বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সিলেটের জনসভায় জিয়াউর রহমানের নাম কেউ বলেননি। মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলার নামও কেউ উচ্চারণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের মহাধিনায়ক ওসমানীর নামও কেউ উচ্চারণ করলেন না।
বিএনপির সাথে ঐক্য না হওয়ার কারণ জানিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, আমি বিএনপিকে বলেছিলাম আপনারা ১৭৫টি আসন নিন, বাকি সব দলের জন্য ১২৫টি আসন। আমি তো বলিনি বিকল্প ধারাকে ১২৫ আসন দিতে হবে। এই ভারসাম্য যারা অস্বীকার করে, তাদের সাথে কিসের ঐক্য?
তিনি আরো বলেন, আমরা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে নেই। এ কারণে জোট ছেড়ে অনেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে তিনি বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পক্ষে লড়াই করব। তার রাজনীতির উত্তরাধিকার আমাদের হাতে। শুক্রবার বাড্ডায় বিকল্প যুব ধারার বিশেষ কাউন্সিলে তিনি এ কথা বলেন।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, আলোচনা ছাড়া পৃথিবীর কোথাও কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আপনার কাছে দাবি করছি, আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, এটাই সবচেয়ে বড়। আপনি উদারচিত্তে এগিয়ে আসুন। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সব দলের সাথে আলোচনা শুরু করুন, গণগ্রেফতার বন্ধ করুন। তিনি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা করে তা এখনই বাতিল করার আহ্বান জানান।
বি. চৌধুরী সিলেটে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের ব্যাপারে বলেন, সেখানে বিএনপির নেতারা জিয়াউর রহমানের নাম বলেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা যিনি দিলেন তার নামটি কেউ বলতে সাহস পাননি। কী মনে হয়? তারা কি আত্মসমর্পণ করেছেন, কার কাছে? এবং কেন? এ দু’টি প্রশ্ন জনগণের মনে থেকে যাবে। তিনি বলেন, ‘সিলেটের জনসভায় ৯৮ ভাগ মানুষ ছিল বিএনপির। বাকি দুই ভাগ অন্য দলের।
বিকল্প ধারায় যোগ দিলেন শমসের মবিন
এদিকে বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি গোলাম সারোয়ার এবং সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ।
শুক্রবার বিকেলে বি. চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে বিকল্প ধারায় যোগ দেন তারা। এর আগে বিকল্প ধারার অঙ্গসংগঠন বিকল্প যুবধারার বিশেষ কাউন্সিলে যোগ দেন তারা। পরে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মঞ্চে নিয়ে আসেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা এবং গতকালই ২০ দল ছেড়ে আসা লেবার পার্টির একাংশের মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদী।
মধ্যবাড্ডা লিংক রোডে আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে হামদুল্লাহ মেহেদীর বিএনপি জোট ছেড়ে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে মাহী বি. চৌধুরী কাউন্সিলে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ২০ দলীয় জোট ছেড়ে এসেছেন লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদী। তিনি বলেন, আসুন বাংলাদেশকে দুঃশাসনের হাত থেকে রা করি। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে নানন্দিক ধারার রাজনীতি শুরু করি।
হামদুল্লাহ মেহেদীর সাথে লেবার পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই
এ দিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাভোকেট ফারুক রহমান, মো: মোসলেম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, মো: আলাউদ্দিন আলী, মাহবুবুর রহমান খালেদ, জহুরুল হক জহির, মো: আমিনুল ইসলাম, এস এম ইউসুফ আলী ও তানভির হোসাইন গতকাল একযুক্ত বিবৃতিতে বলেন, হামদুল্লাহ মেহেদীর সাথে বাংলাদেশ লেবার পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর মাল্টিপারপাসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ ও লেবার পার্টির গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক হামদুল্লাহ মেহেদীসহ কয়েকজনকে লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি হামদুল্লাহ মেহেদীকে মোহাম্মদপুর থানার মামলা নং-৮৩/২০১৬ মোতাবেক প্রায় ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশ। এতে দুই দিনের রিমান্ড ও ২২ দিন কারাভোগ করেন। তার বিরুদ্ধে লেবার পার্টির নেতাকর্মী ছাড়াও অসংখ্য মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি কুচক্রীমহলের ইন্ধনে মেহেদী ২০ দলীয় জোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীনমানসে লেবার পার্টির সুনাম বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করছে।






