পৃথিবীর যেকোনো গোলযোগের কারণ খুঁজলে বৈষম্যকে একটা অন্যতম কারণ হিসেবে খুঁজে পাওয়া যাবে। অথবা বৈষম্যই হবে একমাত্র কারণ। যেমন: ভাইয়ে-ভাইয়ে, বোনে-বোনে, ভাইবোনে যে গোলযোগগুলো হয়ে থাকে, তা হতে পারে যে, কেউ মা-বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্য দ্বারা যখন বৈষম্যের শিকার হয় এবং পাশাপাশি তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। একইভাবে পাড়ায়-পাড়ায়, গ্রামে-গ্রামে, দেশের ভেতরে একদল-অন্য দলের সাথে, এক দেশ অন্য দেশের সাথে যে গোলযোগ বা যুদ্ধ-বিগ্রহ হয় এসব বিশ্লেষণ করলে কারণ হিসেবে বৈষম্যকেই খুঁজে পাওয়া যাবে। চেলসিয়া ক্লিন্টন বাংলাদেশ ভিজিট করে মন্তব্য করেছিলেন, আমি এমন একটা দেশ দেখেছি যে দেশের বিশাল অট্টালিকার সাথেই রয়েছে বস্তির অবস্থান। এ ধরনের বৈষম্য পৃথিবীতে বিরল। এই বৈষম্যগুলোর অন্যতম কারণ হলো একদল মানুষের নৈতিকতার অভাব, অতিরিক্ত লোভ, অহঙ্কার, সুদভিত্তিক অর্থনীতি, ঘুষের প্রচলন ইত্যাদি। আর এসব বৈষম্য বারবার সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমরাই হলাম দুনিয়ার একমাত্র জাতি যাদের এই বৈষম্য দূর করে বারবার স্বাধীনতার জন্য রক্ত ঝরাতে হচ্ছে। কোনো সময় বৈদেশিক শক্তির মাধ্যমে বৈষম্যের শিকার হয়ে আবার কখনো বহিঃশক্তির চক্রান্তে বা ছত্রছায়ায় দেশীয় ফিরাউন মার্কা শাসকদের মাধ্যমে ইত্যাদি। আমাদের দেশের বিভিন্ন সময়ের গণ-অভ্যুত্থান যেমন: ১৯৬৯ ও ১৯৯০ এবং ১৯৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে ঘুরে ফিরে বৈষম্যকেই খুঁজে পাওয়া যাবে। সুতরাং আর কোনো বৈষম্য এ দেশে সৃষ্টি না হোক, আর কোন মায়ের কোল খালি না হোক এর জন্য আমাদের করণীয়:
১. শুকরিয়া আদাই করতে হবে : সর্বপ্রথম এই অভ্যুত্থানকে সফল করার জন্য দেশের প্রত্যেকটা মানুষকেই মহান আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করতে হবে কারণ তার অশেষ মেহেরবানি ছাড়া এত অল্প সময়ে এই অভ্যুত্থান সফল হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। কারণ এই স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রত্যকটা মানুষই এখন ভোগ করছে। এরপর তাদেরও শুকরিয়া আদায় করতে হবে যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার কারণে স্বল্প সময়ের ভেতর আন্দোলন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা (কওমি, আলিয়া), বিশ্ববিদ্যালয়ের (সরকারি-বেসরকারি) ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। সেই সব মা-বাবা যারা তাদের সন্তানদের হাসিমুখে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে উৎসাহিত করেছেন। আর যারা বয়সের ভারে অথবা অসুস্থতার কারণে কোনোটাই করতে পারেননি কিন্তু বাসায় বা হাসপাতালে শুয়ে/বসে আল্লাহ্র কাছে দু’ হাত তুলে এই আন্দোলকারীদের জন্য এবং আন্দোলনের সফলতার জন্য দোয়া করেছেন তাদের শুকরিয়া আদায় করতে হবে এই অবদানের জন্য। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ড্রাইভার, হকার, শ্রমিক, বস্তিবাসী, সব শ্রেণী-পেশার যারাই যেকোনো ভাবে এই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন তাদের সবার ভূমিকার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। কারণ হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না সে আল্লাহ্র শুক্রিয়া আদায় করে না।’ (আবু দাউদ : ৪৮১১)।

২. মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা : একাত্তরের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা চালু রাখা দরকার কারণ তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এদেশ। একই সাথে একাত্তরের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট বাতিল করে প্রদত্ত সব টাকা পয়সা ফেরত নিয়ে ২৪ এর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আজীবন বেতনভাতা ও প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা চালু করতে হবে। বিশেষ করে একাত্তরের ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ২,০০০ আছে যাদের বয়স ৫০ বছর এর কম, তাদের কারো জন্ম ১৯৮২ সালে আবার কারো আবার ১৯৯১ সালে (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়)। এই সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং এই তালিকার সাথে যারা জড়িত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৩. ২৪-এর মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগানো : ২৪-এর মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষকতা যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী প্রত্যেককে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। বিশেষ করে সরকারি যেসব বাহিনীর বা সেক্টরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজে বহুদিন অনুপস্থিত আছেন এবং উপস্থিত থেকেও সঠিকভাবে কাজ করছেন না, অনীহা দেখাচ্ছ্নে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে শূন্য পদ দেখিয়ে ২৪-এর মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা শূন্যস্থানগুলো পূরণ করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো দরকার। এখানে উল্লেখ্য যে এই মুক্তিযোদ্ধাদের দু’জন ছাত্র ইতোমধ্যে চারটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সততা ও যোগ্যতার সাথে পালন করে প্রমাণ করেছেন এই ২৪ এর মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। কারণ তাদেরই রক্তের বিনিময়ে এ দেশের সর্বশেষ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে সারা দেশে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডাটাবেজ তৈরি করে দেশের প্রয়োজনে তাদের সম্মানজনক পদবিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে যেমনিভাবে আমরা উপদেষ্টাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাছাই করে খুঁজে খুঁজে বের করি, কোনো দরখাস্ত করার প্রয়োজন হয়নি। একইভাবে আমরা এসব যোগ্য ছেলেমেয়েদের খুঁজে খুঁজে আমাদের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব কারণ তাদের চাকরির প্রয়োজন না থাকলেও দেশের উন্নয়নের জন্যই তাদের প্রয়োজন। যারা শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের প্রত্যেকটা পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। পাশাপাশি এই যুদ্ধে যেসব সরকারি-বেসরকারি কর্মমকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য পেশার মানুষ নিহিত হয়েছেন তাদের পরিবারের দায়িত্ব ও সরকারকে নিতে হবে। না হলে আবার নতুন বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

৪. অ্যাকাউন্টস ও অডিট বিভাগের সংস্কার : ‘আমরা চোর ধরতে চাই না। চুরি যেন না হয়।’ আল্লাহর রাসূলের সেই হাদিস ‘আগে উট বাঁধো এরপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ এই সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করার জন্য দেশের অডিট এবং অ্যাকাউন্টস সেকশনের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, এই সেক্টরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অডিটর এবং বিসিএস ক্যাডারে অবশ্যই অ্যাকাউন্টিং ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রছাত্রীদের নিয়োগ দিতে হবে এবং নিয়োগটা সহিহ হতে হবে। প্রত্যেক ধাপে পদায়নের পূর্বে বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তাদের বেতন/সম্মানী এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ শুধু এই সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সততা ও দক্ষতার সাথে শুধুমাত্র আল্লাহর ভয়ে তাদের দায়িত্বটুকুও পালন করেন তাহলে দেশের আর্থিক খাত বিশেষ করে অবৈধ ইনকাম, বিদেশে টাকা পাচার, ভুয়া টিএ/ডিএ, বিভিন্ন