জাফরের খুব কাছের বন্ধু নাবিল। তারা একই কাসে পড়ে। বাড়িও পাশাপাশি। লেখাপড়ায় দু’জনই খুব তুখোড়। এলাকার নামকরা ছাত্র। কাস এইটে দুজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। শুধু লেখাপড়ায় বললে ভুল হবে- তারা খেলাধুলাতেও তুখোড়। দু’জনই স্কুলের হয়ে ক্রিকেট খেলে। দু’জনই জোরে বোলার। বিধ্বংসী বোলার। সব কিছুতেই ভালো করতে মেধা লাগে। খেলাধুলাতেও মেধা লাগে। শুধু গায়ের জোরে ভালো খেলোয়াড় হওয়া যায় না। সব কিছুতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। কিন্তু প্রতিহিংসা নেই। জাফরের বাবা বলেন, ‘তোমরা দৌড়ে একে-অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু ল্যাং মেরে নয়।’
কয়েক দিন ধরে একটি বিষয় নাবিলকে বিস্মিত করে। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না। কীভাবে এমন হয়! জাফরও খোলাসা করে কিছু বলে না। রহস্য জিইয়ে রাখে। নাবিলদের বাড়ির সব ছোটখাটো বিষয় জাফর কীভাবে যেন জেনে যায়! এমনকি নাবিল কখন কোন বিষয় পড়ে। কীভাবে পড়ে সবই বলে দিতে পারে। নাবিল ভেবেছে, জাফর হয়তো খুব গোপনে তাকে অনুসরণ করে। কিন্তু না। সে তাদের কোজ সার্কিট ক্যামেরা ঘেটে দেখেছে- জাফর বা অন্য কেউ রাতে তাদের বাড়িতে আসে না। তাহলে কীভাবে সম্ভব! বিষয়টি কিছুতেই নাবিলের মাথায় ঢুকে না। কিন্তু সে জাফরের কাছে জানতেও চায় না। যে করেই হোক এ রহস্য তাকে উদঘাটন করতেই হবে। নাবিল খুব গভীরভাবে খেয়াল করল, তাদের বাড়িতে নতুন কোনো কিছুর সংযোজন কিংবা বিয়োজন হয়েছে কি না। নতুন কোনো কিছুই তার চোখে পড়ছে না। শুধু একটি বিষয় তার কাছে একটু নতুন ঠেকে। একটি কালো বিড়াল তাদের ঘরে আসা-যাওয়া করে। তার পড়ার টেবিলের কাছে কিছুক্ষণ বসে থাকে। আবার চলে যায়। বিড়ালটা খুব সুন্দর। মায়াজাগানিয়া চেহারা। পেছনের দু’পায়ে এবং মাথার ওপর সাদা ছোপ আছে। তার দাদা বলতেন, জিনেরা নাকি কালো বিড়ালের ছুরতে থাকে। তাই প্রথমে একটু ভয় পেতেন। পরে বিড়ালটার ওপর মায়া পড়ে যায়। ডাক দিলে লেজ নাড়ে। ঘড়ঘড় করে। ধরতে গেলে দৌড়ে পালায়। কিছুতেই ধরা যায় না। তবে কোথায় যেন একটু আলাদা! তার মিঁউ মিঁউ ডাক থেকে হাঁটাচলা সব কিছুতে একটা ভিন্নতা। এ কারণে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেশি। ইতোমধ্যে বিড়ালটি সবার নজর কেড়েছে। তবে, আদর করে কোনো কিছু খেতে দিলে শুঁকে চলে যায়। খায় না। এই বিড়ালটাই শুধু নতুন। আর সব কিছুই আগের মতোই আছে। তাহলে সব কিছু ফাঁস হয় কীভাবে? এটি কি জাদুর বিড়াল!
এদিকে জাফর বিস্ময়ের ওপর বিস্ময় উপহার দিয়ে যাচ্ছে। নাবিল কোন রাতে কোন সাবজেক্ট কতটুকু পড়েছে- জাফর সব গরগর করে বলে দিচ্ছে। মোবাইলে কার সাথে কী বলেছে সব বলে দিচ্ছে। তার মধ্যে এক রহস্যময় হাসি। বিষয়টি নাবিলের মনে ঝড় তোলে। এক রাতে নাবিল পড়ছে। এমন সময় বিড়ালটি এসে থামের কাছে গুটিসুঁটি মেরে বসল। থামের গায়ে হেলান দেয়া ছিল পাটা। বিড়ালটির সামনে উপুড় করে রাখা ছিল একটি বড় গামলা। নাবিলের ছোট বোন অনামিকা দৌড়ে নাবিলের কাছে আসতেই পাটার গায়ে ধাক্কা লাগে। পাটাটা ধড়াম করে বিড়ালের গায়ে পড়ে যায়। বিড়ালটি সরতে গিয়ে গামলায় ধাক্কা লাগে। সরতে পারে না।
অনামিকা চিৎকার দিয়ে বলে ভাইয়া, বিড়াল। বিড়ালের কোনো সাড়াশব্দ নেই। নাবিল ভয় পেয়ে যায়। বিড়াল মারা গেল নাকি! পাটা তুলতেই টাস লেগে গেল। এ যে সত্যিকারের বিড়াল নয়। রোবট বিড়াল। ছোট্ট একটি ব্যাটারি খুলে পাশে পড়ে আছে। নাবিল ভালোভাবে খেয়াল করল, ব্যাটারির ঘরে লেখা ‘Dark detective’. নাবিলের আর বোঝার বাকি রইল না। সে ব্যাটারি খুলে বিড়ালটি রেখে দিলো। কিছুক্ষণ পর জাফরের বোন পরি এলো বিড়ালের খোঁজে। নাবিল বলল, জাফরকে আসতে বলো। বিড়াল খুঁজে দেবো। কিছুক্ষণ পর জাফর এলো। দুই বন্ধুতে খুব হাসাহাসি। জাফর সব খুলে বলল, তার ছোট চাচা ক্যালটেক ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো। তিনি গত সপ্তায় এসেছেন। সাথে এই গোয়েন্দা বিড়ালটি নিয়ে এসেছেন। এর নাম কালো গোয়েন্দা। এটি দিয়ে আমরা অনেক বড় বড় রহস্য উদঘাটন করতে পারব।
জাফরের খুব কাছের বন্ধু নাবিল। তারা একই কাসে পড়ে। বাড়িও পাশাপাশি। লেখাপড়ায় দু’জনই খুব তুখোড়। এলাকার নামকরা ছাত্র। কাস এইটে দুজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। শুধু...
