একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে আজ রোববার। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৬ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, চট্টগ্রামের বাশখালী, দিনাজপুর, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, রাঙামাটি, কক্সবাজার, লালমনিরহাট, গাজীপুর, সিলেট ও নরসিংদীতে এসব নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন।

লালমনিরহাটে মানা করার পরও ভোট দিতে চাওয়ায় ছুরিকাঘাত, নিহত ১

এদিকে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার পথে তোজাম্মেল হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী জানান, দুপুর ১টার দিকে ভোট দেয়ার উদ্দেশ্যে তোজাম্মেল হোসেন কেন্দ্রে যান। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ভোট না দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। কিন্তু তোমাম্মেল ভোট দিতে কেন্দ্রের দিকে যেতে উদ্যত হলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরকাঘাত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত তোজাম্মেলকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মারা যান তিনি।

জানা যায়, পেশায় দিনমজুর তোজাম্মেল ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক।

ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেতে মানা করার পরও তোজাম্মেল হোসেন যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলেও তিনি মারা যান।

কুমিল্লায় বিএনপি নেতাসহ নিহত ২

আমাদের কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ভোট দিত গেলে ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিহত এই বিএনপি নেতা হামলার শিকার হন। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত এই বিএনপি নেতার নাম মোঃ বাচ্চু মিয়া (৫০)। তিনি সোম্দাইল ইউনিয়নের অম্বদিয়া গ্রামের বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।

এদিকে জেলার চান্দিনায় পশ্চিম বেলাসার সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। পশ্চিম বেলাসারের প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, কেন্দ্র থেকে ভোটের বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মুজিব (৩৫)। তার বাবার নাম সুজাদ আলী। চান্দিনা থানার ওসি আবু ফয়সাল পুলিশের গুলিতে একজনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদলকর্মী নিহত

এদিকে দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সদর উপজেলার রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে ইসরাইল হোসেন (২০) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সীল মারা, জাল ভোট প্রদান ও বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত যুবদল কর্মী ইসরাইল সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের আবু সায়েদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, রোববার সকালে রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহন শুরু হলেও কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্রটি দখল করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ধানের শীষের সমর্থকদের প্রতিরোধের মুখে তা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই মধ্যে সকাল ১১টায় মহাজোট প্রার্থী উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এসময় পুলিশ তার উপস্থিতিতেই ধানের শীষের সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েন। এতে যুবদল কর্মী ইসরাইল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের গুলি ও নৌকা সমর্থকদের যৌথ আক্রমণে আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সিলেটে গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষের সময় বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেল (২৬) গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের ছোট ভাই। বালাগঞ্জ উপজেলার আজিজপুর ভোটকেন্দ্রে রোববার দুপুর ২টায় এই ঘটনা ঘটে।

বিএনপির অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় সায়েমের বুকের ডান পাশে গুলি লাগে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সংঘর্ষের সময় ছাত্রদল নেতা সায়েম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় বলে জানান তারা।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত

এদিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের সামনে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নে পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম মিরাজুল ইসলাম (৩০)। তিনি মোহনপুর উপজেলার পাইকগাছা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

রাজশাহী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আয়েন উদ্দিন দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরা পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে যায়। এ সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের বাধা দিতে গেলে মিরাজুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে তারা জেনেছেন।

বগুড়ায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় নিহত ১

বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার কাহালু উপজেলায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করার পর আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংষর্ষে আজিজুল ইসলাম নামের (৩০) এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছে। সে ওই গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র। এ সময় এক ইউপি সদস্যসহ ৫/৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত আজিজুল এক আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাহালু উপজেলা পাইকড় ইউনিয়নের বাগইল ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে মহাজোট ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ বাধে।

এসময় আওয়ামী লীগ কর্মী আজিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য দোয়েলসহ ৫/৬ আহত হয়েছে। আতহরা টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাইকড় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সহিংসতায় কক্সবাজারে নিহত ১

এদিকে কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালি উলুদিয়া এলাকায় মোঃ আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ভোট দিতে গিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মারা গেছেন। মাতবর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন সাতজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর আবদুল্লাহকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মজিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আবদুল্লাহকে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতজনের মধ্যে চারজন ধানের শীষ এবং তিনজন নৌকা প্রতীকের সমর্থক।

