ফুল ফুটেছে
প্রজীৎ ঘোষ

ফুল ফুটেছে গাছে গাছে
ফুল ফুটেছে বনে;
ফুল ফুটেছে রঙিন হাওয়ায়
ফুল ফুটেছে মনে।

ফুল ফুটেছে বিলে ঝিলে
ফুল ফুটেছে জলে;
ফুল ফুটেছে মেঘের ’পরে
হাজার কোলাহলে।

ফুল ফুটেছে পাখির ডাকে
ফুল ফুটেছে চাঁদে;
কলমি লতায় ফুল ফুটেছে
সুবাস মেখে কাঁধে।

ফুল ফুটেছে তোমার-আমার
সব শিশুদের মনে;
ফুল ফুটেছে তাই আমরা
রই না ঘরের কোণে।

গাঁয়ের মাঠে
সোহেল রানা

মুক্তো ঝরে মুক্তো ঝরে
ধানের শীষে ঘাসের পরে
শিশির কণার ওপর যখন
সাতসকালে রৌদ্র পড়ে।

সোনা রোদের পরশ মাখা
কী অপরূপ ছবি আঁকা
গাঁয়ের মাঠে আমন ধানের
দিকে চাষির চেয়ে থাকা।

ধান মাড়াইয়ের শব্দ কানে
নতুন ধানের মধুর ঘ্রাণে
গোলা ভরা ফসল দেখে
লাগে দোলা সবার প্রাণে।

নতুন ধানের চালের গুঁড়ি
পিঠে পুলি চিঁড়ে মুড়ি
হেমন্ততে গাঁয়ের মাঠে
মনটা করে ওড়াউড়ি।

এই হেমন্তে
আলম শামস

চলে গেল বর্ষা ঋতু
উড়িয়ে মেঘ কালো,
শরৎ শেষে শীতল আমেজ
রোদ লাগে যে ভালো।

হেমন্তেরই কোমল পরশ
সবুজ শ্যামল মাঠ,
চোখ জুড়ানো সোনার ফসল
শান্ত নদীর ঘাট।

আকাশেতে সাদা মেঘের
হরেক রকম খেলা,
রোদ-মেঘের লুকোচুরি
দেখে কাটে বেলা।

বিলের মাঝে শাপলা শালুক
নতুন নতুন ফুল,
মিফতা মণি তুলতে যাবে
বাঁধছে এখন চুল।

শিউলি ফুলের মনমাতানো
ছড়ায় সুবাস গন্ধ,
কবিরা সব লিখতে বসে
খুঁজে বেড়ান ছন্দ।

সকাল বেলা রোদের ঝিলিক
মিষ্টি মধুর আলো,
বিকেল বেলা হিমেল আমেজ
রোদ লাগে যে ভালো।

হিম বাতাসের কোমল পরশ
সবুজ সুন্দর মাঠ,
শিশু-কিশোর সব শিখতে চায়
নতুন নতুন পাঠ।

নদী নালা খালে বিলে
শুকায় এখন পানি,
জেলেরা সব ধরছে যে মাছ
খুশিতে জাল টানি।

 


হেমন্ত উৎসবে
আবুল খায়ের

কার্তিক অগ্রহায়ণে
পাকা ধানের শীষে
বাতাস ঢেউ খেলে
ঐ সুরের আবেশে।

কৃষক কাটে পাকা ধান
আনন্দেতে নাচে প্রাণ
নতুন চালের পিঠায়
সকলের মন ভরায়।

আখের গুড়ের মিঠাই
আসবে নতুন জামাই
ছেলে বুড়ো মাতবে
নবান্নের উৎসবে।

হেমন্তের রূপ
শাহজাহান মোহাম্মদ

রঙে ঢঙে আকাশটা
সাদা কালো নীল
বাঁশ বাগানে জোনাকিরা
করে কিলবিল।

সবুজ শ্যামল গাঁও গ্রামে
সরষে ফুলের মেলা
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
মেঘবালিকার খেলা।

ভোরের আলোয় মিষ্টি সুরে
পাখির কলতান
লাউয়ের মাচায় ফিঙের সাথে
মৌ-ভোমরার গান।

শিশির ছোঁয়া হেমন্ত রূপ
গ্রাম বাংলার গা’য়
শিউলি বকুল নবান্নের
মালা গেঁথে যায়।

 

হেমন্তেরই ছবি
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

হেমন্তেরই ছবি
কাব্যে আঁকেন কবি
চিত্রকরে চিত্রে
নানান রূপবৈচিত্র্যে।

ফুটে ওঠে খুব
লাগে অপরূপ!
হাসে পাড়া গাঁ
শ্যামল স্বদেশ মা।

হাজার পাখির গান
নদীর কলতান
হাওর বাঁওড় ঝিল
শাপলা ফোটা বিল।

কৃষাণ বধূর হাসি
স্বপ্ন রাশি রাশি
শিশির ঝরা ভোর
রাখালিয়ার সুর।