বাংলাদেশীরা অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছে। যেমন, মাইক্রোক্রেডিট সামাজিক ব্যবস্থা, ওরাল স্যালাইন। কিন্তু এবার ক্যালেন্ডারের নতুন সংযোজন হলো জুলাই ৩৬। আল্লাহ যদি আমাকে আগামী বছর অব্দি বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আমি আমার সামনে যে ক্যালেন্ডার থাকবে তাতে আগস্ট ৫ এর পাশে জুলাই ৩৬ লিখে রাখব। যা আমাকে নিরস্ত্র বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা পায় অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে এবং দ্বিতীয় স্বাধীনতা পায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দলনের মধ্য দিয়ে। এই আন্দোলনের কবিতা-গান আমাকে খুবই নাড়া দিয়েছে। বিদেশী এক টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে দেখেছিলাম একজন দর্শক তার সহকর্মীকে টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে দেখাচ্ছেন দেখ দেখ কী হচ্ছে বাংলাদেশে। এসব টেলিভিশনের স্ক্রিন সাধারণত বিদেশের মাঝারি ধরনের সুপার মার্কেটের প্রাঙ্গণে থাকে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে এবং এই আন্দোলনের ব্যানারে প্রথম দিকে এটি কোটা সংস্কার আন্দোলন থাকলেও পরে এটি অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই বছরের পয়লা জুলাই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে এবং আত্মপ্রকাশের পরপরই আন্দোলন সফল করার জন্য ৮ জুলাই সংগঠনটি ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করে, যার মধ্যে ২৩ জন সমন্বয়ক ও ৪২ জন সহসমন্বয়ক ছিলেন। আন্দোলনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পর তারা ৩ আগস্টে সংগঠনটি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১৫৮ জন সদস্যের সমন্বয়ক দল গঠন করে, যার মধ্যে ৪৯ জন সমন্বয়ক ও ১০৯ জন সহ-সমন্বয়ক ছিল ।
সমন্বয়কদের কমটি গঠন হওয়ার পর থেকে একাধিক সমন্বয়কে এই সংগঠনের নেতৃত্বে দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিস আলম, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের আসিফ মাহমুদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেলসহ আরো অনেকেই।
জুলাই মাসের মাঝামঝি সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে চার দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা লাগাতার কর্মসূচি শুরু করে। ২ থেকে ৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকায় গণপরিবহন বন্ধ এবং রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি চালায়। পরে সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয় যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি নামে নামকরণ করা হয়। ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার শিকার হয় এবং এই হামলায় অনেক শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকারের নাতি-পুতি বলে ব্যঙ্গ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজকার, কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার এবং চাইতে গেলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার- স্লোগান দেয়। এভাবেই পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। এর পরেই ১৮ জুলায়ের জন্য কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২১ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের একটি পক্ষ ৯ দফা দাবি জানিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে পুলিশ ও আওমী লীগের গুণ্ডাবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে নিরহ ছাত্র-জনতাকে হত্যা, গণগ্রেফতার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মার্চ ফর জাস্টিস ও ন্যায়বিচারের জন্য পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে। ৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য শহীদ মিনার থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। শহীদ মিনার থেকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পদত্যাগের এক দফা আন্দোলন ঘোষণা করেন। শুরুতে ৬ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সমন্বয়করা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট ঘোষণা করেন। আন্দোলনকে ঘিরে ৫ আগস্ট অনেক জেলায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে করে ওই দিন ১০৮ জন সাধারণ ছাত্রজনতা ও পুলিশ নিহত হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা এক দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্মিলিত ছাত্র-জনতার এক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পদত্যাগ করেন এবং দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
এর মধ্যে দিয়ে তার ১৫ বছরের ও বেশি সময়ের দুঃশাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিষয় এই যে এই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, ২৫ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গু হয়েছেন এবং ৪৫০ এর বেশি চোখের আলো হারিয়েছেন ।
এখন আসি বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে
বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০ সালের দিকে। প্রাক্তন সিএসপি মরহুম নুরুল কাদেরের হাত ধরে। তিনি কোরিয়া থেকে বাংলাদেশী জনশক্তিকে ট্রেনিং দিয়ে এনে বাংলাদেশের গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ দেশে অনেকেই এ ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এ ব্যবসায় যুক্ত হন। এ সম্পর্কে আশির দশকের শেষের দিকে মরহুম মোশারফ হোসেন (প্রাক্তন এমপি) এক সমাবেশে বলেছিলেন, এই ১.২ (এক দশমিক দুই) বিলিয়ন গার্মেন্ট এক্সপোর্ট একদিন বিশ বিলিয়ন হবে। কিন্তু আজ তা প্রায় সাতচল্লিশ বিলিয়ন ইউএস ডলার ছাড়িয়েছে। আমরা যদি ৪৭ বিলিয়নকে ৯৪ বিলিয়ন ডলারে উপনীত করতে চাই তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস হাইওয়ে হওয়া উচিত। তাহলে সহজে কাঁচামাল আনা-নেয়া করা যাবে এবং রফতানিযোগ্য উৎপাদিত পণ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতা (ইুঁবৎ) হস্তান্তর করা যাবে। কেননা ক্রেতারা (ইুঁবৎ) উৎপাদিত পণ্য ডেলিভারির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে থাকেন।
সাধারণত সরকারের কাজটা কী?
