আমি মাগো শান্ত ছেলে
আবুল হোসেন আজাদ

দুষ্টুমিতে দিনটি আমার যেত বয়ে
বনবাদাড়ে ঘুরে ঘুরে হন্যে হয়ে।
কোথায় আছে টুনটুনি মা’র পাখির ছানা
চোখ ফোটেনি তুলতুলে গা কচি ডানা।
ভরদুপুরে পেয়ারা গাছে সবার ছেড়ে
ডাসা পাকা পেয়ারাগুলো আনতাম পেড়ে।
সেগুলো সব একাএকা মজা করে
গাছ তলাতে বসে খেতাম পেটটি ভরে।

এখন আমি মাগো তোমার শুনি কথা
চাই না অমন দুষ্টুমিটার স্বাধীনতা।
খেলি না আর আগের মতো ডাংগুলিকে
ছুড়ি না ঢিল ডাকলে ডোবার ব্যাঙগুলিকে।
যাই না ছুটে ঢেউ টলমল নদীর কাছে
যেখানটাতে ঘাটে বাঁধা নৌকা আছে।
বইয়ের পাতা উল্টে রেখে জানলা খুলে
দেখি না আর রাতের আকাশ পড়া ভুলে।

এখন আমার মনটা শুধু লেখাপড়ায়
কখন জানি পড়তে পড়তে সময় গড়ায়।
প্রতিদিনই সময় মতো ইশকুলে যাই
তাই তো তোমার বকুনি না আদরটা খাই।
লেখাপড়া শিখে হবো অনেক বড়
যাতে তুমি আমার নিয়ে গর্ব করো।
লক্ষ্য আমার এগিয়ে যাবো বাধা পেলে
দুষ্টুটি নই আমি মাগো শান্ত ছেলে।

খোকা খুকির ভাবনা
সৈয়দ মাশহুদুল হক

খোকার আছে দশটা ঘুড়ি
লাটাই আছে তিনটা
নাই খোলামাঠ কোথা যাবে
বসেই কাটে দিনটা।

খুকির আছে ছয়টি পুতুল
চারটিই হলো কনে
খেলার সাথী নাই কাজেই
বের করে রোজ গনে।

খুকির আছে রঙিন ফিতা
সঙ্গে স্নো-পাউডার
খোকার আছে কম্পিউটার
সাথে নেট-রাউটার।

একা বসে কম্পিউটারেই
গেম খেলে যে খোকা
খুকি বসে পুতুল সাজায়
জীবনটা একরোখা।

দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই
দুজনেই বসে পাঠে
কিন্তু তাদের মন ছুটে যায়
গাঁয়ের কোনো মাঠে।

পড়ার ফাঁকে চুপটি করে
বইয়ের ছবি ঘাঁটে
গাছগাছালির ছবি দেখে
খানিক সময় কাটে।

বইয়ে দেখে গাঁয়ের ছবি
ভাবে আপন মনে
পাখির মতো থাকলে ডানা
উড়ত বনে বনে।


আমার কাজ
আমিনুল ইসলাম

আমার কাজ আমি করি
তোমার কাজ তুমি,
কারো আবার অন্যরকম
কারোটা মওসুমি।
কারোটা হয় আলো আলো
কারো আঁধার ঘেরা,
তোমার-আমার কাজ বন্ধু
থাকে যেন সেরা।
আমার কাজ আমি করি
তোমার কাজ তুমি,
হৃদয় দিয়ে বাসবো ভালো
নিজের জন্মভূমি।

আখের লাঠি
প্রজীৎ ঘোষ

আখের ক্ষেতে শিয়াল মামা
হুক্কা হুয়া ডাকে;
আখের রসের মধুর ঘ্রাণে
মুগ্ধ করে তাকে।

লাঠির ভেতর এত্ত মজা
কোথায় ছিলো আগে?
শিয়াল মামার মনের ভেতর
এমন প্রশ্ন জাগে।

ভাবতে ভাবতে যায় চলে দিন
যায় যে চলে বেলা;
শিয়াল মামার সেই ভাবনায়
বন্ধ সকল খেলা।

বাঁশের লাঠি বেতের লাঠি
দেখছি সবই চেখে;
সবাই দিলো দাঁতের ভেতর
আবর্জনা মেখে।

সুয্যি মামার কান্না
আব্দুস সালাম

সুয্যি মামা, মেঘের পরে
কোথায় তোমার ঘর?
ভরদুপুরে নাক ডাকো যে
ঘড় ঘড়া ঘড় ঘড়।

ধূসর চাদর মুড়ি দিয়ে
মুখ রেখেছ ঢেকে
ঘুম ভাঙাতে যাবো আমি
সঙ্গি-সাথী রেখে।

আমায় ফেলে তারার দেশে
একলা দিলে পাড়ি
বলব নাকো আর তো কথা
তোমার সঙ্গে আড়ি।

দূর গগনে ঘুরতে গেছ
আমায় দিয়ে ফাঁকি?
বলতে পারো এখন তোমায়
কেমন করে ডাকি?

মা কি তোমায় খুব বকেছে
থামছে না যে কান্না?
বকবে না আর; বাড়ি এসো
আছে মজার রান্না।