ম্যাঁও ম্যাঁও! ম্যাঁও ম্যাঁও! বিড়াল ডাকছে। বিড়ালের ডাকে পপির হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে জেগে সে কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকল। এপাশ ওপাশ করল। কিছু একটা ভাবল। কী যে-ভাবল কে জানে। বিরক্তিভরা মনে দু-হাত দিয়ে চোখ কচলাতে লাগল সে। ভাবখানা এমন যেন সে এখনি জাগতে চায়নি। বিড়ালের ডাকে তার সাধের ঘুমটা অসময়ে ভেঙে গেছে। বিড়ালটা তবু আপনমনে ডেকেই চলেছে- ম্যাঁও ম্যাঁও! ম্যাঁও ম্যাঁও! যেন একটি অ্যালার্ম ঘড়ি আরকি! পপি বিছানা থেকে না-ওঠা পর্যন্ত ওর ম্যাঁও ম্যাঁও কিছুতেই থামবে না। বিড়ালটার ম্যাঁও ম্যাঁও থামাতে বলা যায় পপি বিছানা ছাড়তে বাধ্যই হলো।
বিড়ালটি বাড়িতে আসার পর থেকে পপি কিছু বিষয় অত্যন্ত মনোযোগসহকারে খেয়াল করল। এই বিড়ালের শরীরটা অন্য বিড়ালের মতোই তুলতুলে নরম। হলুদাভ শরীর। তবে শরীরটা কেমন যেন বরফশীতল। মনে হয় ওর শরীরটা যেন রক্ত-মাংসের তৈরি নয়। কিছু একটা ধাতব পদার্থের। বড়ই চটপটে স্বভাব ওর। কেমন যেন যন্ত্রের মতোই ওর কাজ-কারবার। তবে ওর উচ্চতা, ডাকাডাকি, চলাফেরার ধরন এসব দেখলে ওকে বিড়াল না-ভেবে উপায় নেই।
বড় আদুরে স্বভাবের বিড়াল। খাবার সময় পপির শরীর ঘেঁষে এসে বসবে। মিঁও মিঁও ধরনের একপ্রকার ডাক ডাকবে। তবে খাবার দিলে খাবে না। খাবারে ওর বড়ো অরুচি। এই বিড়ালটিকে কখনো ইঁদুর ধরতে দেখা যায়নি। একটি তেলাপোকা বা ঘাসফড়িংও না। সারাদিন ও যে কী খায়- পপির জানা নেই। উদ্বিগ্ন মনে সে ভাবে, না খেতে খেতে শেষে ওটা আবার মরেই যায় কী না কে জানে।
তবে বিড়ালটা পপির বড় ভক্ত। সারাক্ষণ সে ওর পায়ের কাছে ঘুর ঘুর করবে। মিঁও মিঁও ডাকবে। আর খেলা করবে। লাফ-ঝাঁপ মারবে। কখনো বা ডিগবাজি খেলা খেলবে। ওসব খেলা খেলে সে পপিকে আনন্দ দিতে চাইবে। পপি ওকে একবার ডাক দিলেই হলো। আর রক্ষা নেই। সে যেখানেই থাকুক না কেন ওর কাছে ছুটে আসবে। এসে ওর পায়ে শরীর ঘষবে। ভারি আজব বিড়াল! এই বিড়ালটিকে পাওয়ার একটি মজার গল্প আছে। না শুনলে ঠিক বুঝা যাবে না কতটা মজার।
পপির বয়স তখন ছয় কী সাত বছর। একটু আধটু পড়াশোনা শিখছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মায়ের কাছে বসে তার পড়াশোনা চলে। এক রাতে পড়তে বসে পায়ের কাছে কিছু একটা কোমল পরশ অনুভব করল সে। কী ওটা? ভয়ে সে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠল। ওর আচানক লম্ফ দেখে মা-ও বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলেন- কী হয়েছে রে মা! এমন করছিস কেন তুই?
জবাবে পপি চিৎকার করে বলল, আমার পায়ে নরম কী যেন লেগেছে মা। বলেই আর কোনো কথা নেই- মূর্ছা গেল মেয়েটা। মেয়ের অবস্থা দেখে ভরকে গেলেন মা। উচ্চৈঃস্বরে কান্নাজুড়ে দিলেন তিনি। তার কান্না শুনে বাসার সবাই এসে জড় হলো। ব্যাপার কী! হয়েছে কী ওর- বুঝার জন্য সবাই পপির মাকে প্রশ্ন করতে থাকেন।
জবাবে পপির মা বলেন- ভয় পেয়ে মূর্ছা গেছে।
পপির দাদাভাই উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, কেন- কী দেখে ও ভয়টা পেলো?