প্রজেক্টে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাজেট দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ কমে যাবে। ট্যাক্স, ভ্যাটসহ অ্যাকাউন্টস, অডিটের সব কার্যক্রম পেপারলেস/অটোমেশন করতে হবে। হিসাবরক্ষণ এবং নিরীক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে। সব মন্ত্রণালয়ের হিসাব সম্পূর্ণ সমন্বিতকরণের মাধ্যমে একক ঊজচ সিস্টেমে রিয়েল টাইম রিপোর্ট আসতে হবে। সব ধরনের খরচ বা ক্রয় পলিসি এবং প্রসিডিউর ফলো করে করতে হবে। অডিট ফাইন্ডিং সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। ডাটা সিকিউরিটি ব্যবস্থা বাড়ান, ঈওঝঅ সদস্যের মাধ্যমে নিয়মিত আইটি নিরীক্ষা করা, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি অনুশীলনে শাসন বাড়ান যুগোপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।
৫. আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ : এদেশে একদিকে কিছু মানুষ বহুতল ভবনের মালিক, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অন্যদিকে দেখা যায় ফুটপাথে, রেলস্টেশনে বা বস্তিতে বসবাস করছে অনেকে। আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে আছেন একটা বড় অংশ। এই আর্থিক বৈষম্য দূর করার জন্য জাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক জাকাতব্যবস্থা চালু করতে পারলে এবং প্রত্যেক মসজিদে কমপক্ষে তিনজন জাকাত কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে এ দেশে প্রথম বছরে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা যাবে এবং আদাইকৃত জাকাতের অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে সব বেকার লোকের কর্মসংস্থান এক বছরেই করা সম্ভব যেখানে সরকারের বিনিয়োগ হবে জিরো টাকা। আর্থিক বৈষম্য দূর করার জন্য জাকাতভিত্তিক অর্থনীতিই হতে পারে এদেশের একমাত্র সমাধান।
শরিয়তের শুধু এই একটি বিধান জাকাতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য পৃথিবীর সবথেকে কোমলমতি মানুষটি আবু বকর রা: (প্রথম খলিফা) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে (তারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও) যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই যুদ্ধে ওমর রা: সহ সব সাহাবি অংশগ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং এই জাকাত প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই এ দশের বেকার সমস্যা এবং দরিদ্রতা মাত্র তিন বছরের ভিতরেই চিরতরে বিদায় দেয়া সম্ভব।
৬. শিক্ষা খাতে সংস্কার : স্বাধীনতার পর ৫৩ বছর পার হয়ে গেলেও যুগোপযোগী, কর্মমুখী ও বাস্তবসম্মত কোনো শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশে কোনো সরকার উপহার দিতে পারে নাই। আর এ কারণেই দেশের লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট, বিদেশে পাচার, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য দেশকে অন্য দেশের গোলাম বানানো ইত্যাদি সব প্রকারের বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে রয়েছে এদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত সমাজের একটা বড় অংশ। সুতরাং এই খাতে ব্যাপক সংস্কার করার মধ্য দিয়ে দেশকে একটা সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তর করা সম্ভব। এ কারণেই এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কুরআনের শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে সাজাতে হবে। কারণ কুরআন হলো সর্বোচ্চ বিজ্ঞান এবং সর্বোচ্চ আধুনিক শিক্ষার উৎস। একটা মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে আমরা এই শিক্ষার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাকে ফলো করতে পারি। অথবা মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার একটা কম্বিনেশন করে যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে পারি। যাতে প্রত্যেক মুসলমান ছাত্রছাত্রী স্কুল লেভেল শেষ করে কুরআন শরিফ সহি করে তেলাওয়াত করতে পারে এবং নিজে পড়ে সারমর্ম এবং কুরআনের ভাষা বুঝতে পারে ন। পাশাপাশি ছেলেরা ইমামতি করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে ও তাদের মা-বাবা/আপনজনের মৃত্যুতে জানাজা পড়াতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের ও তাদের নিজ নিজ ধর্মের মৌলিক শিক্ষাগুলো বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব লেভেলের শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো এবং বিশেষ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. মিলিটারি ট্রেনিং : দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য এদেশের প্রত্যেকটা নাগরিককে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তারই অংশ হিসেবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য মিলিটারি ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৮. আনসার বাহিনীর সংস্কার : আমাদের দেশে রয়েছে ৬৮ লাখের এক বিশাল প্রশিক্ষিত আনসার বাহিনী। তাদেরকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে এবং তাদের বেতনভাতা অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে পজিটিভ মোটিভেশনের মধ্য দিয়ে তাদের সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসতে হবে।
৯. ব্যবসায়ী বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ : ব্যবসায়ী বন্ধুদের জন্য বলছি, আপনারা এমন একটা পেশায় নিয়োজিত যে পেশা ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর। এবং শুধু এই একটিমাত্র পেশা সম্পর্কে রাসূল সা: বলেছেন, “সৎ ব্যবসায়ীরা আমার সাথে একসাথে জান্নাতে বসবাস করবে।” সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোচ্চ সম্মানের মর্যাদার অধিকারী হওয়ার সুযোগ আপনাদেরই রয়েছে। দেশের শাসন ক্ষমতায় যারাই আসুক না কেন আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে কোনো শাসকই দেশকে সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না। আপনারা দয়া করে দেশের স্বার্থে, আপনাদের স্বার্থে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করুন। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টগুলো সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন, অডিট স্ট্যান্ডার্ড মেনে (ইন্টার্নাল এবং এক্সটার্নাল) অডিটটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করুন, ইনকাম ট্যাক্স সঠিকভাবে পরিশোধ করুন তাহলে বর্তমান যে পরিমাণ ট্যাক্স দেশে আদায় হয় তার কমপক্ষে ১০ গুণ ট্যাক্স এদেশে আদায় হবে ইনশা আল্লাহ। দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে, দেশ সমৃদ্ধ হবে, দ্রব্যমূল্যের দাম মানুষের নাগালের ভিতর থাকবে, বাজারে অস্থিরতা থাকবে না। আবার আপনারা আমরা সবাই সঠিকভাবে পরিমাণ মতো জাকাত এবং ওশোর ও জিজিয়া কর যদি প্রদান করি তাহলে বৈদেশিক কোনো সাহায্য সহযোগিতা এবং সুদভিত্তিক কোনো এনজিওর কার্যক্রম ছাড়াই শুধুমাত্র জাকাতের টাকায় এ দেশ থেকে তিন বছরের ভিতরেই দরিদ্রতা এবং বেকারত্বকে চিরতরে বিদায় দিতে পারব ইনশা আল্লাহ। আপনাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা যদি সঠিকভাবে অ্যাকাউন্টস এবং অডিট মেইন্টেইন না করেন ট্যাক্স, জাকাত, ওশোর সঠিক ভাবে পরিশোধ না করেন তাহলে মনে রাখবেন আঠারো কোটি মানুষের হক আপনি নষ্ট করছেন আর এই মানুষের হক নষ্ট করে আপনি আখিরাতে তো নাজাত পাবেনই না আর দুনিয়ায় আপনাদের পূর্বসূরিদের দু-একটা বিষয়ে যদি লক্ষ করেন, দেখবেন আল্লাহ কিছু সময়ের জন্য ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না। যখন ধরে তখন দাড়ি কেটেও বাঁচা যায় না দাড়ি রেখেও বাঁচা