কে জি মোস্তফা
স্বপ্ন অনির্বাণ
স্বাধীন হয়েছি স্বাধীন থাকবো
আমরা বাংলাদেশী
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ যত
ঘুচে যাক রেষারেষি।।
অনেক রক্তে এনেছি স্বরাজ
গড়বো আমরা নতুন সমাজ
জীবন-ধর্মে বলীয়ান হবো
দেখবে জগৎবাসী
আমরা বাংলাদেশী।।
নবচেতনায় গেয়ে যাই আজ
জীবনের জয়গান
নব উদ্যোগে সফল করবো
স্বপ্ন অনির্বাণ।।
বঞ্চনা নয়, নয়কো শোষণ
অন্যায় যত করি না পোষণ
মুখোশের মুখ খুলে যাক
চাই না ছদ্মবেশী
আমরা বাংলাদেশী।।
আসাদ চৌধুরী
আমি কথা বললেই তো
আমি কথা বললেই তো তোমরা শুধু চিৎকার শোনো।
তোমাদের অত্যাচারের কথাটিও মনে রেখো।
আমি কথা বললেই তোমরা প্রতিবাদ শোনো,
তোমাদের অন্যায়, অবিচার তো আর বাষ্প নয়,
ওর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নির্মমতা,
দুর্নীতি আর লোভের মতো এক-চোখা দৈত্য।
আমি স্বপ্নের কথা বলি,
আমি সুন্দরের কথা বলি।
আমি স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর ভবিষ্যতের কথা বলি।
এ-সব না-বললে সোনালি দিনগুলো দ্রুত আসবে কেমন করে?
সংগঠিত হবে কোন অলৌকিক মায়ায়?
আমাদের দুঃখী লোকেরা গল্প করে
ধূর্ত শেয়ালের আর ভূতের।
আমি গল্প শোনাই মানুষের, ¯্রফে মানুষের।
আমি তোমাদের সবচেয়ে উর্বর মাটিতে
শুধু প্রতিবাদ বুনে যাই।
শক্ত কব্জির লোক তোমাদের মধ্যেই আছে।
হয় তো তুমিই সেই
যাঁকে আমরা এত দিন ধ’রে খুঁজে এসেছি।
হায়াৎ সাইফ
আরেক বৃত্ত
জীবনের চক্রবাল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই ক্রমাগত আরেক
বৃত্তের দিকে,
অবিরত অতর্কিতে রাখি প্রেম উৎপীড়িত মণিবন্ধে,
বাক্সে ও সিন্দুকে কিছু সুপ্রিয় প্রাচীন গন্ধ,
পকেটে ঠিকানাহীন বাসের টিকিট;
গন্তব্য কোথায় ওরে ঊর্ধ্বশ্বাস জীবন যাত্রার?
ঐ তো সম্মুখে দেখি বাসের স্টপেজ,
ভিড় আর হকারের, টাউটের বাজার বসেছে,
উজ্জ্বল বেসাতিও আছে জনতার সমূহ কল্যাণ,
ঐ কি গন্তব্য তবে আলোকিত জেনারেল স্টোর?
এদিকে ফুটপাথে প’ড়ে যে পঙ্গু পাড়ে আল্লাহ দোহাই
তিনি কি নিদ্রামগ্ন নৈঃশব্দ্যে স্বর্গের মিনারে ?