দাদী জিজ্ঞেস করলেন, মাকড়শা দেখল নাকি? নাকি ওর শরীরের ওপর দিয়ে কোনো তেলাপোকা ছুটে গেল?
জবাবে পপির মা বললেন, ওসব কিছুই না মা। শুধু বলল ওর পায়ে নাকি নরম একটা কিছু লেগেছে। কী যে লেগেছে- বলার আগেই ঢলে পড়ল।
পপির দাদী তড়িঘড়ি করে পানি এনে ওর চোখমুখে ছিটাতে লাগলেন। আর গাঁইগুঁই করে কী যেন বলতে লাগলেন। পপির দাদাভাই আশপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলাতে লাগলেন। যদি বা কোনো কিছু চোখে পড়ে। দাদাভাইয়ের আবার চোখের সমস্যা। চশমা ছাড়া কিছু দেখতে পান না। সে সময় তার চোখে চশমাটাও ছিল না। তাই হয়তো কোনো কিছু দেখতে পাননি তিনি।
এদিকে পপি পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল। হতে পারে সেটি ওর দাদীর পানি ছিটানোর কারণে। অথবা অন্য কোনো কারণ। ততক্ষণে পপির বাবা কিছু বাজার-সওদা নিয়ে বাসায় ফিরলেন। ঘটনা শুনে তাকে মোটেও চিন্তিত মনে হলো না। তিনি শুধু মুখ টিপে হাসছিলেন।
ঠিক সে সময় শিলিংয়ের ওপর থেকে একটি বিড়াল ছানা পপির পড়ার টেবিলের ওপর লাফিয়ে নামল। টেবিলের ওপর দু-পা মেলে বসে ওটা মিঁও মিঁও ডেকে উঠল। হলুদাভ শরীর ওর। গোল গোল চোখ। কেমন যেন মায়া কাড়া। হঠাৎ বিড়ালছানাটাকে দেখে সবার মনে একপ্রকার স্বস্তি ফিরে এলো। সবাই ধরে নিলেন হয়তো এ অবোধ বিড়ালছানাটিই পপির পায়ে পরশ বুলিয়ে দিয়েছিল।
সে যাই হোক। পপি গোঁ ধরে বলল- আমি এ বিড়ালছানাটি পুষব বাবা। ওটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
মেয়ের অবোধ কথা শুনে মা বললেন- বিড়াল পুষলে শরীর থেকে সারাক্ষণ বিড়ালেরই গন্ধ বেরুবে। তাছাড়া বিড়াল বাসা-বাড়ি নোঙরা করে। তখন ওসব পরিষ্কার করবে কে? আমি বাপু পারব না। বলে তিনি একটু সরে দাঁড়ালেন।
মায়ের পর দাদী বললেন- বিড়ালের পশম পেটে গেলে কঠিন ব্যামার হয়। কোনো ওষুধে সারে না। কাজেই বিড়াল পোষা যাবে না।
দাদাভাই বললেন- বিড়াল একটি চোরা স্বভাবের প্রাণী। খাবার-দাবারে মুখ দেয়। তখন নানাবিধ রোগবালাই ছড়ায়। কাজেই এই বাড়িতে বিড়াল পোষা নিষেধ।
তখন পপি মুখখানা গম্ভীর করে হঠাৎ ভ্যাঁ করে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠল। ওর চিৎকার শুনে মনে হলো বাসায় বিরাট অঘটন ঘটে গেছে। তাই আশপাশের বাসাবাড়ি থেকে লোকজন ছুটে আসতে লাগল। অবস্থা বেগতিক দেখে বাবা ওকে কোলে তুলে নিলেন। সান্ত¡না দিয়ে বললেন- আজ থেকে এই বিড়ালছানাটা তোর। তুই এটিকে ঠিকমতো লালন-পালন করবি। কেউ কিছু বলবে না। আমি তোকে কথা দিলাম মা।
সেই থেকে বিড়ালছানাটি ওদের বাসায় ছিল। পপি ওর একটি নামও দিয়েছিল- টিনটন। টিনটন বলে ডাক দিলে বিড়ালছানাটি দিকদিশা হারিয়ে ওর কাছে ছুটে আসত। সে ওটাকে কোলে নিয়ে ওর মাথায় শরীরে হাত বুলিয়ে আদর করত। এভাবে ছানাটি একদিন ওর পরমপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
বছরখানেক থাকার পর বিড়ালছানাটি আর ছানা থাকল না। ওটা পরিণত বিড়াল হয়ে গেল। ওর জন্য আলাদা একটি ছোট্ট ঘরের ব্যবস্থা করা হলো। সেই ঘরটিতে বিড়ালটি থাকত। খেত আর ঘুমাত। এভাবেই যাচ্ছিল দিন। কোথাও কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা হলো শুধু ওর বাথরুম নিয়ে। ওকে নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগের জন্য পপি কতই না প্রশিক্ষণ দিলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। ওটা ইচ্ছেমতো সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াত। আর যেখানে খুশি বাথরুম করে কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখত।
