২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ঋণনির্ভর ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে সরকার। করোনা মহামারীর এই মহাসঙ্কট মোকাবিলা করতে যে ধরনের বাজেট প্রত্যাশা করেছিলাম, তার কোনো ছায়া খুঁজে পাইনি গতানুগতিক ধারার এই বাজেটে। বরাবরের মতোই উন্নয়ন বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখে সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপারে সরকারের অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। করোনা মোকাবিলায় কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা নেই। উপরন্তু বেসরকারি চিকিৎসা খাতকে কর মওকুফসহ বিভিন্নভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তদের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আরো সীমিত করা হলো। অথচ এই মহামারীর মধ্যে একটি গণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার নাগরিক ঐক্যের সদস্য সাকিব আনোয়ার স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎস বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার তাতে দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট দেখা দেবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি তো হবেই না বরং অনেক মানুষ কর্মহীন হবে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের বাঁচানোর কোনো উদ্যোগ নেই বাজেটে।
আরো পড়ুন : নতুন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পসমূহ
দাম কমছে গৃহস্থালিকাজে ব্যবহৃত পণ্যের
২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট ‘অধমর্ণের বাজেট’ : ড. মঈন খান
তিনি বলেন, করোনায় নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যাওয়া মানুষদের বাঁচানোর ব্যাপারে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। গত ১৩ বছর ধরে সরকার দুর্নীতির যে মহোৎসব চালাচ্ছে, তা অব্যাহত রাখার সকল আয়োজন আছে এই বাজেটে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, করোনা সঙ্কটের মধ্যে মানুষ বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। কিন্তু সরকার সেই পথে হাঁটেনি। এই বাজেট জনগণের বাজেট নয়। আমি এবং আমার দল নাগরিক ঐক্য প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করছি।
তিনি বলেন, আগামী ৫ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাগরিক ঐক্য প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বিস্তারিত আলোচনা এবং সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করবে। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বাজেট অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। কেন না এই বাজেট বাস্তবায়ন হলে করোনা মহামারীর এই সঙ্কট থেকে দেশের মানুষকে, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানো যাবে না।






