আজ তোমরা জানবে ডোলেরাইট বিষয়ে। আগে জানতে হবে, ডোলেরাইট হচ্ছে পাথুরে স্তম্ভ। এগুলো ৩০০ মিটার বা তার চেয়েও উঁচু। এই পাথুরে স্তম্ভ আছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে তাসমানিয়া নামক স্থানে।
বেশির ভাগ সুউচ্চ পাথুরে স্তম্ভগুলোর দেখা মিলবে সেখানকার সাগরের কোল ঘেঁষে।
ডোলেরাইটগুলো শুধু বড় বা সুউচ্চই নয়, দেখতেও অদ্ভুত সুন্দর। সাগরের নীল জলরাশির ঢেউ খেলে আছড়ে পড়ে এসবের পায়ের কাছে। বেশ দূর থেকে তা ফেনার মতো দেখায়। স্তম্ভগুলোর বাইরের অংশ বা দিক অসমান, এমনকি অমসৃণও। কোনোটার ওপরের ও পাশের অংশ খাঁজকাটা। এমনকি কোনো কোনো স্থান রীতিমতো ধারালো ও সরু। বহু দূর থেকে কিছু কিছু ডোলেরাইটকে বরফের চাঁইয়ের মতো দেখায়। এ জন্য অনেকে এগুলোকে বহুরূপী ডোলেরাইটসও বলে থাকে। আর এ জন্যই এসবের প্রতি মানুষের, বিশেষ করে পর্যটকদের কৌতূহল বেশি। সাগর উত্তাল না থাকলে পর্যটকেরা ছোট জলযানে চড়ে এসব ঘুরে ঘুরে দেখে প্রচুর আনন্দ পান।
তাসমানিয়া ছাড়াও সারিবদ্ধ এমন স্তম্ভ বা ডোলেরাইটের দেখা মেলে পৃথিবীর আরো কয়েকটি স্থানে। একেক স্থানের স্তম্ভের নাম একেক রকম। তা হয় অঞ্চলভেদে, স্থানীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি অনুযায়ী। এসবের দেখা মেলে স্পেনের লস অরগানোসে, আয়ারল্যান্ডের জায়ান্টস কসওয়ে, স্কটল্যান্ডের ফিঙ্গালস কেইভ প্রভৃতি স্থানেও।
এসবের নানা বিষয় নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা এসবের সৃষ্টি বা জন্ম রহস্য নিয়েও বিভিন্ন তথ্য দেন। তারা জানিয়েছেন, তাসমানিয়ার পাথুরে স্তম্ভগুলোর জন্ম হয়েছিল জুরাসিক আমলে। তারা আরো জানান, তাসমানিয়ায় আগ্নেয়গিরির এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ১৯ কোটি বছর আগে। তাতে লাভায় ঢাকা পড়েছিল তাসমানিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল। ক্রমে তা শীতল হতে থাকে। শীতল হয়ে এগুলো রূপ নেয় পাথুরে স্তম্ভে।
বিশ্বের অনেক স্থানে এ ধরনের স্তম্ভ থাকলেও তাসমানিয়ারগুলো একটু বেশিই লম্বা। এর শিলাগুলো ক্রিস্টেলিকের মতো দেখায়। এসবের দানাগুলোর একেকটি ভাতের চালের চেয়েও ছোট। এগুলো অনেক সময় গাঢ় সবুজ, আবার গাঢ় ধূসরও। অনেকে এখানে এসে ক্লাইম্বিংয়ে মেতে ওঠে।
