বনের ভেতর মায়ের সাথে বাস করতো ছোট্ট সিংহ হিরন। মা তাকে বলেছিল, ‘তুমি এখন ছোট, প্রকৃতি থেকে তোমার শেখার অনেক কিছু আছে। যদি মন দিয়ে দেখো, সব কিছু তোমাকে কিছু না কিছু শেখাবে।’ তাই হিরন ভাবল, সে আজ প্রকৃতির কাছ থেকে কিছু শিখবে।
হাঁটতে হাঁটতে হিরন এক বড় গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ তার চোখে পড়ল, গাছের ডালে একটি কাঠঠোকরা বসে ফল খাচ্ছে। হিরন তার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ‘হ্যালো! তুমি কী করছ?’
কাঠঠোকরা সিংহ হিরনকে দেখে একটু ভয় পেয়ে প্রথমে চুপ করে থাকল, কিন্তু হিরনের বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি দেখে তার ভয় কেটে গেল। সে বলল, আমি হিজল, আমি ফল খাচ্ছি। তুমি কে?
আমি হিরন, বনের ছোট্ট সিংহ হিরন আবার বলল। তুমি কি আমার বন্ধু হবে?
হিজল একটু ভাবল, তারপর খুশি হয়ে বলল, অবশ্যই! তখন হিরন বলল, বন্ধু তুমি তো উড়ে উড়ে বনের সব কিছু দেখেছ, অনেক কিছু জানো। আমাকে কি এই প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে?
তুমি প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চাও, আমি তোমাকে অনেক কিছু জানতে এবং শিখতে সহযোগিতা করতে পারি।
হিরন উত্তেজিত হয়ে বলল, তাহলে চলো! আমি খুবই আগ্রহী। হিরন আর হিজল প্রথমে একটি ছোট্ট পুকুরের কাছে গেল। পুকুরের মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ খেলা করছিল। হিজল বলল, দেখো, মাছেরা সবসময় একসাথে থাকে। যখন কোনো শিকারি আসে, তারা দল বেঁধে পালিয়ে যায়। এটি আমাদের শেখায় যে দলবদ্ধতা আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে। হিরন মাথা নেড়ে বলল, এটা খুব ভালো। আমরা যদি একসাথে কাজ করি, তাহলে আমরা সবসময় নিরাপদ থাকব।
হিজল বলল, তুমি ঠিক বলেছ বন্ধু। এরপর তারা বনের একটি বিরাট বটগাছের কাছে গেল। গাছটি অনেক পুরোনো, তার ডালপালা চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতে অনেক পাখি ও প্রাণী বাস করে। হিজল বলল, এই গাছ আমাদের শেখায় ধৈর্যশীল হতে। এটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে, অনেক সময় নিয়েছে, কিন্তু এখন এটি এতটাই শক্তিশালী যে, অনেক প্রাণী এর ওপর নির্ভর করে।
হিরন বলল, আমাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে এবং সময়ের সাথে সাথে শক্তিশালী হতে হবে। কাঠঠোকরা হিজল এরপর হিরনকে বনের মধ্যে আরো গভীরে নিয়ে গেল। সেখানে কিছু পাখি তাদের বাসা বানাচ্ছিল। হিজল বলল, দেখো, পাখিরা কত যতœ নিয়ে তাদের বাসা তৈরি করে। তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। যখন একটি পাখি খাবার খুঁজতে যায়, আমরা অন্য পাখিরা বাসায় ছোট্ট বাচ্চাদের পাহারা দেয়। এটাই হলো সহযোগিতা। সিংহ হিরন মুগ্ধ হয়ে বলল, আমরাও যদি একে অপরকে সাহায্য করি, তাহলে আমাদের জীবনের কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে, তাই না?
ঠিক তাই, বলল হিজল।
এভাবে হিরন ও হিজল সারা দিন ধরে বনের নানা জায়গা ঘুরে বেড়াল এবং প্রকৃতি থেকে নতুন নতুন শিক্ষা পেতে লাগল। তারা বুঝতে পারল যে দলবদ্ধতা, ধৈর্য ও সহযোগিতা তাদের জীবনের অনেক সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে। হিরন ও কাঠঠোকরা হিজলের বন্ধুত্বে সিংস হিরনের মা খুব খুশি হলো। তার বুদ্ধির প্রশংসা করল এবং হিরন ও হিজলকে বলল, মনে রাখবে প্রকৃতির শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা।