আশপাশে তেমন কোনো শিক্ষার্থী দেখতে পাচ্ছি না। আমার কিছু বন্ধু আসার কথা। ওরাও এখনো পর্যন্ত আসেনি। ফুটওভারব্রিজের ওপর গিয়ে উঠলাম। এখানে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কিছু শিক্ষার্থী এসে দাঁড়িয়ে আছে এবং আরো কিছু আসছে। এরই মধ্যে কাজীপাড়ার দিক থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে তাদের মিটিংয়ে এসে গোল চত্বরে শাহআলী প্লাজার নিচে অবস্থান নেয়

১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার,
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ এসে পৌঁছাই। চারদিকে জায়গা-জায়গায় পুলিশ অবস্থান নিয়ে আছে। আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী ১১টায় শুরু হবে আমাদের বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনের শাটডাউন কর্মসূচি। ১৫ মিনিটের মতো চা, খেয়ে কাটালাম। আশপাশে তেমন কোনো শিক্ষার্থী দেখতে পাচ্ছি না। আমার কিছু বন্ধু আসার কথা। ওরাও এখনো পর্যন্ত আসেনি। ফুটওভারব্রিজের ওপর গিয়ে উঠলাম। এখানে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কিছু শিক্ষার্থী এসে দাঁড়িয়ে আছে এবং আরো কিছু আসছে। এরই মধ্যে কাজীপাড়ার দিক থেকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লী নেতাকর্মীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে তাদের মিটিংয়ে এসে গোল চত্বরে শাহআলী প্লাজার নিচে অবস্থান নেয়।

এখনো আমাদের শিক্ষার্থীরা অতটা এসে পৌঁছায়নি। আমরা যারা আছি তারা একটু বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম। একটা মেয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, আন্দোলনের কর্মসূচি কি তবে মিরপুর-১২ তে হবে? তাকে বললাম, এখানেই তো হওয়ার কথ। আমরা আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখি। ইতোমধ্যে, সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়ায় ফেসবুক, মেসেঞ্জারে গিয়ে কিছু জানতেও পারছি না। ফুটওভারব্রিজ থেকে নেমে মিরপুর-১১ এর দিকে গিয়ে দেখি আমার বন্ধুদের মধ্যে কেউ আসছে কি না। ওখানে গিয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের দু’জনকে পাই। আমরা মিলে তখন পুনরায় ফুটওভারব্রিজের দিকে রওনা দেই। তখন ফুটওভারব্রিজের নিচে বন্ধু সব মেট্রোরেল থেকে নেমে এলো। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী এখানে এবং ওপরে জড়ো হলো। আমরা চারজন ফুটওভারব্রিজে উঠে এলাম। এখান থেকে সবাই সামনের শাহ আলীর নিচে জড়ো হওয়া ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে আছি এবং ওরাও আমাদের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন রকম হুঁশিয়ারি ও ভয়ভীতিমূলক কথাসহ নিজেদের ভাষণ দিয়ে যাচ্ছে মাইকে। অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ নিজেদের অবস্থানেই আছে। সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ের ডাকে আমরা সবাই মিরপুর-১১ এর দিকে এগিয়ে যাই। আর সেখান থেকেই ‘কোটা না মেধা? মেধা, মেধা। তুমি কে? আমি কে রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার। আমার ভাই মরল কে হাসিনা তুই জবাব দে?’ এসব স্লোগানের বুকে আরেক ৫২ নামিয়ে এনে আমাদের এই স্রোত মিরপুর-১১ থেকে বাঁক নেয় মিরপুর-১০ এর গোল চত্বরের দিকে। একসময় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী আর আমাদের উদাত্ত কণ্ঠ এসে পৌঁছায় মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে এবং এই জনসমুদ্র দেখা মাত্রই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লী নেতাকর্মীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। মিরপুর-১০ চলে আসে সাধারণ অহিংস ছাত্র আন্দোলনকারীদের দখলে। আর আমরা শান্তপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। হঠাৎ ৩০-৩৫ মিনিট পর মিরপুর-১ এবং মিরপুর-২ উভয় দিক থেকে আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে থাকে। অনেকের চোখ মুখ জ্বালাপোড়া শুরু করে দিলে পাশে পালিয়ে যাওয়া লীগ কর্মীদের চেয়ারগুলো এনে জ্বালিয়ে দেয়। এরই মধ্যে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করলে আমরা গোল চত্বর ত্যাগ করে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাই। এক ভাগ মিরপুর-১১ এর দিকে পিছু হটে, আরেক ভাগ কাজীপাড়ার দিকে পিছু হটে, যে ভাগে আমি ছিলাম। একটু পিছু হটে আমরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকি আর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে যায়। রাস্তার মধ্যে জায়গায়-জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে ও টুথপেস্ট দিয়ে আমরা নিজেদের গ্যাস থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর পুলিশের সাথে হাতে অস্ত্র নিয়ে যোগ দেয় পালিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ওদের সাথে আমাদের ইটপাটকেল দিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েই যাচ্ছে। বুলেটের ভয় আমাদের কাবু করতে পারে, পারে না এখন আর। গতকাল আমাদের পথের সঙ্গী রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ রংপুর পার্কের মোড়ে বুক পেতে দিয়েছিল ওদের। সে বিশ্বাস করত তার গণতন্ত্র, তার স্বাধীন রাষ্ট্র কখনো তার বুকে বুলেট ছুড়তে পারে না কিন্তু রাষ্ট্র তার কথা রাখেনি, আবু সাঈদের গণতন্ত্র তার বুকে বুলেট ছুড়তে বিন্দুমাত্র কার্পণ্যতা করেনি। আর গতকাল সারা দেশে মোট সাতজন শিক্ষার্থী গুলিতে নির্মম হত্যার শিকার হয়।

