দেশ ও জাতির স্বার্থে অবাধ, সুষ্ঠু, অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে সব দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন করাসহ ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছে খেলাফত আন্দোলন।
সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সংলাপে তারা এ প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে আসা প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা সাঈদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন ও আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি।
সংলাপ প্রসঙ্গে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন না হওয়া। এতে গণতান্ত্রিক রাজনীতি যেমন বিপন্ন হয়ে পড়েছে তেমনি বাংলাদেশের ভাবমর্যাদারও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি আমানতদার, শক্তিশালী, সক্ষম, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা আবশ্যক। যে নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফল হবে এবং তার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের অবসান ঘটবে।’
রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে খেলাফত আন্দোলনের ছয় দফা দাবি প্রস্তাব হলো,
১. নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একটি আইন করার যে নির্দেশনা সংবিধানে আছে, সে অনুযায়ী গত ৫০ বছরেও কোনো স্থায়ী আইন করা হয়নি। সার্চ কমিটি নির্দলীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব নয়। এজন্য দেশ ও জাতির স্বার্থে অবাধ, সুষ্ঠু, অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে সব দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন করা সময়ের দাবী।
২. সৎ, নিষ্ঠাবান, যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিরপেক্ষ-নির্দলীয় ব্যক্তির সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কমিশনারগণ নীতিগতভাবে আল্লাহভীরু, বিজ্ঞ, ক্ষমতাসম্পন্ন, সৎসাহসী ও ন্যায়-নীতি পরায়ন হওয়া অতীব জরুরী। এমন গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংবিধান মতে কমিশন গঠন করতে হবে।
৩. নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনে সাধারণত সবাই নতুন থাকেন। তাই নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক হবে।
৪. বিশ্বের অন্য গণতান্ত্রিক দেশের মত বাংলাদেশেও যেন নির্বাচন কমিশন বাস্তবেই স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়।
৫. ধর্মবিদ্বেষী, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালোটাকার মালিক, অবৈধ সম্পদকে বৈধকারী, খুনি, সন্ত্রাসী ও সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী এবং ঋণখেলাপীদের সাথে জড়িত পরিবারবর্গকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকেও। নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি মেডিক্যাল টেস্টে মদ, গাঁজা ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলেও তার সদস্যপদ বাতিল করা বাঞ্চনীয়।
৬. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে ৩৩% মহিলা সদস্য রাখা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে যা নারীদের জোর করে রাজনীতি করতে বাধ্য করার শামীল। তাই এ ধারাটি ঐচ্ছিক রাখার আবেদন করছি।






