স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ও সর্তকতা অবলম্বন করে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির এ দুঃসময় ও দুর্দিনে এলজিইডি'র জেলা পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। আমরা যেভাবে এগুচ্ছিলাম কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে তাতে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবাই একযোগে কাজ করলে এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে আমি আশা করি।

সোমবার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে জুম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে সংযুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও এলজিইডি'র অন্যান্য কার্যক্রমের অগ্রগতি ৬৪টি জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীরা মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কি ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছেন তা তুলে ধরেন। ভিডিও কনফারেন্সে আরো সংযুক্ত হন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ খান।

প্রকৌশলীরা জানান, রাস্তায় মাটি ভরাটসহ কিছু কাজ সামাজিক দূরত্ব মেনে করা সম্ভব হচ্ছে। তবে কার্পেটিং বা ঢালাইয়ের কাজ করতে কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া নিয়মিত যে সকল শ্রমিক কাজ করে তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়াতে দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। পাথর আমদানিতে ও পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। সিমেন্টসহ কিছু উপকরণের দাম বেড়ে গিয়েছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির ব্যাপারগুলোও আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন বা ছুটি বাস্তবায়নে কঠোর হবার কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।

এসময় মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করছে। কাজেই সমস্যা গুলো ধীরে ধীরে কেটে যাবে। তারপরও যেসব জায়গায় আমাদের ভূমিকা রাখা দরকার সেটা আমরা করব। আপনারা এডিপি ও অন্যান্য কার্যক্রম যথাযথভাবে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন করুন। যেসব জেলায় কাজের অগ্রগতি কিছুটা ঘাটতি রয়েছে তারা একটু জোর দিয়ে কাজ করলে এ ঘাটতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তথ্যানুযায়ী বেশিরভাগ জেলা ইতোমধ্যে এডিপির প্রায় শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ কাজ বাস্তবায়ন করায় মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।