যায় না। আপনাদেরই একজন অগ্রজ অনেক বড় গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক যখন মৃত্যুকালে নিকটবর্তী চিকিৎসক এবং নার্সদেরকে ডেকে বলেছিলেন, আমার ব্যবসায়ের পুরো সম্পত্তির মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিব শুধু আমার বুকের ব্যথাটুকু কমিয়ে দাও না। সেদিন শুধু বুকের ব্যথাটুকু কেউ কমাতে পারে নাই। এখন আমাদের কেউ যদি আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তির কথা বিশ্বাস নাও করে তাহলে মৃত্যু যে অবধারিত এবং পাপী মানুষের যে মৃত্যু যন্ত্রণাও অবধারিত এটা তো আমরা অন্তত চোখের সামনেই দেখছি। সুতরাং আপনি যদি প্রকৃত ব্যবসা শিখতে চান রাসূলের জীবনী পড়ুন, আপনি যদি ব্যবসা করে আখেরাতে সফল হতে চান এবং দুনিয়াও সর্বোচ্চ সম্পদশালী হতে চান তাহলে ওসমান রা: আব্দুর রহমান বিন অফ রা:-এর জীবনী পড়ুন। দু’জনই দুনিয়া থেকে জান্নাতের সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন আবার আব্দুর রহমান বিন আউফ ব্যবসায়ের মাত্র তিনটা নীতি ফলো করে শ্রেষ্ঠ ধনী হয়েছিলেন। শুধু তাই নয় মৃত্যু কালে তিনি যে সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন তার পরিমাণ ৫২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আজ দেড় হাজার বছরের বেশি পার হওয়ার পরও বর্তমান বিশ্বের সেরা ধনীর থেকে অনেক গুণ বেশি। সুতরাং আব্দুর রহমান আউফের ব্যবসায়ের তিনটা নীতি ফলো করুন। নীতি তিনটা ছিল: সততা ও নিষ্ঠা, নগদ লেনদেন ও স্বল্প মুনাফা এবং পণ্য মজুদ না রাখা। সুতরাং আপনার নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সৎ ব্যবসা করুন, সঠিকভাবে হিসাব ও অডিট পরিচালনা করুন, সঠিকভাবে ট্যাক, জাকাত, ওশোর প্রদান করুন, কৃত্রিম সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলুন তাহলে দুনিয়ায়ও সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক হতে পারবেন আর দুনিয়া থেকে জান্নাত আদায় করে নিতে পারবেন।

১০. খাদ্যে ভেজাল : বাংলাদেশ হলো পৃথিবীর একমাত্র দেশ যে দেশ নিজেদের খাদ্যে নিজেরাই বিষ মিশায় মনে রাখা দরকার একজন মানুষ যখন একজন মানুষকে গুলি করে বা অন্য কোনো অস্ত্র দ্বারা হত্যা করে তখন একজন মানুষকে হত্যার দায়ে একজন মানুষের ফাঁসি হয় কিন্তু খাদ্যে ভেজাল দিয়ে বিষ মিশিয়ে আপনি কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করছেন কেয়ামতের ময়দানে কোটি কোটি বার আপনার ফাঁসি হতে পারে। সুতরাং দয়া করে মনে রাখবেন ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীর প্রতি বিনীত অনুরোধ খাদ্যে ভেজাল দেয়া থাকে বিরত থাকবেন।
১১. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি অনুরোধ : সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বন্ধুদের উদ্দেশে বলছি। যারা সরকারি চাকরিতে এসেছেন তারা অবশ্যই দেশকে ভালোবেসে, দেশের সেবা করার জন্য এসেছেন। আর মনে রাখতে হবে নিজের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে সততার সাথে পালন করাই হলো সর্বোচ্চ দেশপ্রেম। আর যদি আপনারা দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন না করেন অথবা অনীহা প্রকাশ করেন তাহলে আপনারা সরকারের যেসব সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন এটা হবে অবৈধ। পাশাপাশি আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে অথবা কম করে যদি সুযোগ সুবিধা বেতনভাতা পুরোপুরিভাবে ভোগ করেন আবার আরেকটা বাহিনী তাদের নিজেদের কাম কাজ সব ফেলে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারাও শুধু তাদের নির্ধারিত বেতনভাতাই ভোগ করছেন এতে আর একটা বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ আপনারাই করে দিচ্ছেন।
