মায়ের ভাষা
সৈয়দ মাশহুদুল হক

ভাষার তরে জীবন দিয়ে
ভাই লড়ল সমর
তবুও ভাষা দেয়নি নিতে
তাই তাহারা অমর।

বাংলা জুড়ে যখন আসে
ফেব্রুয়ারি-ফাগুন
কৃষ্ণচূড়া শিমুল ফুলেই
দেখি ভাইয়ের খুন।

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
আমার প্রথম বুলি
ফেব্রুয়ারির একুশ এলে
তাই গর্বে ফুলি।

শীত বসেছে জেঁকে
পঞ্চানন মল্লিক

পোষের শুরু থেকে
শীত বসেছে জেঁকে
যাচ্ছে দ্যাখো দিনের আলো
কুয়াশাতে ঢেকে।

বস্তিবাসী ভোগে
শীতের এ দুর্ভোগে
হঠাৎ করে ভুগছে বা কেউ
শৈতবাহী রোগে।

পথশিশুর কথা
বলতে লাগে ব্যথা
এমন দিনে শীত ঠেকাবার
নেই যে গরম কাঁথা।

মাঠের কৃষক যায়
গামছা শুধু গায়
ঠকঠকিয়ে কাঁপে শীতে
কত কষ্ট পায়।

বিত্তবানদের কাছে
একটা দাবি আছে
শীতের দিনে বিলান কাপড়
গরিব যাতে বাঁচে।

আঁকতে গিয়ে ছবি
আবু আফজাল সালেহ

আঁকতে গিয়ে বকের ছবি
আঁকলাম যেই ঠ্যাংটা
কী জানি কী মনে করে
ছুটে এলো ব্যাঙটা।
এই ছবিটি দেখে ফেলায়
ব্যাঙের খারাপ মনটা
ছোট্টবেলায় পা হারিয়ে
ফিরে পায় জানটা।
ঠ্যাংটা যদি থাকত এখন
কী মজাটাই হতো
মনে মনে ব্যাঙটা ভাবে
ঘুরতাম ইচ্ছে মতো!
বকটা বলে মুচকি হেসে
ছবি আঁকলেন কবে?
যার কাজ সে না করলে তবে
এমনটাই তো হবে!

পিঠার স্বাদ
হামীম রায়হান

শীত সকালে উঠে
খুঁজি আলোর রেশ,
কনকনে এই ঠাণ্ডা দিনে
পিঠা খেতে বেশ!
কুয়াশা ঢাকা গাঁয়ের পথে
যায় না দেখা দূর,
গাছিয়ালি খেজুর রসে
বানায় মিষ্টি গুড়।
গুড়ের সাথে পিঠা, আহ!
কী অসাধারণ!
পিঠার সাথে গাঁয়ের পথে
যায় হারিয়ে মন।

মাঘের শীত
মো: ছিদ্দিকুর রহমান

হাড় কাঁপানো শীতে আসে
এলে পৌষ মাঘ,
জোয়ান বুড়ো কাঁপে শীতে
কাঁপে বনের বাঘ।
বন্যপশুও হার মেনে যায়
আসলে মাঘের শীত,
বনের রাজা সিংহও হয়
মাঘের শীতে ভীত।
ঘোর কুয়াশা শীতল হাওয়া
ঝিরঝিরিয়ে বয়,
লেপ কম্বল গায় জড়িয়ে
তবু নাহি সয়।
আঁধার কালো ঘন কুয়াশায়
আনে প্রবল শীত,
গরম কাপড় চাদর সোয়েটারে
যায় না থাকা স্থিত।

শান্ত মায়ের ছেলে
আরিফ বখতিয়ার

ঘরছাড়া মন দুষ্টু খোকন
দুরন্ত ঐ মাঠ,
ভাল্লাগেনা পড়ার টেবিল
সন্ধে বেলার পাঠ।

সন্ধে বেলার বালুর মাঠ
ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে,
খোকনরে তোর হাতের মুঠোয়
জোনাক জ্বলে থাকে।

মনের ভেতর যতই থাকুক
কাঠঠোকরার ঠোঁট,
এখন যে তোর খেলার সাথী
অংক খাতা, নোট।

বালুর মাঠে সবুজ ঘাসে
ঘুড়ির লাটাই ফেলে,
পড়ার টেবিল বই পেতেছে
শান্ত মায়ের ছেলে।