গণবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে গণফোরাম থেকে বাহিষ্কার করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর আরামবাগে গণফোরাম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টুকে বহিস্কারের খবর নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছিলেন তিনি গণফোরাম নয়, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্য। মনসুরের এই দাবিকে বৃহস্পতিবার মিথ্যা উল্লেখ করে মন্টু বলেছেন, ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর গণফোরামের সদস্যপদ পেয়েছিলেন মনসুর। সদস্যপদের একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছে সর্বরাহ করা হয়েছে। ওই অনুলিপিতে দেখা যায়, গত ১০-১১-২০১৮ তারিখে তাকে গণফোরামের সদস্য করা হয়েছে।
মন্টু বলেন, গণফোরাম এবং জাতীয ঐক্যফ্রন্ট মনে করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে পদদলীত করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে মনসুর নৈতিকতা বিরোধী ও জনবিরোধী এবং সংসদের রীতি বিরোধী কাজ করেছে। তাই তার বিরুদ্ধে দলের নীতি, আদর্শ ও গণবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে; এবং গণফোরাম থেকে বহিস্কার করা হয়েছে; একই সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টেয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রওশন ইয়াজ দানী, মোস্তাক আহম্মদ, রফিকুল ইসলাম পথিক, ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন : যা করেছি দলের শীর্ষ নেতার নলেজে করেছি : সুলতান মনসুর
নয়া দিগন্ত অনলাইন ০৭ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩৬
সুলতান মনসুর বললেন তিনি যা করেছেন দলের শীর্ষ নেতার নলেজেই করেছেন - ছবি: সংগৃহীত
দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েই শপথ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আজ শপথ নেয়া গণফোরামের এমপি সুলতান মনসুর।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকের কাছে এমন আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম এর আগে বলেছিল জোটের সিদ্ধান্ত অনুসারে কেউই শপথ নেবে না।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মৌলভীবাজার-২ আসনের এই এমপি। এ সময় তিনি জোটের অন্যদেরও শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমি ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের আরো যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদে এসে জনগণের পক্ষে কথা বলুন।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সকল কথার উত্তর আমি দেব না। আমি ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা কথা বলতে পারি—জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার নলেজেই আমি এটা করেছি।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান গণফোরাম থেকে জয়ী হন। দুজনেই সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার ইচ্ছে জানালে দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। গত মাসের শেষ দিকে আবার দুজনই আজ ৭ মার্চে শপথের কথা জানান। তবে গতকাল মোকাব্বির খান আজ শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কথা জানান। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী সুলতান মনসুর শপথ নেন।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মনসুর গত নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে তিনি জোটের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হন। নির্বাচনের আগে তিনি গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পান। নির্বাচনের পর থেকেই শপথ নেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় নির্বাচনের পর থেকে ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠকে অংশ নেননি এই নেতা।
সুলতান মনসুর এও বলেন, ‘আমি এর আগেও সংসদ সদস্য ছিলাম। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ জেনে বুঝেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সুলতান মনসুরকে শপথবাক্য পাঠ করান। জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিমসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