এত অত্যাচার কার গায়ে সইবে? তার ওপর বিড়ালের মলমূত্রের বিকট দুর্গন্ধ! কী করা যায় এখন? বিড়ালটার একটি গতি করার জন্য বাড়ির বড়রা ভেতরে ভেতরে বিরাট ফন্দি আঁটতে লাগলেন। যে করে হোক আপদটাকে দেশান্তরী করতেই হবে।
সেদিন পপির বাবার অফিস ছিল না। পপি ছিল স্কুলে। সেই সুযোগে বিড়ালটিকে কৌশলে পাকড়াও করা হলো। তারপর ওটিকে বস্তাবন্দী করা হলো। বিড়ালের বস্তাটা সাথে করে পপির বাবা বড় রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। পরে দূরপাল্লার একটি ট্রাকের ওপর ওটা ছুড়ে দিয়ে আপদ বিদায় করলেন। পপি যখন বাসায় ফিরল, ট্রাকটি হয়তো বিড়ালের বস্তাখানি নিয়ে ততক্ষণে কয়েক শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে থাকবে।
বাড়ি ফিরে পপি তার টিনটনকে খুঁজতে লাগল। এদিক খুঁজল। ওদিক খুঁজল। কিন্তু খোঁজে তো আর পায় না। গেল কোথায় বেচারা। এভাবে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ওকে কোথাও না পেয়ে পপির যেন মন ভেঙে গেল। হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিলো বেচারি। ওর এরূপ কান্না শুনে মা ওকে নানাভাবে সান্ত¡না দিলেন। দাদা-দাদী কেউই বাদ থাকলেন না। সবাই সাধ্যমতো ওকে বুঝালেন। কিন্তু পপির মন তো আর বোঝ মানে না। টিনটনের জন্য কাঁদতে কাঁদতে একসময় সে মূর্ছা গেল।
মেয়ের অবস্থা বেগতিক দেখে বাবা অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেন। পপিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে ভর্তি করানো হলো। অবশ্য হাসপাতালে ভর্তির ঘণ্টাখানেক পরই ওর হুঁশ ফিরল। মা-বাবা, দাদা-দাদী স্বস্তি বোধ করলেন। সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য সপ্তাহখানেক পপিকে হাসপাতালেই রাখা হলো।
এরই মধ্যে ডাক্তার ওর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করলেন। একটি বাদে পরীক্ষার ফল সবকটিই ভালো ছিল। শুধু সিটি স্ক্যানের রিপোর্টটা ছিল ভিন্ন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার সাহেব বললেন- কোনো কারণে হয়তো ওর মনের ওপর প্রচণ্ড প্রেসার পড়েছে। ধকল সামলাতে পারেনি বলে মাঝারি ধরনের একটি স্ট্রোক হয়েছে। ব্রেইন স্ট্রোক। কেন হয়েছে তা আপনারাই হয়তো ভালো জানবেন। কাজেই আর দেরি করবেন না। জলদি ওর মনের চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করুন। নইলে আরো বড় কিছু হয়ে যেতে পারে।
ডাক্তারের কথাগুলো শুনে পপির বাবা বললেন, একটি পোষা বিড়াল ছিল। যাকে ও খুব ভালোবাসত। আমরা ওটাকে অনেক দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এটুকুই ব্যাস।
শোনে ডাক্তার সাহেব বললেন- বিড়ালটিকে জলদি ফিরিয়ে আনুন। আপনার মেয়ের ভালোর জন্য বলছি। নইলে ওকে বাঁচাতে পারবেন না।
ডাক্তার সাহেবের কথা শুনে পপির বাবা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। সেই বিড়ালটিকে তিনি এখন কোথায় খুঁজে পাবেন? কিন্তু ওকে পাওয়া যে খুবই জরুরি। না পেলে পপিকে বাঁচানো যাবে না। কী করা যায় এখন?