অতএব চলো যাই, ধেই ধেই নেত্য করি চলো, খোঁয়াড়ি ভাঙাই,
ঢাউস ঘুড়ির মতো গোত্তা খেয়ে পড়ি,
নির্বিবাদে জীবনের চক্রবাল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই,
প্রয়োজনে কখনো বা বাজাই শানাই।
মতিন বৈরাগি
সত্য বড় কঠিন
নিশুতির সেই ক্ষণে তুমি মুক্ত করো তোমাকে
তোমার ক্রিয়ার বিপরীত থেকে
দম্ভের প্রকাশ থেকে অসত্যের অনড়তা থেকে
দেখো অগণিত আত্মারা নেমে আসছে মিহিন আলোকে
অলোকের রাজ্য থেকে আনন্দ নগরে
যেখানে ফুটবে মুক্ত মন মুক্ত প্রাণ শেফালির মতো
এক পরিচ্ছন্ন উঠোন
ছড়িয়ে পড়ছে তার মিষ্টি গন্ধ
আর সেই সব আত্মারা ঢুকে যাচ্ছে তোমার আত্মায়
ছায়ার মতোন এক রাত্রিকে করে দিচ্ছে নির্মল
তুমি মুক্ত হচ্ছো মিথ্যের রাজ্য থেকে
চাটুকারদের ঠোঁট থেকে
মাফিয়ার লেখা থেকে
তুমি মুক্ত হচ্ছো হে সত্য আলোকের দিকে অলোক হৃদয়
নিশুতির সেই ক্ষণে তুমি তোমাকে মুক্ত করো
যখন প্রকৃতি নীরব
চাঁদ হয়ে গেছে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না আর প্রকৃতিতে জেগে উঠছে প্রকৃতি
সত্য বড় কঠিন তবু তাকেই খোঁজো
কারণ তার টিকে থাকবার শক্তি আছে
এই বলে জরথুস্ত্র হাঁটলেন বনানীর দিকে-
হাসান হাফিজ
গেরিলাযুদ্ধের স্মৃতি
রক্তপিছল পথ পেরিয়ে
তোমাকে ছুঁই স্বাধীনতা
তুমি আমার প্রাণের মর্ম
আত্মীয় সুখ বিয়োগ-ব্যথা।
শোষণ পীড়ন জেল জুলুমে
শৃঙ্খলিত বন্দি থেকে
রক্তরঙে তোমার ছবি
মানসপটে নিপুণ এঁকে
হই গেরিলা অস্ত্র ধরি
মাতৃভূমি স্বাধীন করি
লালসবুজের এই পতাকা
রক্তদামে ছিনিয়ে আনি
স্বাধীনতার সত্য পথে
লাখ শহীদান অমর জানি॥
মাহমুদ কামাল
না লিখতে লিখতে যা হলো
সেটি একটি কবিতা
কবিতার শব্দগুলো ভীষণ পুরনো
বহু ব্যবহৃত
না লিখতে লিখতে বিষয়বিহীন
নেই কোনো অলংকার, নয়টি রসের একটিও
তবুও একটি কবিতা হয়ে গেল।
কংক্রিট কবিতা নয়, ইতিবাচকও নয়
সম্ভবত
যে বিষয়টি ছিল কবিতার অসীম প্রেরণা
সে উল্টো পথের যাত্রী
যা কিছু শুভ ও বিশ্বাস ছিল
সেই শব্দ দু’টোর আগে
‘অ’ এসে জায়গা নিয়েছে
এ ভাবেই একটি কবিতা হলো
না লেখা কবিতা হলো
এবং লিখতে লিখতে যা হলোÑ
সেটি একটি কবিতা...
তমিজ উদ্দীন লোদী
বারুদের ঘ্রাণ শোঁকে
যখন তরুণ ও তরুণীরা অস্ত্র হাতে বারুদ ফোটালো
তখন নদীতে তরঙ্গ হলো, বাতাসে বিক্ষেপ হলো পাখির
বনে বনে হরিণেরা পাক খেলো
