জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ  চৌধুরীর মৃত্যুতে সংসদের সংরক্ষিত আসনের একটি পদ শূন্য হয়েছে। এই পদে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন- এ নিয়ে জাতীয় পার্টির নারী নেত্রীদের মধ্যে এরই মধ্যে লবিংতদবির ও দৌঁড়ঝাপ চলছে।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে জাতীয় পার্টির শীর্ষনেতাদের মধ্যে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় ও পার্টির কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এখন আলোচনার ইস্যু এটি নিয়েই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে মতামত দিচ্ছেন পার্টির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। 

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ  চৌধুরী এমপি। জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে অত্যন্ত শিক্ষিত ও মেধাবী এই নেতার মৃত্যুতে শূন্য হয় সংরক্ষিত এই নারী আসনটি।

জাতীয় পার্টির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রশ্নে আলোচনায় আছেন অনেকেই। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরিফা কাদেরকে নিয়েও বেশি গুঞ্জন। অনেকেই ধারণা করছেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই পেতে পারেন মনোনয়ন।

তবে আলোচনায় আরো আছেন চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা নাজনীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সালমা হোসেন, পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা রহমান মুন্নী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেহজাবিন মোর্শেদও। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নাহার বেগম, নিগার রানী সুলতানা, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাহিদা রহমান রিংকুও মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেয়া পোস্টে দলের অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, শেরিফা কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। রেডিও এবং টেলিভিশনের প্রথম শ্রেণীর তালিকাভূক্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রায় এক যুগ আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন শেরিফা কাদেরকে। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মতো একজন যোগ্য নেত্রীকে সংসদে দেখতে চান তারা। এভাবে অন্যদের ব্যাপারেও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চলছে। তবে এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বা কেন্দ্রীয় কোনো নেতা কথা বলতে চাননি।

তবে নাম প্রকাশ না করে একজন নয়া দিগন্তকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।