এই আন্দোলনে কেবল ছাত্রছাত্রীরাই নয়, আমাদের সাথে অনেক মায়েরাও নেমেছে তার প্রিয়তম কন্যার সাথে, নেমেছে বাবারাও। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করতে করতে এবং গরমে একসময়ে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে সামনের থেকে কিছুটা পেছনের দিকে এসে রাস্তায় বসে পড়ে। সাথে সাথে একটা মেয়ে পাশ থেকে দৌড়ে এসে আমাকে একটি পানির বোতল এনে দেয় এবং মেয়ের মা-ও ওর সাথে আসেন, মেয়ের মা উনার হাতে থাকা ছোট পাখাটা আমার মাথার ওপর ধরেন। কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ইতোমধ্যে, কয়েক জনের গায়ে গুলি লাগে। উনাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। একটা ভাইয়ের মুখে এসে রাবার বুলেট লাগে, আমরা তাকে হাসপাতলে পাঠাতে চাইলেও তিনি যেতে রাজি হননি। ছাত্রীরা আমাদের রাস্তার পাশ থেকে ইটপাটকেল সরবরাহ করাসহ স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। মিরপুরের সাধারণ জনগণ সারাদিন আমাদের পানি, কেক, পাউরুটি, বিস্কিট দিয়ে গেছেন। একজন বৃদ্ধ লেবু শরবত বিক্রেতা প্রায় ২০০ লেবুর শরবত বিনামূল্যে আমাদের বিতরণ করেছেন। এরই মধ্যে এবার কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচে অস্ত্রসহ কিছু ছাত্রলীগ এসে পেছন দিক থেকেও হামলা করতে শুরু করে। আর আমরা মধ্যখানে থেকে আবার নিজেদের দুইভাগ করে একভাগ পেছনে এসে ছাত্রলীগের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে আরেক ভাগ তো সামনেই। প্রায় কিছুক্ষণ পরপরই দু-একজন গুলিবদ্ধ হচ্ছে। কিছু ছাত্রী সামনের দিকে এগিয়ে এসে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ধরে স্লোগান দিচ্ছি। এর মাঝে দু’জন আমরা যারা সামনে থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে যাচ্ছিলাম তাদের ছেড়েও ১০-১২ হাত সামনে এয়ে গিয়ে দুটো প্ল্যাকার্ড ধরে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে- গুলি কর, কর গুলি। একজন গিয়ে দু’জনকে টেনে নিয়ে আসে।
তিন ঘণ্টা পুলিশ ও লীগের যৌথ হামলায় আমাদের এই বিশাল জনস্রোতের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর এক সময় পুলিশ ও লীগ কর্মীরা গোল চত্বর ছেড়ে পিছু হটে যায় এবং আমাদের পেছনের ছাত্রগুলোও বেশ আগেই উধাও হয়ে যায়। তখন পুনরায় আমরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকি এবং এরপর থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা গোলচত্বরে অবস্থান নেয়। এরই মধ্যে কে বা কারা যেন গোলচত্বর পুলিশ বক্সটিতে আগুন ধয়ে দেয় এবং পুলিশ বক্সটি পুড়ে ওপরের ফুটওভারব্রিজে চলে যায় আগুন। আমরা যারা সাধারণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তারা এসবের দায়ভার নেবো না। আবার ফুটওভারব্রিজটির ওপরেই মেট্রো স্টেশন। আগুন ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে এবং ওভারব্রিজের পুরো চাল পুড়ে যাচ্ছে প্রায় পাশে থাকা দুই ভবনও ঝুঁকির মধ্যে। অথচ এখানে একই সাথেই রয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ওভারব্রিজের আগুনের উত্তাপে ফায়ার সার্ভিসের দেয়ালের ভেতরের দুই নারিকেল গাছের ডগাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ওদের বের হয়ে না আসা দেখে আমরা অনেকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন দেই এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস বের হয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।