১২. নারীর অধিকার : আমাদের দেশে প্রায় ৫০ শতাংশ নাগরিক নারী। সুতরাং এই বিশালসংখ্যক নারীদের কাজে না লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কর্মসংস্থানগুলোতে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটু লক্ষ করলে আমরা দেখব যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কো-এডুকেশন নেই সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ভিতরে সবচেয়ে ভালো করছে। যেমন সব ক্যাডেট কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জেলা স্কুল, কর্নেশন স্কুল, শহীদ আনোয়ারা, আদমজি স্কুল ও কলেজসহ যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালো কোনোটায়ই কো-এডুকেশন নেই। সুতরাং যারা সহশিক্ষার কথা বলছেন তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আসলে কী চাচ্ছেন? আমরা যদি দেশের বাহিনীগুলোর দিকে তাকাই সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরও ১০ শতাংশ নারী বাহিনীগুলোতে নেই। এ কারণেই বাহিনীগুলোতে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং সর্বক্ষেত্রে পর্দা নিশ্চিত করতে হবে। আবার গার্মেন্টসহ সব কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতার সাথে, পর্দার সাথে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের জন্য আলাদা গার্মেন্ট, আলাদা অফিস, আলাদা হাসপাতাল (যেখানে চিকিৎসক ও নার্স হবে নারী), আলাদা পরিবহনব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ইনশাআল্লাহ। এখানে উল্লেখ্য যে, ইসলামে নারীদের কোনো কাজে নিষেধ নাই, মুসলিম নারীরা শুধু পর্দার সাথে করবে এবং সরকারকে তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. মানুষ হত্যা গুম বন্ধ করতে হবে : “একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা সারা পৃথিবীকে হত্যা করার শামিল।” (সূরা মায়েদা : ৩২)। সুতরাং আমি পুলিশসহ সব বাহিনীর সদস্যের প্রতি বিনীত অনুরোধ করব দয়া করে জীবনে আর কোনো দিন কারো আদেশে কোনো নিরপরাধ মানুষকে গুলি করবেন না অথবা গুলি করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিবেন না। কারণ আপনি গুলি করছেন না আবার বাধাও দিচ্ছেন না, দু’জনেই সমান অপরাধী। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বলব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যখনই ব্যারাকের বাইরে জাতীয় নির্বাচনসহ সিভিলে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয় অবশ্যই তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে এবং এর জন্য স্থায়ী আইন পাস করতে হবে।
১৪. সুদ ও ঘুষ : সুদ এবং ঘুষের ব্যাপারে যেটা বলব, “আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (সূরা বাকারা : ২৭৫)। রাসূলের হাদিস, “সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক এবং সুদের সাক্ষী এদের প্রতি আল্লাহর রাসূলের লানত (মুসলিম: ৪১৭৭, আবু দাউদ: ৩৩৩৩)। অন্য হাদিসে আছে, “সুদের গুনাহের ৭০টি স্তর রয়েছে তার মধ্যে সর্ব নি¤œস্তর হচ্ছে আপন মায়ের সাথে জিনা করা।” (সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৬৫)। “রাসূল স: ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষদানকারী উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন।” (আবু দাউদ : ৩১০৯)। সুতরাং সুদ এবং ঘুষের ব্যাপারে এই আয়াত এবং হাদিস জানার পর কোনো স্বাভাবিক মানুষ এর সাথে জড়িত থাকতে পারে না। এ দেশের যত প্রকারের বৈষম্য আমরা দেখি তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সুদ এবং ঘুষ, যেমন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইনফ্ল্যাশন এবং ধনী-দরিদ্রের অস্বাভাবিক বৈষম্য ইত্যাদি। সরকারের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাকে (ব্যাংক, বীমাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান) সুদ মুক্ত করা। কাজটা খুব কঠিন না, খুবই সহজ। শুধু সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের সমান শাস্তির (দৃষ্টান্তমূলক) বিধান রেখে আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে। এই দু’টি জঘন্য অপরাধের ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
