নারী বিদ্বেষী ওয়াজ মাহফিল বন্ধের আহবান জানিয়ে জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সারা দেশে ওয়াজের নামে ‘রাজনৈতিক মোল্লারা’ ধর্মের মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুদ্ধাপরাধে দ-িত নাঈদীর তুলনা করে সাঈদীকে আল্লাহর প্রিয় মানুষ উল্লেখ করে মুক্তির দাবি করা হচ্ছে। ওয়াজে তেঁতুলতত্ত্ব প্রচার করা হচ্ছে। নারীর ঘর থেকে বের হওয়া, নারীদের চাকরি-কাজ করা, নারী স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার বিরুদ্ধে কথা বলাই এসব রাজনৈতিক ওয়াজের মূল বিষয়।

সংসদে রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিয়ে গেছেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-স্কুল-মাদরাসাগুলোতে ইসলামী শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে। দেশে মাদরাসা বোর্ডও রয়েছে। এই রাজনৈতিক মোল্লারা-ফতেয়াবাজরা-ধর্ম ব্যবসায়ীরা কি ইসলামী শিক্ষা-ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা বোর্ড, কওমী মাদরাসা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-মাদরাসায় যে শিক্ষা দেয়, যে সিলেবাস পড়ানো হয়- তার আলোকে ভাষণ দেয়? এসব নারী বিদ্বেষী ওয়াজ মাহফিলের মনিটরিংয়ের দাবি জানান ইনু।

ইনু বলেন, পাকিস্তানপন্থার রাজনীতি তথা সাম্প্রদায়িক-মেীলবাদী-জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি ও তাদের পৃষ্টপোষক জামায়াত-বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। এ দেশ বিরোধী শক্তির প্রতি কোনো নমনীয়তা বা ছাড় দেয়া যাবে না। ইতিহাস প্রমাণ করে জামাত-বিএনপি সুযোগ পেলেই গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল হানে। বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদ-মেীলবাদ উৎপাদন কারখানা। এ কারখানা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। এটা রাজনৈতিক বিদ্বেষ নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতা।

ঢাকার দু সিটির নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে বিএনপির ঢাকা হরতালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন আসলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে নি¤œচাপ তৈরির আশা নিয়ে আসলে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির তৈরির চক্রান্তের ঘূর্ণীঝড় তৈরি করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছে। সে চেষ্টা সিটি নির্বাচনেও ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি না হলে আরো অনেক এগিয়ে যেতো। দুর্নীতির দুষ্টচক্র আমাদের জন্য অভিশাপ, বিরাট চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নের সুফল খেয়ে ফেলা উঁইপোকা আর ইদুরগুলোকে বিষ দিয়ে মারতে হবে। দুর্নীতির দুষ্ঠুচক্রকে ধ্বংস করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহারকারী-দুর্নীতিবাজ-লুটেরারা ধরাছোঁয়ার বাইরে না তা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাংক লুটেরা-শেয়ারবাজার লুটেরারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে না তা প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন, ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর চেষ্টায় লাভ হচ্ছে না। তারা শিখবে না। দুর্নীতিবাজ বেগম ও সাহেবদের ধরতে হবে।

ইনু বলেন, বিএসএফের সীমান্তে হত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়া ঠিক হবে না। বিএসএফের নন-ন্যাথাল ডিপইন বুলেট ব্যবহারের কথা থাকলেও তারা আসল বুলেট ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করছে। এটা সরকারের দেখা দরকার। তিনি সংসদে ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেবার মন্তব্যের বিরোধিতা করে আইন কঠোর করার দাবি জানান।