প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নভেম্বর মাসে পিইসি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও সেটা বাতিলের দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে পিইসি পরীক্ষার ভয়াবহতা বর্ণনা করে ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীরা পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে দুইটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে ঠিকই কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের শৈশব মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। এই পরীক্ষার জন্য অভিভাবকরা তাদের সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আসতে দিচ্ছেন না, আত্মীয় স্বজনদের বাসায় আসা বন্ধ করছেন, কোচিং, টিউশন করতে করতেই শিশুর এই সময়টা চলে যায়। এই পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে গাইড বইয়ের রমরমা ব্যাবসা চালু হলো। সরকার কিভাবে সেখানে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায় তার কোনো উদ্যোগ নেয় নাই বরং পিইসি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সালমান সিদ্দিকী বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে এ বছর পিইসি পরীক্ষা হচ্ছে না। কিন্তু আমরা হঠাৎ লক্ষ্য করলাম মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা এলো, নভেম্বরে পরীক্ষা হবে। সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পিইসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের শৈশবকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একটা বাচ্চা ফোর থেকে ফাইভে উঠল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলেই। এমনিতেই সে মানসিক সমস্যার মধ্যে থাকবে তার ওপর পরীক্ষার সিদ্ধান্ত তাদেরকে আরও বেশি মানসিক চাপে ফেলবে।
শিক্ষার্থীরা সরকারের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছে উল্লেখ করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জয়দেব ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে একটা শিশুর জন্যে মুল্যায়ন অবশ্যই প্রয়োজন আর তার জন্য স্বাভাবিক যে পরীক্ষা গুলো হয় তাই যথেষ্ট। একটা পাব্লিক পরীক্ষার চাপ শিশুকে কোনভাবেই দেয়া সমীচীন নয়। সরকার বিশ্ব ব্যাংকের কাছে স্বাক্ষরতার হার বেশি দেখানোর জন্যে শিশুদের প্রতি এই পরীক্ষা পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হচ্ছে কি না সেটা তাদের মাথার মধ্যে নাই, তাদের চিন্তা কিভাবে স্বাক্ষরতার হার বেশি দেখানো যায়।
মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিল্প ও গবেষণা সম্পাদক সঞ্জয় কান্ত দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফেকুজ্জামান ফরিদসহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