পটিয়া ও বাঁশখালীতে নিহত ২, সাতকানিয়ায় গুলিবিদ্ধ ৬

এদিকে পটিয়া ও বাঁশখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় ২ জন নিহত ও  সাতকানিয়ায় ৬জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ব্যুরো। নিহতরা হলেন- পটিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র আবু সাদেক এবং বাঁশখালীতে লাঙ্গলের সমর্থক আহমেদ কবির। এছাড়া পটিয়ায় ৩জন, সাতকানিয়ায় ৬জন এবং বাঁশখালীতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ইসলামী ফ্রন্টের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসেনার সদস্য। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় পশ্চিম মালিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মোহাম্মদ মুন্না (২৮) ও মোঃ ইলিয়াছ (৪০)।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে আহমদ কবীর (৪৫) নামে জাতীয় পার্টির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার বাঁশখালী পৌরসভার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাত থেকে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার চেষ্টা করায় তার সমর্থকরা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে আহমদ কবীর মারা যান। এছাড়া কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এদিকে সাতকানিয়ার পূর্ব ছদহার সিন্দুপ্পাপাড়া কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা লোকজনের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জাফর সাদেক। তিনি জানান, আজ সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে নুরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার ও মহিউদ্দিন নামে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।

আহতদেরকে প্রথমে আশ সেফা হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে সাতকানিয়ার ঢেমশা বোর্ড অফিস এলাকার একটি ভোট কেন্দ্রে বেলা ১টার দিকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ করে সাধারন ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে ৩জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় লোকজন। তাদের মধ্যে রকিবুল ইসলাম নামের এক যুবক রয়েছে। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গুলিতে আনসার সদস্য নিহত

এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় কেন্দ্র দখল নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নুরনবী হেঞ্জু নামে এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর তুলাচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনসার সদস্য নুরনবী হেঞ্জু বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয় নারায়ণপুর আনতির বাড়ির মৃত মতিন মেস্তুরীর ছেলে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন জানান, কেন্দ্র দখল করা নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে গুলিতে আনসার সদস্য নুরনবী আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দিনাজপুরের বিরলে বৃদ্ধ নিহত

এদিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ভোট দিয়ে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে কিনা মোহাম্মদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শহরগ্রাম মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত কিনা মোহাম্মদ (৬৫) বিরল উপজেলার ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত চান্দু মোহাম্মদের ছেলে। বিরল থানা পুলিশের ওসি এটিএম গোলাম রসুল বলেন, কিনা মোহাম্মদ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। কোনো অভিযোগ না থাকায় তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ৫

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর কাজী আজিমউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি লিয়াকত হোসেনকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। রোববার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মহানগরীর হাড়িনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫জন নেতাকর্মী।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ওসি সমীর সূত্রধর বলেন, কাজী আজিমউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি লিয়াকত হোসেনের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। নিহত লিয়াকতের ওপর কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ঘটনাস্থল থেকে নিহত লিয়াকত হোসেনের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

রাঙামাটিতে যুবলীগ নেতা নিহত

এদিকে রাঙামাটি জেলোর কাউখালি উপজেলায় ঘাগড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। রোববার সকালে ভোটগ্রহণের আগে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কাউখালি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে ইউনিয়নের রাঙ্গিপাড়া এলাকায় নৌকা ও ধানের শীষের দু’দল সমর্থকের মধ্যে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় বাছির উদ্দীনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতের মধ্যে গুরুতর বাছির উদ্দীনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসব তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কাউখালী থানার ওসি মঞ্জুর আলম বলেন, ভোটগ্রহণের আগে দু’দলের সংঘর্ষে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

এদিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হাজী আব্দুল আজিজ (৬৫) নামের এক বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার নগদা শিমলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল আজিজ গোপালপুরের নগদা শিমলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

জানা যায়, হাজী আব্দুল আজিজ শনিবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন নগদা শিমলা এলাকায় আব্দুল আজিজের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে নগদা শিমলা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত আব্দুল আজিজের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নরসিংদীতে আ'লীগ সমর্থক নিহত

নরসিংদীর শিবপুরের কুন্দেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে (নরসিংদি-৩) স্বতন্ত্র এবং নৌকার প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন মিয়া আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক বলে জানা গেছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।