শিল্প কারখানা বাস্তবায়নে সাহায্য করা যা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এবং পরে যারা সরকার ব্যবস্থায় এসেছিলেন তারা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। প্রথম দিকে বিভিন্ন রকমের ইনসেনটিভ (সুযোগ-সুবিধা) দিয়ে গার্মেন্ট টিকানোর ব্যবস্থা করেন। যার জন্য বিভিন্ন সময় আমেরিকা থেকে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা আসা সত্ত্বেও গার্মেন্ট শিল্প টিকে যায়।
বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গার্মেন্ট শিল্পের টাকাটা কম করে আটবার বিভিন্ন হাত ঘুরে। যেমন ধরুন শ্রমিক মালিক, ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স, ট্রান্সপোর্ট এবং ছোট মাঝারি ধরনের ব্যবসাকে উজ্জীবিত করেছে। যদিও দুর্মুখেরা বলে গার্মেন্টের ৭৫% টাকাই তো বিদেশে চলে যায়, আসলে তা না। এক সময়ে সব এক্সেসরিজ কোরিয়া থেকে ইম্পোর্ট করা হতো এবং পরে হংকং থেকে আনা হতো। কিন্তু আজ আমাদের দেশেই সব গার্মেন্ট এক্সেসরিজ তৈরি হচ্ছে। আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। গার্মেন্ট ক্রেতা বেশির ভাগই ছিল আমেরিকান কিন্তু ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত। প্রথম দিকেই তারা কিছু টাকা হাতিয়ে লেজ গুটিয়ে চলে যায়। ইন্ডিয়ার সাথে তখন আমাদের সম্পর্কটা এমন ছিল একবার আমরা নিট ফেব্রিক আমদানি করি কিন্তু কাপড়টা ছিল রোলের মধ্যে সেডিং। যে কারণে আমরা কোনো কাপড় রফতানি করতে পারিনি। সাপ্লায়ারকে বললাম আমাদের থেকে পাঁচ হাজার ডলার কম নিন সেই মোতাবেক ব্যাংক টু ব্যাংক মেসেজ দেয়া হয়। কিন্তু ইন্ডিয়ান ব্যাংক আমাদের ব্যাংক থেকে পেমেন্ট নিয়ে নেয়। আমরাও ঘটনাটা ভুলে যাই। এরপর আমি একটি মেশিন দেখার জন্য ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করি। কিন্তু ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট সেকশন থেকে আমাকে বলা হয় তাদের কমার্শিয়াল অ্যাটাচিকে ফোন করতে। আমি যথারীতি তাদের ফোন করি এবং ফোন করার পরে আমাকে বলেন তুমি আমাদের ব্যাংকে পাঁচ হাজার ডলার দেওনি। আমি তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দিতে পারিনি। আমি তাদের বললাম, আমি আমার ফাইল চেক করে আপনাদের জানাব এবং ফাইল ও ব্যাংকের সাথে আমি চেক করে দেখলাম অনেক আগেই তারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে নিয়েছে। এর পরে আমি ইন্ডিয়ান এম্বাসির কমার্শিয়াল অ্যাটাচিকে জানালাম এবং ভিসা পেলাম। এখন আমার প্রশ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক বা আমাদের কমার্শিয়াল অ্যাটাচে তারা এমন কাজগুলো করেছেন? যদি করে থাকেন তবে ভালো কথা আর যদি না করে থাকেন তবে এখন থেকে শুরু করা হোক। পরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্রেতা বাংলাদেশে আসে। এরই মধ্যে চীনের ইম্পোর্ট সহজাতীয়করণ হওয়ার মাধ্যমে আমরা চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করা শুরু করি। যা আজ অব্দি বহাল আছে। গত কয়েক বছরে নিট ও ডেনিম শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, বায়িং এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভারত এবং শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের আধিপত্য দেখা যায়। এর ফলে আমাদের বৃহৎ ফরেন কারেন্সি বাইরে চলে যায়। এসব দেখে বিজিএমইএ থেকে আমাদের ডেকে কয়েকজনকে নিয়ে কমিটি করে দেয়া হয়। আমরা দুই বছর পর্যালোচনা করে ২০০০ সালের দিকে বিজিএমইএ ফ্যাশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করি, যা ২০১২ বিজিএমইএ ইউনিভাসির্টি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, (বিইউএফটি) নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এখানে একজন পার্ট টাইম ভিসি আছেন। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে আমাদের ছাত্ররা দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠান থেকে গ্র্যাজুয়েট বের হওয়ার ফলে আমাদের দেশে ভারত ও শ্রীলঙ্কান উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বড় বড় বায়িংগুলো প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদস্থ কর্মকর্তা সবসময় পার্শ্ববর্তী দেশের হয়ে থাকে। যার জন্য কিছু কিছু বায়িং অফিস ভারতের ত্রিপুরাতে স্থানান্তরিত হয়।