১৯ জুলাই, শুক্রবার

দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউন কর্ম সফল করতে রাজধানীর অন্যান্য জায়গায় সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। ইতোমধ্যে কয়েক জায়গায় পুলিশ ও লীগের হাতে হামলার শিকার হয় তারা। আমাদের মিরপুরের কর্মসূচি শুরু হবে জুমার নামাজের পরই। আগারগাঁও থেকে ২:২-এর দিকে রওনা দিয়ে ১৫-২০ মিপর কাজীপাড়া এসে নেমে পড়ি। যে দু’-একটি লেগুনা, রিকশা ও সিএনজি অটো চল সেসব ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে। মিরপুর এখন শিক্ষার্থীদের দখলে। আজকে শিক্ষার্থীদের সাথে অনেক সাধারণ জনগণও নেমেছে। কাজীপাড়া থেকে মিরপুর-১০ পৌঁছেই দেখি গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে রিকশায় ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আমি রিসাল এক ফাঁকে ফোন দিই ওদের আসার কথা এখনো আসে। সামনের দিকে কোনো পুলিশ দেখা যাচ্ছে না। গোলচত্বর ছাত্র-জনতার দখলেই। গতকালের তুলনায় আজ প্রায় দ্বিগুণ ছাত্র-জনতা মিছিলে। কিছু পুলিশের অবস্থান মিরপুর-১ এর দিকে। কিন্তু কাজীপাড়ার রোডে অর্থাৎ যে দিকটায় আমি ওখানে একটু পরপরই অতর্কিত গুলিতে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হচ্ছে। কোথা থেকে আসছে এসব গুলি তা বুঝতে সময় লাগে। পাশের কিছু বহুতল ভবন এবং মেট্রোরেলের লাইনে আগে থেকেই অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিল পুলিশ ও লীগের কর্মী। একটু পেছনের দিকে যাই এবং আমরা কিছু লোক আল হেলাল হাসপিটালের সামনে দাঁড়াই। গুলিবিদ্ধদের এখানে এনে কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিংবা কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াই সবাইকে সোহরাওয়ার্দী ও পঙ্গুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আকস্মিক আমাদের লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে, সবাই চট করে হসপিটালে ঢুকে পড়ি। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে আমরা কয়েক জন পাশের গলিতে গিয়ে দাঁড়াই। রিসালের ফোন এলো, ও কাজীপাড়া মেট্রোর নিচে আছে। আমি গলি থেকে বের হয়ে কাজীপাড়া গিয়ে ওর সাথে এক হয়ে আমরা সামনে হাঁটা ধরে গোলচত্বর গিয়ে পৌঁছাই। সবসময় সতর্ক হয়ে থাকতে হয়, হাঠাৎ কোন দিক থেকে গুলি এসে লেগে যায় তা বিন্দুমাত্র বলা যায় না। কিছু আন্দোলনকারী একটি ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেছে। সবার সন্দেহ ওই ভবনে থেকেও গুলি করা হচ্ছে। আমরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছি। কিছুক্ষণ পর মিরপুর-১ এর দিক থেকে একটি সাঁজোয়া যান এবং পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে এয়ে আসে। আমরা পিছু হটে যাই। তারা গোলচত্বর দখলে নেয়। এ দিকে ভবনে ও মেট্রো লাইনে লুকিয়ে থাকা পুলিশ ও লীগ গুলি ছুড়ছে। এদিন প্রচুর ছাত্র-জনতা মিরপুরে গুলিবদ্ধ হয় এবং কেউ কেউ হাসপাতালে মারা যান। হিসাবটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না, তবে সংখ্যাটা যে নেহায়েত কম নয় তা জানি। আমরা কয়েকজন এসে একটি গলির মুখে দাঁড়াই।

