কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার রাজনৈতিক অবস্থান জানাবেন আজ শনিবার। দলের যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শনিবার এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। অপরদিকে বঙ্গবীর কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি এ আলোচনা সভাতেই তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবেন। আজকের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ।
গত ৩১ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কি হবে তা তিনি জানাতে সকলকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এছাড়া ঐদিনই রাতে মোহাম্মদপুরস্থ তার বাসায় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের জন্য এক নৈশভোজের আয়োজন করে। সেখানেও কাদের সিদ্দিকী মুখ খুলেননি। বলেছেন আজকের দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে। আজকের এদিনে সে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সংবিধান প্রণেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন আজকের আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানাবেনও বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি তিনি জানান কেন কেন ঐক্যফ্রন্ট বা যুক্তফ্রন্টে যোগ দেননি। তিনি বলেন, জাতীর সার্বিক ঐক্যে বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন না থাকায় তিনি (ঐক্যফ্রন্ট বা যুক্তফ্রন্টে) কোন অংশে যোগ দেননি বা নেই বলে জানান ওই সংবাদ সম্মেলনে। আর তিনি এখনো সার্বিক ঐক্যই চান।
তবে আজ কি বলবেন তিনি? সে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। এদিকে গত শুক্রবার একটি অনলাইন পোর্টালে খোলামেলা কিছু কথা বললেও তাতে বলেননি আজ কি করতে যাচ্ছেন? কোন দিকে যাচ্ছেন তিনি। কেনই বা তিনি আজকের দিনকে বেছে নিলেন তার রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে? ধারণা করা হচ্ছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় ঐকফ্রন্টের সংলাপটি পর্যক্ষেণের অপেক্ষা ছিলেন। এছাড়া গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিকল্পধারার সংলাপটিও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা জানান বঙ্গবীর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকার ব্যাপারেই ইতিবাচক মত দেবেন। তিনি জানান ড. কামাল হোসেনের সাথে থেকেই তিনি সার্বিক ঐক্যকে এগিয়ে নেয়াকে সুবিধাজনক বলে মনে করেন। কিন্তু কেন তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আসবেন তা নিয়েও অনেক জল্পনা কল্পনা আছে। সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ৭৫-এর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিলনমেলার আয়োজন করেছিলেন।
স্মৃতিচারণমূলক ওই অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ালীগের অন্তত কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি আশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি বলে তিনি মুনঃক্ষুন্নও হয়েছিলেন। আর সব মিলিয়ে তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকেই ঝুঁকবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।