গোটানো পাখা অকস্মাৎ মেলে ধরলো অসংখ্য ময়ূর
শরতের ভোরের মতো ঝরে পড়তে চাইলো শিশির ও শেফালি
যেন তারা রুদ্ধ হয়ে ছিল, সব গ্লানি মুছে দিয়ে এবারে মুক্তি পেলো
বারুদের ঘ্রাণ শোঁকে
কাক্সিক্ষত বৃষ্টি এলে
হারিয়ে গেল নিঃসঙ্গ রক্তের গাঢ় বিষাদ।
শোক রূপান্তরিত হলো সুখে।
রেজাউদ্দিন স্টালিন
সিম্ফনি
ভেঙে পড়ছে দূরে
ঐখানে হয়তো কাছে
ভেঙে পড়ছে ধীরে অন্তহীন
ভেঙে পড়ছেÑমুহূর্ত
মৃত্যু জন্ম ক্ষুধা চিৎকার
ভেঙে পড়ছে দূরে বহুদূরে
দিগন্ত অসীম অগণিত অন্তহীন
ভেঙে পড়ছে অধঃ নৈর্ঋত ঊর্ধ্ব
ভেঙে পড়ছে স্বপ্নÑঈশান
ভ্রুক্ষেপহীন ক্রমাগত
ভেঙে পড়ছে
ভেঙে ভেঙে পড়ছে
নৈঃশব্দ
শাহীন রেজা
একদিন সারাদিন
একদিন সারাদিন সাহসের সাথে থেকো
একদিন সারাদিন ‘মুক্তি’কে বুকে রেখো
একদিন সারাদিন সরোদের তান শোনো
একদিন সারাদিন হৃদয়ের তারা গোনো
একদিন সারাদিন রক্তের নদী আঁকো
একদিন সারাদিন শোকের কফিনে ঢাকো
একদিন সারাদিন অমলিন যুদ্ধ-খেলা
একদিন সারাদিন স্মৃতিতে ভাসুক ভেলা
একদিন সারাদিন আমরাও হই মুক্তি
একদিন সারাদিন শুধু লালসবুজের চুক্তি
একদিন সারাদিন আকাশে রঙের ধারা
একদিন সারাদিন ফাগুন আত্মহারা
একদিন সারাদিন ‘আমি বাংলার লোক’
একদিন সারাদিন লক্ষ দিনের হোক।
মোশাররফ হোসেন খান
নিতল সমুদ্রে অবগাহন
স্তব্ধতার প্রহর ভেঙে অকস্মাৎ জেগে উঠি
এ পৃথিবী কোথায় যাচ্ছে, কোথায়?
এ মহাবিশ্ব কোথায় যাচ্ছে, কোথায়?
যেখানে সবুজাভ হরিতের ক্ষেত ছিল,
সেটা এখন দূর পালার রাশভারী বিমানবন্দর!
যেখানে চিত্রল হরিণের অভয় আশ্রয় ছিল,
সেটা এখন হায়েনার ঘাঁটি!
ক্রোধ ও ঘৃণার অবিরাম ঘর্ষণে
উধাও নীলাভ্র নীলাভ!
প্রশান্তির পাখিরা আজ কোথায় হারিয়ে গেল?
সবিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি ঊর্ধ্বে, সীমাহীন - সীমানায়!
ভাবি... আজ যদি কবুতরের একটি ডানাও
স্পর্শ করতে পারতাম!
উন্মাতাল বাতাসের গতিঝড়ে কাশফুলের মতো
কেবলই উড়ছে মাথার কেশরাশি।
আমি দিশাহীন এক অভিযাত্রী,
হাঁটছি তো হাঁটছি জনম অবধি
কেবল মানুষের জন্য, মানুষের খোঁজে!...
পথের কি কোনো শেষ আছে?
পরিশ্রান্ত দৃষ্টিতে একবার সমুদ্রের দিকে তাকিয়েই
চমকে উঠলাম,
কে ডাকে, কে ডাকে নিতল সমুদ্র থেকে?
সমুদ্রের ভেতর থেকে বাড়িয়ে দেয়া
কমনীয় হাত দু’টি কার?
শহীদ নাকি?
বিনত বিস্ময়ে আমি ভাবতে থাকি বারবার!
জাকির আবু জাফর
বিজয় আমার বিজয়
জানতাম একদিন বিজয়ের সাথে দেখা হবে আমাদের
একদিন বিজয় আমাদের উঠোন ভর্তি নিয়ে আসবে এক খণ্ড আকাশ
নিঝুম দুপুর এসে জিরিয়ে নেবে আমাদের ছাদের বিছানায়
কলার দীর্ঘ পাতায় নেমে আসবে বিকেলের কোমল রোদ
উঠোনের মেহেদীর ঝোপে রাত নেমে এলে অন্ধকারের
হাসির মতো জ্বলে উঠবে জোনাকির দল
গোলাপ ঝাড়ের তলপেট থেকে ঝিঁঝিঁর একটানা স্বর রাতের শরীরে
কোথাও তিতির ধ্বনি কোথাও ডাহুকির ডাক কোথাও রাতজাগা পাখি
এসবই বিজয় আনন্দের গান
আমি জানতাম একদিন বিজয় আমাদের পুকুর জলে ভাসিয়ে দেবে
নক্ষত্রের ফুল। জোছনার জৌলুস ভাসিয়ে দেবে মাঠের বুক এবং
দীঘির প্রশান্ত জলে গোসল দেবে পূর্ণিমা চাঁদ
আমাদের পথে পথে নিরাপদ হবে চাঁদ এবং চাঁদহীন রাতের পথিক
ঝাঁকে ঝাঁকে থেমে যাবে কালো হাতের উত্থান
ক্ষমতার দম্ভে ভেংচিকাটা মুখগুলো অমাবস্যায় ডুবে যাবে সহসা
আমি জানি একদিন গণতন্ত্রের সাথে দেখা হবে আমাদের
মুখ ফিরে পাশেই দাঁড়িয়ে স্মার্ট হ্যান্ডশেক করে বলবেÑ
আমি এসে গেছি তোমাদের বুকের কাছে
কণ্ঠ উঁচু করে বলো-বিজয় আমাদের বিজয়
জয় গণতন্ত্রের জয়
শাহাজাদা বসুনিয়া
তলদেশের খবর
জীবনের তলদেশে আন্দোলিত হয় না অট্টহাসি ও আনন্দধারা।
ভেতরটা হেসে ওঠে, অসংখ্য ছায়ালোকে ভেসে ওঠে স্মৃতি
তলদেশটা ছিন্নবস্ত্রে সজ্জিত, একদম নেংটা-নিঃশব্দ।
অনেকেই ছায়ায় ভেসে থাকে বহুকাল
তলদেশে ছায়াগুলো হামাগুড়ি দেয় শতাব্দকাল
হিংস্্র বিশ্রামরত ছায়াগুলো উঠে আসে বন্দনায়
ছায়াগুলো নিঃশেষ হয় না, সৌন্দর্যের মধ্যেই বিরাজমান
ছায়াগুলো বিশ্রাম নেয় ঐশ্বর্যে, হাঁটাহাঁটি করে বিশ্রামবিলাসে
ভেতরের তলদেশে শেষ হয় না আত্মপ্রয়াস,
নিজেকে মনে হয় উত্তমপরুষ।
নখের তীক্ষè খোঁচায় বিনত হয় না জীবন লাবণ্য
অতিশয় কঠিন শক্ত বিপুল ভারবহনে সক্ষমতা।
তলদেশের রহস্য বহুকাল অনাবৃত-কেউ জানে না
রহস্য ঘিরেই আমি মহাবীর ভেতরের তলদেশে।
ছায়াতরু, তরুলতা বেড়ে ওঠে আপনগৃহে, শূন্যগৃহ আমার
নিবিড় গহিন নিস্তব্ধতায় ছায়াগুলো ভাসে
জীবনের তলদেশে ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ অস্থিরচিত্তে ছায়াগুলো উঁকি মারে
জীবনের তলদেশে তবুও ছায়াগুলো ক্লান্ত-অবসন্ন পড়ে থাকে।
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
যদি
যদি নিমেশে মুছে যেত সব খারাপ খবর
মনের কালো মেঘ, চোখের জল
মিলেমিশে একাকার হতো না!
শেষ বিকেলের বিষণœ যুবকের মতো
পুকুরের টলটলে জলের দিকে তাকিয়ে
প্রিয় কাউকে হারানোর শোক বুকে গেঁথে
দূরবর্তী সুখে আকণ্ঠ ডুবতে হতো না!
হায়, আজ খুব বৃষ্টি হোক
আজ দু’চোখ বুজে পার করে দেই দিনটা,
চোখের জল আর বৃষ্টিকে
আলাদা হতে দেব না!
যদি নিমেশে দুঃখ ভোলা যেত
আবার নামত মিছিলÑ
নতুন ভোরের আশায়;
হাসিনা-খালেদা পাশাপাশি বসে
আগামীর স্বপ্ন বুনতেন,
তাহলে যাবতীয় দুঃখ ভুলে
নিমেষে বাংলাদেশের কামলা হয়ে যেতাম!
সৈয়দ রফিকুল আলম
অযুত পেরিয়ে দ্বাবিংশতি
গ্রীক পুরাণের ট্রয় নগরীর উপাখ্যান নয়
আদিপর্বেও মানুষ সর্বার্থে সত্য ও সততার
প্রতি ব্রতনিষ্ঠ দায় নির্বাপণে একাগ্র চিন্তনÑ
মনস্বিকতায় মগ্ন হতো। কয়েক শতাব্দী পাড়ি
দিয়ে এসেও, আমরা লক্ষ করি; জীবন-জীবিকা
প্রচলে আদর্শহীন আঁধার তাড়িত চক্রঘূর্ণি
কোপানল আধিস্থ’ূপে নিমজ্জিত হয়ে নিশ্চিহ্নের
অতল গহ্বরে ডুব দিয়ে বিসর্জনের সলিল-
ঢেউয়ের মাঝে ভেসে থাকি। আমাদের সময় ও-
কাল সু-দৃশ্য পণ্যের মোড়কে নন্দিত কালজয়ী
কৃত্রিম প্রলয়ে ভরা। হৃদয়তাড়িত অন্বিষ্ট
বিশ্বকোষ গবেষণায় ও কোন গ্রাফিক নির্দেশ দিতে
পারে- এমন বিধানপত্র অবান্তর বটে; তাই
কসমিক ব্যবস্থাপনায় রাত যায়, দিন যায়, যায়...
ইদ্রিস সরকার
তাণ্ডব চিত্র
তোমার চোখের কান্না মাগো
থামিয়ে দিতে পারিনি আজো
বিষাদময় আচরণের এই দ্বীপদেশ
নারকীয় তাণ্ডব লীলায় লণ্ডভণ্ড
দিবালোকে প্রকাশ্যেই ঘাতকেরা
হননমত্ত পথে প্রান্তরে
হিংসুক পশুদেরও হার মানায় হিংস্রতায়
সূর্যের দিকে না হেঁটে ওরা হাঁটে অন্ধকারের দিকেই
তোমার এ বুকফাটা চিৎকার
হাহাকারে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ হলেও
ওরা তোমাকে বুকে জড়িয়ে
ধরতে শেখেনি এখনও।
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
বিজয়কে খুঁজি
চুক নগরে মানুষের গায়ের লাল রক্ত
সব মিশে গিয়েছিল পাশের নদীতে।
সেই নদীটা অল্প স্রোতে এখনো আছে
তার বুকে সাদা জল-
গভীর পাঠ ছাড়া সেই রক্ত
কেউ খুঁজে পাবে না।
বিজয় হয়েছিল সেই কত বছর আগে
যুদ্ধ কাহিনী আমাদের গভীর পাঠ-
মননের চাতালে পাতালে।
তবে কেউ নিও না হালকাভাবে
এতে বিজয় বিপন্ন হবে।
সত্য বরাবরই একটু আড়ালে থাকে
সত্যকে জেনে নিতে হয় গায়ের ঘামে
সত্যকে চাপা দেয়ার চেষ্টা হয়।
সত্যকে নষ্ট করার হাজার কসরত।
হৃদয়ের ভেতর যেমন একটা মন
মিথ্যে নয়- শরীরে সর্ব অঙ্গে লীন
এই দেশেরই পাতায় পাতায়
প্রতিটা ছত্রে ছত্রে বিজয় মাখা
মন চেনার মত করেই এসো
বিজয়কে খুঁজি।
জামসেদ ওয়াজেদ
ডিসেম্বর কথা
আমার বিজয়গুলো কেন জানি চুরি হয়ে যায়
নিষ্পাপ সকাল আর চুরি হয় আরামের ঘুম
চেতনা চুরির দায়ে পৃথিবীও নিস্তব্ধ নিঝুম
এখানে দুপুর ভেঙে লাল আর সবুজ হারায়
এই যে জোনাকি রাত শুধু জানে ডিসেম্বর কথা
কী করে বিজয় এলো আমাদের পাশের বাড়িতে
এই জাতি সেই দিন এইভাবে চায়নি হারিতে
প্রজাদের স্বার্থহীন এ বিজয়ে স্মৃতি ব্যাকুলতা
ঘুমহীন কত রাত, কত কত বারুদের ঘ্রাণ
সয়ে সয়ে বীরগণে সোপার্জিত এ স্বদেশ ভূমি
নিজেকে আড়াল করে হে যুবক সরে আছো তুমি
স্বদেশের প্রতি কেন এত বেশি মান অভিমান
আমার বিজয়গুলো সংরক্ষিত শাসক পকেটে
তথাপিও খুঁজি তাকে পৃথিবীর পথে পথে হেঁটে