একজন ১১-১২ বছরের একটি মেয়েকে বকাবকি করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে বাসা থেকে বের হতে বারবার নিষেধ করার পরও মেয়ে এসব তাণ্ডব দেখতে চলে এলো রাস্তায়। এরই মাঝে র্যাবের হেলিকপ্টার এসেও ওপর থেকে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করে এবং একটু পরপরই আসতে থাকে। সামনের পুলিশের সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ চললই। আর দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশ গোলচত্বর ছেড়ে আবার পিছু হটে। আমি আর রিসালসহ আমরা কজন গোলচত্বর থেকে আবার কাজীপাড়া আসি। আর এখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মেট্রোলাইন থেকে গুলি করা পুলিশদের ধরতে স্টেশনের নিচের গেট তালা ভেঙে দোতলায় উঠে। সবার আগেই দৌড়ে উঠে যায় ১২-১৫ বছরের ১৫-১৬টি বাচ্চা ছেলে। কিন্তু সাধারণ জনতা খালি হাত আর ইট দিয়ে দোতলার গেট খুলতে ব্যর্থ হয়। কয়েকজন মেট্রো স্টেশনের নিচে থাকা বড় বক্সগুলোয় আগুন লাগাতে উদ্যত হলে আমরা গিয়ে তাদের থামাই। ওদিকে ততক্ষণে গোলচত্বরের গতকালের পোড়া ফুটওভারব্রিজটি আবার জ্বলে ওঠে। মিরপুরে আজ কোনো গণমাধ্যম নেই। ত্রিমুখী আক্রমণে আজ যেন রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে মিরপুর। একটু পরপরই গুলি আর একেকজন গুলিদ্ধ মানুষ, সে সব দৃশ্য কেবল আমরা প্রত্যক্ষদর্শীরাই জানি। গণমাধ্যমগুলো স্বাধীন, স্বচ্ছ নয়। তারা কেউই এ তথ্যগুলো সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারে না। সরকার এমন নির্বিচারে গুলি করে গত দুইদিন থেকে দেশে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

লেখক : সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন