নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদ থেকে ছিটকে পড়লেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তার জায়গায় মহাসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে। তাকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যের অতিরিক্ত এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে ২০১৬ সালে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলুর পরিবর্তে অনেক নাটকীয়তার মাধ্যমে রুহুল আমিন হাওলাদার দ্বিতীয় বারের মতো মহাসচিবের দায়িত্ব পান।
এদিকে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েই বনানীর পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দলের মধ্যে কেউ মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে। এ অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, মূলত মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণের মহাসচিবের পদ থেকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সড়িয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দরকষাকষির সময় জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে খোদ দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেই। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কয়েকজন প্রকাশ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনেন এবং তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, মূলত অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি এবং মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা কারণে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম মনোনয়ন বাণিজ্য। এ ছাড়া মহাজোটের সঙ্গে আসন বণ্টনে দর কষাকষিও রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও বেশ পুরনো। তবে এবারই প্রথম মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেন। তারা এজন্য বনানীর কার্যালয়ে হাওলাদারকে অবরুদ্ধও করে রাখেন। কার্যালয় ভাঙ্গচুর করেন। সেখানে হাওলারপন্থীদের সঙ্গে বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। জাতীয় পার্টির বহু পোড় খাওয়া নেতা মনোনয়ন না পেলেও নিজের ও স্ত্রীর জন্য মহাজোট থেকে দুই আসন বাগিয়ে নেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
অভিযোগ আছে, রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে দলের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ উঠে। টাকার বিনিময়ে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত বিত্তশালীদের দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মহাসচিবের উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। শুধু তাই নয়, দলের মহাসচিব হিসেবে মহাজেটের আসন বন্টনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত না করে তিনি তার স্ত্রী নাসরিন হাওলাদার ও তার সিন্ডিকেটের মনোনয়ন নিশ্চিত করার তদবির করেন। বিষয়টি জানাজানির পর টেলিফোনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাওলাদারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেন নেতাকর্মীরা। এমনকি, বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলও হয়। এতে পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বলে দলের নেতাকর্মীরা জনান।