১৫. সংবিধান : দেশের বর্তমান সংবিধানের জন্মই হয়েছে অন্য দেশের মাটিতে। সুতরাং সংবিধান নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে যে সংবিধান এ দেশের মানুষের সংস্কৃতি, প্রয়োজন, অপ্রয়োজন বিবেচনা করেই রচিত হবে।
১৬. আইন ও বিচার : আইন ও বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হবে। মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য প্রত্যেকটা মামলা লিপিবদ্ধ হওয়ার পর তিন মাসের ভিতর থানাকে রিপোর্ট দিতে হবে এবং কোর্টে থানা রিপোর্ট পৌঁছানোর পর সর্বোচ্চ এক বছরের ভিতর যেকোনো মামলার নিষ্পত্তি করে রায় দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলেই বাদির অধিকার থাকবে ঊর্ধ্বতন কোর্টে সংশ্লিষ্ট কোর্ট বা থানার বিরুদ্ধে মামলা করা। এ বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে।
১৭. মানুষের হয়রানি কমানো : মানুষের হয়রানি কমানোর ক্ষেত্রে অসহায় মানুষের পাশে থাকার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি গ্রামে, ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে, উপজেলায়, পৌরসভায়, সিটি করপোরেশনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা কমিটি থাকবে। মানুষ যখনই তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে অথবা সরকারের যেকোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি কর্তৃক হয়রানির শিকার হবেন সাথে সাথে স্থানীয় কমিটি জনগণকে সাথে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা অথবা জনপ্রতিনিধিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।
১৮. জনসচেতনতা বৃদ্ধি : দেশের প্রতিটা নাগরিককে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন চোরকে উৎখাত করে আবার ডাকাতকে তার স্থলাভিষিক্ত না করি। বর্তমান সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই সতর্ক থাকা দরকার যে, বিগত ১৬ বছর যাবৎ মানুষ যে সব হয়রানির শিকার হয়েছে ইতোমধ্যে তার কিছু পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, বাড়ি দখল, ব্যবসা বাণিজ্য দখল অথবা অন্যান্য মৌলিক অধিকার হরণ ইত্যাদির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। সুতরাং এসব মজলুম জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে আপনারা মহান আল্লাহর কাছে যেমনিভাবে দায়ী হবেন এবং একটা পর্যায়ে জনরোষের সম্মুখীন হবেন।
পরিশেষে বলতে চাই, এসব কাজগুলো করা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আমাদের ছেলেরা অল্প কয়েক দিনের আন্দোলনে যে কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন তার থেকে অবশ্যই কঠিন নয়। উপরে বর্ণিত সংস্কারগুলো সমাপ্ত করা সম্ভব না হলেও শুরুটা তো করা যায়। আর বর্তমানে দেশের প্রতিটা রাজনৈতিক দলই যেহেতু দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজমুক্ত, বিদেশী প্রভুমুক্ত, বৈষম্যহীন একটা রাষ্ট্র চাচ্ছেন যেখানে রাষ্ট্রক্ষতায় থাকবে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব। সুতরাং আমেরিকাপন্থী, রাশিয়াপন্থী, চীনপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, ভারতপন্থী কোনো পন্থীদের তো আর প্রয়োজন নেই, ২৪-এর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশপন্থীরাই যথেষ্ট একটা সুন্দর ও আদর্শ রাষ্ট্র উপহার দেয়ার জন্য, যার সংবিধান হতে পারে একমাত্র আল-কুরআন এবং অভিভাবক হবেন মহান আল্লাহই। “বস্তুত আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের ভালোভাবে জানেন। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।” (সূরা নিসা : ৪৫)।