তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বিএনপির শাসনামলে একটা স্লোগান উঠেছিল- এই মুহূর্তে দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দাবি তুলেছিল জামায়াতে ইসলামী, এতে সমর্থন দিয়েছিল এই আওয়ামী লীগ। জামায়াত-আওয়ামী লীগ মিলে দাবি তুলেছিল এবং বেগম খালেদা জিয়া মেনে নিলেন। আজকে আমরা দাবি করছি, এই মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে ‘করোনা হেল্প সেন্টারের’ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বদলাবেন, সার্চ-মার্চ কমিটি করবেন? সার্চ-মার্চ কমিটি আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশের গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এই সরকারকে রেখে কোনো নির্বাচন করা যাবে না। সুতরাং জনগণের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন, নিজেদেরকে ভালো রাখুন। নইলে দেশে যে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে সেই পরিস্থিতির জন্য আপনাদের ওপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে।’

তিনি বলেন, যেদিন আওয়ামী লীগ তার পার্টি অফিসের সামনে মিটিং করবে সেদিন আমরাও আমাদের পার্টি অফিসের সামনে মিটিং করবো ইনশাআল্লাহ। পুলিশ কমিশনার আপনি চিন্তা করে দেখেন আপনার আগে কে ছিল কমিশনার? তার আগে কে ছিল কমিশনার? এটা কিন্তু স্থায়ী পদ না। কোনো না কোনো দিন আপনাকে পোশাক ছাড়তে হবে। সিভিলিয়ান হতে হবে। সুতরাং আপনি মনে রাখবেন, সিভিলিয়ানদের অধিকার রক্ষায় পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আপনারা কারো দলীয় হাতিয়ার হবেন না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘ডিএমপি পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশ্যে আমি বলব, আমাদের উন্মুক্ত জায়গায় সভা-সমাবেশ-মানববন্ধন করার অনুমতি দেন। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আওয়ামী লীগ তার অফিসের সামনে সভা-সমাবশ করবে, তাদেরকে করতে দেবেন। আমাদেরকেও দিতে হবে। নইলে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’

মহানগর দক্ষিণ করোনা হেল্প সেন্টার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী বক্তব্য রাখেন।