলাদেশ’ ম্যাগাজিনের উদ্বোধন শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর রেংজে তেরিংক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। যার মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে ওঠবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রতিনিধি বলেন, আমি বাংলাদেশের বিষয়ে আগ্রহী। এখানে আসতে পেরে খুব খুশি হয়েছি। আশা করছি, বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সম্পর্ক তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের যে অবদান তা বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সমতার কথাও তুলে ধরেন।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও ডিপ্লোম্যাট বাংলাদেশ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপনের সভাপতিত্বে এ সময় বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






