গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার বলেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন করা সহজ, কারণ আমি বলেছি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে তা ফৌজদারি মামলা। বিষয়টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনীতির কারণে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই উদ্দেশ্য।’
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সুবিচারের দাবি জানিয়ে এই বীরমুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, আমি মামলা প্রত্যাহার চাই না। তার প্রতি সুবিচার করা হোক। সুবিচার করতে হলে তার প্রথম শর্ত হচ্ছে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম কদম। আমি সংলাপেও বলেছি, তাকে জামিনে মুক্তি দেন। জামিন দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, থাকুক।’
তিনি বলেন, ‘যেই দুটো সাংবিধানিক সমস্যার কথা বলা হচ্ছে - আমি বলেছি এটার জন্য হয়তো একটা মিটিংয়ে হবে না। শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুলের মতো যারা আইনজ্ঞ, তাদেরসহ সরকার থেকে দুইজন আইনজ্ঞকে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলে এসবের সুরাহা হতে পারে। দেখতে হবে আটকানোর উদ্দেশ্য কী? আমি কি ইঁদুর বিড়ালের খেলা খেলবো নাকি জাতির মঙ্গলের কথা ভাববো।’
ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখেছি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলে ১/১১ এর পুনাবত্তি হবে। আমি প্রশ্ন করি, র্যাবকে ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া আছে, তারা কি দেশ দখল করে বসে আছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অভিযানে যায় তখন ম্যাজিস্ট্রেট থাকে সঙ্গে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস জন্মাবে।’
আরো পড়ুন : দেশবাসীর কপাল খুলে গেছে : ডা. জাফরুল্লাহ
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:০৭
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমরা চা খাওয়ানোর দাবি করেছিলাম, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ডিনার করাবেন। আমাদের কপাল খুলে গেছে। দেশবাসীর কপালও খুলে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নাগরিক ঐক্যে যোগদান উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর তোপখানা সড়কের বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে এর আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
আরো দেখুন : সংলাপ ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক চলছে
নয়া দিগন্ত অনলাইন; ৩০ অক্টোবর ২০১৮
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এই বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেল চারটায় বৈঠকটি শুরু হয়েছে। বৈঠকে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কারা অংশ নেবেন সে ব্যাপারে সিন্ধান্ত ও সংলাপ ইস্যুতে কর্মপন্থা ঠিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপে যোগ দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের ১৫ জন প্রতিনিধি থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
তবে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন প্রতিনিধি দলের সংখ্যার কথা উল্লেখ করতে চাননি। তিনি বলেন, আমরা সংলাপের বিষয় নিয়েই আজ বৈঠকে বসছি। সংলাপ অর্থবহ করা যায় কীভাবে, তাই নিয়েই প্রাথমিক আলোচনা হবে। প্রতিনিধি দলের তালিকাও ঠিক হবে। তবে তালিকা যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জনের একটি তালিকা তৈরি হতে পারে আজকের বৈঠকে। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। ২০ দলের পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত আছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মো মুনসুর, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ৭ দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব আসে ড. কামালের বাসায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে লেখা চিঠিতে বলা হয়, অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সব বিষয় আলোচনার জন্য আমার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। তাই আলোচনার জন্য আপনি যে সময় চেয়েছেন, সে পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় আপনাদের আমি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।






