যেকোনো বিজয় মানেই আনন্দ। বিজয় মানে উৎসব। বিজয় মানে কোনো কিছু পেয়ে যাওয়ার খুশি। বিজয় নানান ধরনের হয়ে থাকে। যেমনÑ খেলার মাঠে একদল আরেক দলের ওপর বিজয় অর্জন করে। ব্যবসাবাণিজ্যে পরিশ্রম করে অর্থনৈতিক বিজয় লাভ করা যায়। ছাত্রজীবনে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল অর্জন করাও এক ধরনের বিজয়। কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আবৃত্তি বা গানে পুরস্কৃত হওয়াও বিজয়েরই অংশ। আবার যুদ্ধের মাঠে একপক্ষ অন্য পক্ষকে পরাজিত করার মাধ্যমেও বিজয় লাভ করে। এক দেশও আরেকটি দেশের ওপর বিজয় অর্জন করে, এই বিজয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। যা ঘটেছে আমাদের ইতিহাসে। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছে। আমরা পেয়েছি আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।
প্রতিটি বিজয়েরই আনন্দ আছে, এ কথা ঠিক। তবে দেশের বিজয় মানে মহা আনন্দ। মাহা খুশি। কেননা একটা দেশের বিজয় একটা জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেয়। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো জাতি বা গোষ্ঠী অথবা কোনো দেশ সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতেই পারে না। পরাধীন জাতিকে কে-ই বা হিসেবের মধ্যে গণ্য করবে। কেন-ই বা করবে। যেহেতু পরাধীনতা মানেই গোলামি বা দাসত্বের শেকলে বন্দী থাকা। যে জাতি অন্য জাতির গোলাম থাকে, তাকে কেউ সম্মান-মর্যাদা দেখাবে না।
আমরা বাংলাদেশের সন্তান। এ দেশ এই মাটি আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে সজীব হয়েছে। এই দেশের আলো হাওয়ায় আমরা বেড়ে উঠেছি। মাথার ওপর অসীম নীল আকাশ আমাদের মনকে উদার হতে সাহায্য করেছে। এই দেশের মাটিতে কী চমৎকার ফসল ফলে। কোনো রকম মাটির ভেতর বীজ বুনে দিলেই গাছগাছালি আর ফসলের সুন্দর বেড়ে ওঠা প্রত্যক্ষ করি আমরা। আমাদের এই দেশকে নিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। বিদেশী বণিকেরা ছুটে আসত এখানে। ব্যবসাবাণিজ্য করে বেশ টাকাকড়ি নিয়ে তারা ফিরে যেত নিজেদের দেশে। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। এই ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কখনো গরিব ছিল না। এ দেশের নাগরিকরাও ছোট নয়। আমাদের দেশের মানুষেরা উদার প্রকৃতির। সুন্দর মন-মানসিকতায় বেড়ে ওঠে এ দেশের মানুষ।
এখন একটি প্রশ্ন হতে পারেÑ যে যদি আমরা উদার হই, ভালো হই তবে কেন আমাদের দেশে এত অশান্তি, মারামারি, বোমাবাজি, সন্ত্রাস। কেন এত দুর্নীতি। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। এ প্রশ্ন খুবই যুক্তিসঙ্গত। তবে এর উত্তরও আছে।
আসলে আমাদের দেশের কিছু মানুষ নামের কলঙ্ক রয়েছে, যারা শুধু নিজের সুযোগ-সুবিধার জন্য এসব হানাহানি, বোমাবাজি আর সন্ত্রাস করে থাকে। এখনো আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষ ভালো মানুষ। তারা শান্তিপ্রিয়। তারা সুখে বসবাস করতে চায়। কিন্তু ওইসব দুষ্কৃতকারীর কারণে হঠাৎ হঠাৎ অশান্তি সৃষ্টি হয়।
এখন আরো একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে, তা হলে এসব থেকে বাঁচার উপায় কী? হ্যাঁ তারও জবাব আছে। বাঁচতে হলে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেম, জাতিপ্রেম বুকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি শান্তির পক্ষে সবাই এক হতে পারি এবং যারা অন্যায় করে তাদের প্রতিরোধ করি, তা হলে আমাদের দেশ আবার সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।
১৬ ডিসেম্বর আমরা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এখন এসব সন্ত্রাস, দুর্নীতিবাজ ও বোমাবাজদের বিরুদ্ধেও আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে।
যারা সুশাসনের পরিবর্তে কুশাসন দুঃশাসন চাপিয়ে দেয় তাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে হবে। বিজয় অর্জন করতে হবে যারা মানুষকে ঘৃণা করে তাদের ওপর। তবেই আমাদের দেশ হবে সুন্দর। হ