পপি তখনো হাসপাতালে ভর্তি। বাবা সেদিন তার অফিসে এসে গভীর ভাবনায় পড়ে গেলেন। সুনামখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী তিনি। রোবট নিয়ে তার যত গবেষণা, যত কাজ-কারবার। রোবট বিজ্ঞানী হিসেবে দেশজোড়া তার অনেক সুনাম ও সুখ্যাতি। দেশবিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েও এই মুহূর্তে তিনি বড় অসহায় বোধ করতে লাগলেন। মেয়ের জন্য তার একটি বিড়াল চাই। পোষা বিড়াল। ডাক্তার বলেছে- বিড়ালটি না হলে ওকে বাঁচানো যাবে না। তিনি এখন কী করবেন- কীভাবে তিনি একমাত্র মেয়েটিকে বাঁচাবেন?
তিনি যখন ভাবনাবিভোর, তখন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ছেলেটা এসে পাশে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করল, স্যারের কি মনটন খারাপ?
পপির বাবা বললেন-হ্যাঁ। মন ভীষণ খারাপ।
কেন স্যার, কী হয়েছে? দয়া করে আমাকে কী বিস্তারিত খুলে বলবেন স্যার? বলল ছেলেটি।
পপির বাবা সংক্ষেপে ওর কাছে ঘটনাটা বলল। শুনে ছেলেটি মিটিমিটি হাসল। বলল, স্যার আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি এখনি একটা ব্যবস্থা করছি। আশা করি কাজ হবে। বলে ছেলেটি ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে গেল। কয়েক মিনিট পরই সে ফিরে এলো। ওর হাতে কিছু একটা প্রাণী। কিছু একটা রোবট। হলুদাভ একটি রোবট বিড়াল। বিড়ালটি এনে সে পপির বাবার সামনে ছেড়ে দিলো। ওমনি ওটা অবিকল বিড়ালসুলভ আচরণ করতে শুরু করল। ওর কাণ্ডকীর্তি দেখে পপির বাবা রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেলেন। দেখে বুঝার উপায় নেই, ওটা রোবট নাকি সত্যিকারের বিড়াল। বললেন- এটি তুমি কোথায় পেলে?
ছেলেটি বলল, অফিস টাইমের পর বাসায় গিয়ে আমি অলস বসে থাকি না স্যার। আপনাদের গবেষণা থেকে যা কিছু দেখি, যা কিছু শিখি, তা-ই চর্চা করি। অনেক দিনের চেষ্টায় আমি এই রোবট বিড়ালটা তৈরি করেছি স্যার। একে প্রতিপালন করতে খাবার-দাবারের কোনো দরকার নেই স্যার। ওর বাথরুমেরও ঝামেলা নেই। বছরে একবার মাত্র চার্জ দিলেই চলবে সারা বছর।
চার্জ ফুরালে সে নিজে থেকেই সিগন্যাল দেবে যে, তার চার্জ দরকার। সাথে করে নিয়ে যান স্যার। আপনার কাজে লাগলেও লাগতে পারে।
পপির বাবা রোবট বিড়ালটিকে সাথে নিয়ে সোজা হাসপাতালে চলে এলেন। রোবট বিড়ালটিকে দেখে পপি খুবই খুশি হলো। সে বুঝতেই পারল না, যে ওটা সত্যিকারের বিড়াল নয়, প্রক্রিয়াজাত ধাতব পদার্থের তৈরি একটি রোবট বিড়াল। আনন্দে শোয়া থেকে উঠে একেবারে বসে পড়ল পপি। ভাবল- এটিই বুঝি তার সেই টিনটন। তারপর রোবট বিড়ালটিকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিলো সে। আর ক্ষীণকণ্ঠে বলল, টিনটনের শরীরটা বড্ড ঠাণ্ডা হয়ে গেছে বাবা। বরফের মতো ঠাণ্ডা। শালটা জড়িয়ে দাও তো বাবা। একটু উষ্ণ হোক।
বাবা ওদের দুজনকে পরম মমতায় একটি শাল দিয়ে জড়িয়ে নিলেন।
