নাগরিক হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যুক্ত হয়েছি বলেই সাভারের গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে হামলা করা হয়েছে। আমাকে শাস্তি দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে রীতিমতো সন্ত্রাস সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটিকে জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে। এমনটাই বলেছেন ডা. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হাসপাতাল গড়ে তুলে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাদানকারী ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে র্যাবের অভিযান পুরোপুরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, উপরের নির্দেশ ছাড়া তারা এসব করতে পারে না। এখানে আমি ব্যক্তি জাফরুল্লাহ গুরুত্বপুর্ণ কিছু নয়। এ সময় তিনি সেখান থেকে র্যাব প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা ১৯৭২ সাল থেকে গণস্বাস্থ্যের বিভিন্ন মানবহিতৈষী কার্যকলাপ ও বিভিন্ন সময়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গণস্বাস্থ্যে হামলা করে কর্মীদের হত্যা করে ও গণস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি সাধন করে এর একটি বর্ণনা দেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে, এগুলো ধ্বংস করার জন্য রাখা হয়েছিল। ওষুধগুলো ইচ্ছামতো ধ্বংস করা যায় না, এর জন্য একটি বোর্ড আছে। বোর্ড সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিয়ম অনুসারে ধ্বংস করা হয়। তিনি জানান, গণস্বাস্থ্য ফার্মায় র্যাব কিছু রি-এজেন্টও পেয়েছে। তিনি জানান, রি-এজেন্ট ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয় না, ওষুধের মান যাচাই করার জন্য ব্যবহার হয়। সেই রি-এজেন্টকে মেয়াদউত্তীর্ণ বলে গণস্বাস্থ্যকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া কিছু জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের মোড়ক দেখতে একটু অস্পষ্ট বলে এগুলোকে মেয়াদউত্তীণের তালিকায় ফেলে র্যাব; কিন্তু এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল না।
আন্দোলন সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আন্দোলন সফলের জন্য ‘রোল প্লে’ করতে হয়। যে কোনো পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিতে হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের জন্য।
আরো পড়ুন: সুবিচার হলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: ডা. জাফরুল্লাহ
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার কারো দয়ার প্রয়োজন নেই। উনার প্রতি সুবিচার যেন করা হয়। সুবিচার হলেই উনার মুক্তি সম্ভব; কিন্তু সুবিচার হচ্ছে না। এ দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন না।
তিনি বলেন, জামিন পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। খুনের মামলার আসামী জামিন পায় তা হলে খালেদা জিয়া কেন জমিন পাবেন না? আমি গত কয়েক দিনে দেখেছি কোটের বারান্দায় হাজার হাজার মানুষের আহাজারী। কোটের বারান্দায় শুয়ে আছে, কোথায় ভেড়ামারা, খুলনা, কুষ্টিয়া, ইশ্বরদী, চট্টগ্রাম থেকে এসে জামিনের জন্য। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ সব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি (চলতি দায়িত্ব) আবেদ রাজার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজার সঞ্চালনায় এতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার বড় অপরাধ তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার মামলা। অথচ সেই দুই কোটি টাকা বেড়ে ছয় কোটি হয়েছে এবং ব্যাংকে গচ্ছিত আছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা তামা হয়ে যাচ্ছে। তার পরও দুদক মামলা করে না।
সভাপতির বক্তব্যে আবেদ রাজা বলেন, একটি দলের প্রধানকে জেলে রেখে পৃথিবীর কোনো দেশে সংলাপ হয়নি। আমরা প্রহসনের কোন কিছু চাই না। আমরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোন সংলাপ সফল হবে না।
মনির হোসেন বলেন, এদেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের মানুষ ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সামনে নির্বাচন- এই নির্বাচন সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে এবং মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন আজ রাজপথে নেমেছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে দেশে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।
সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, আপনারা রাজপথে নেমে আসুন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সময়ের ব্যাপার। দেশের ৬৮ হাজার গ্রামের মানুষ রাজপথে নেমে আসলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সংগঠনের প্রসিডিয়াম সদস্য মনির হোসেন, আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী, ড. গোলাম রহমান ভূইয়া, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশরাফী, আশরাফুজ্জামান, ওয়াছেল উদ্দিন বাবু, কামাল হোসেন, পিকে সরকার, আবদুস সাত্তার, আবু হানিফা, শামসুল ইসলাম মুকুল, ফজলুল হক আকন্দ, আমান ফেরদৌস, মো: শাহ আলম সোহাগ, এআর খান পাঠান, মুকতার হোসেন, আবুল কাশেম রাজু, আবুল খায়ের খান, ব্যারিস্টার মামুন, নাজমুল হাসান, একেএম ফজলুল হক, মো: আবদুস সামাদ, হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, আহসানউল্লাহ, মিনারা বেগম মিনি, আমিনুল ইসলাম মনি, ওয়ালিউল ইসলাম শুভ, সাইদ হাসান বক্তিয়ার, এইচএ মাহমুদ সুমন, মো: হানিফ, মো: মনির হোসেন, ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।