একটি গল্প না বললেই নয়। আমি একবার আওরঙ্গবাদ গিয়েছিলাম মেশিনারিজ দেখার জন্য। একটা পাহাড়ের চূড়ায় স¤্রাট আওরঙ্গজেবের মাজার এবং সম্রাট আওরঙ্গজেব ৬০০ বছর পূর্বের একজনকে পীর মানতেন এটা তার মাজার। আমি তাদের দুইজনেরই মাজার জিয়ারত করেছি। স¤্রাট আওরঙ্গজেবের পরিবারের অনেককেই এই চূড়ায় সমাহিত করা হয়েছে এবং তারা সেখানেই শুয়ে আছেন। আওরঙ্গবাদ থেকে বিমানে ফেরার পথে বোম্বে এয়ারপোর্টে আমরা ঝড়ের কবলে পড়ি। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ার জন্য আমরা কলকাতার ফ্লাইট মিস করি। যে কারণে আমাদেরকে বোম্বের একটি সাধারণ মানের হোটেলে অবস্থান করতে হয়। হোটেলের চেকিং শেষ করার পরপরই ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন আমাদের পাসপোর্ট চেক করেন। কিন্তু আমার এখানে জিজ্ঞাসা এই যে- ২৫/২৬ লাখ ভারতীয় লোক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তাদের কতজনের পাসপোর্ট চেক করা হয়? যাদের ব্যবসা করার কথা ইপিজেড এরিয়াতে তারা এখন ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরে ফ্যাক্টরি খুলে ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তারা তাদের এই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ইপিজেড এরিয়ার বাইরে চালু করেন। একবার আমাদের একটি টিম কাস্টম কমিশনারের কাছে গিয়ে এদের অত্যাচারের কথা বললাম কিন্তু কমিশনার সাহেব বললেন, আপনারা কমপিটিশন করেন। আমরা চোখ বুজে চলে আসতে বাধ্য হলাম, যেহেতু তারা অনেক ক্ষমতাশালী। গত ১৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ১৪২ গুণ বেড়েছে। বিগত সরকার ২০১৮ সালে ৫০% বেতন বাড়িয়েছে যাতে মালিকদের দুর্বিষহ জীবন শুরু হয়। এরপর ২০১৯ সালের কোভিড-১৯ এর পরবর্তী সময়ে কোভিড-১৯ এর প্রণোদনা সবাই পায়নি। কেবল স্বৈরাচারের দোষররাই কোভিড প্রণোদনা পেয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের টাকা এই দেশে থাকেনি। ডলার সঙ্কটের জন্য রফতানি ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারেনি। এর ফলে বেশ কিছু রেডিমেট গার্মেন্ট অর্ডার ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও ভারতে চলে যায়। গার্মেন্ট শিল্প প্রসারিত হওয়ার ফলে এ দেশের লোকাল বিশেষ করে কনজিউমার আইটেমগুলো (শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট, কসমেটিক্স, টিভি, রেফ্রিজারেটর, জুতা) শিল্প স্থাপনায় গড়ে ওঠে। এ সবই নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন ব্যবহার করে থাকে।
এখন দেখুন সব কিছুই ধীরে ধীরে কমে গেছে কিন্তু বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টার ভাস্যমতে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সেই দিন আমি আমার গাড়ির চালকের গায়ে একটি শার্ট দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম- ভাই, আপনার গায়ের শার্টটি খুবই সুন্দর এবং বললাম যে কত টাকায় কিনেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, স্যার, এটা মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। আমাদের এই জাতীয় কাপড়, গরম কাপড়গুলো বিভিন্ন মিল-কারখানা থেকে আসে। আমরা হয়তো ভুলে গেছি প্রথম স্বাধীনতার পরে পুরনো কাপড় আমদানি করা হতো। শীতকালে পুরনো গরম কাপড় আমদানি হতো তা দিয়ে আমাদের দেশের নিম্নবিত্তে মানুষের আবরণের চাহিদা মিটতো।
বর্তমানে আমাদের দেশের গার্মেন্ট শিল্প আর চলতে পারছে না তারপরও গত কয়েক বছর ধরে সোর্স ট্যাক্স কেটে নেয়। সরকার কী করতে পারবে জানি না, তবে আমাদের চাওয়া যেসব ফ্যাক্টরি চালু আছে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের প্রণোদনা দেয়া, সোর্স ট্যাক্স কর্তন বন্ধ করা অথবা শিল্প কারখানার জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা অতীব জরুরি।
পরিশেষে এটাই বলতে চাই, আল্লাহ যদি আমাদের গার্মেন্ট শিল্পকে রক্ষা করেন তাহলে আমাদের দেশের অন্যান্য শিল্প টিকে যাবে।
