একুশ শব্দটি কিভাবে আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সঞ্চারিত হয়েছে, সেটি নতুনভাবে বলার প্রয়োজন আসে না। একুশ কথাটি মনের ভেতর আলাদা একটি সাহস জোগানোর মতোই শব্দ। যে সাহস যুগে যুগে শুধুই সঞ্চারিত হয়েছে আমাদের জাতীয় জীবনে। আমরা ভাষার জন্য সংগ্রাম করে স্বীকৃতি পেয়েছি আন্তর্জাতিক মহলে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে শামিল হয়েছে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশ, বিশ্বে ভাষার জন্য এক নিদর্শন হয়ে আছে। একুশের সাথে ভাষা আন্দোলন নিবিড়ভাবে মিশে আছে। একুশের শহীদেরা আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আজীবন বীরের মর্যাদায় ভূষিত থাকবে। পলাশীর প্রান্ত থেকে শুরু করে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতাযুদ্ধ আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য বিকৃত হয়ে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। নতুন প্রজন্ম প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। ইতিহাস বিকৃত হলে আমাদের প্রজন্ম ধাবিত হবে ভিন্ন পথে, এটি স্বাভাবিক। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার নামে প্রজন্ম যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তবে তার দায়ভার আমাদেরই নিতে হবে। কেননা, প্রজন্ম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি বলে তারা তথ্যের জন্য নির্ভর করে বিভিন্ন গণমাধ্যম, বই কিংবা ব্যক্তি-সাক্ষাৎ। সে ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাট হলে প্রজন্ম সেই বিভ্রান্তিকর তথ্যই সত্য বলে মনে করবে। এ জন্য এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো বেশি যতœবান হওয়া জরুরি। তবেই প্রজন্ম পাবে সঠিক ইতিহাস, দেশ এগিয়ে যাবে সুস্থভাবে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে ভাষা আন্দোলনের বড় একটি প্রভাব রয়েছে, যা একুশের চেতনাকে লালন করেই সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে রয়েছে মূলত একুশের চেতনা। কেননা, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা চর্চার মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার সাথে মিশে গেছে একুশ। আর এই চেতনাকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে অধুনা-পৃথিবীর হাত ধরে। বিশ্ব প্রতিদিন বাংলাদেশকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। মর্যাদা পাচ্ছে ভিন্ন মাত্রায়। বিশ্বের সরলরেখার মূল স্রোতে মিশতে সক্ষম হচ্ছে বাংলাদেশ। যেমনি দেশের সুনাম অক্ষুণœ থাকছে, তেমনি বৈদেশিক চাহিদা পূরণে দেশ ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে নিটোলভাবে। একটি স্বকীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি আজ এই ধারাবাহিকতায় পৌঁছেছে। বাংলা ভাষা আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনও। যার বীজ বপন হয়েছিল বহু আগে, বহিঃপ্রকাশ ঘটে বায়ান্নতে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে শোকাবহ দিনগুলোর কথা বাঙালি ভোলেনি, ভুলবেও না। কারণ সেই দিনগুলোর কথা কতটা নির্মম ছিল তা অকল্পনীয়। তবে এই নির্মমতার বিপরীতে বাঙালির ছিল কঠোর অবস্থান। বিনিময়ে মুক্তির স্বাদ পাওয়া।
এক এক দেশের ভাষা একেক রকম। বিভিন্ন সময়ে ভাষার ভিন্নতা বা পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন হয়েছে ও হচ্ছে। মানুষের হাসি-কান্নার সাথে মায়ের ভাষা পরিপূরকভাবে জড়িত। মানুষ হাসলে তার ভাব প্রকাশের ভাষা এক রকম আবার কাঁদলে তার ভাব প্রকাশের ভাষা অন্য রকম হবে, এটিই স্বাভাবিক। কেননা, ভাষার স্বকীয়তার কারণেই এটি হয়ে থাকে। যে মাতৃভাষার জন্য এতটা পথ চলা, এত বেশি ত্যাগ স্বীকার আর রক্তঋণে আমরা আবদ্ধ; আমরা কি সেই বাংলা ভাষার সঠিক মূল্যায়ন করছি? কখনো কখনো দেখা যায় বিদেশী ভাষার প্রতি আমরা যতটা যতœবান, ঠিক ততটাই অবহেলা করছি বাংলা ভাষাকে। অন্য ভাষার প্রতি বাঙালির এই ঝুঁকে যাওয়াকে বোদ্ধারা ইতিবাচক হিসেবে দেখেনি, সে ক্ষেত্রে এই ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতাকে বাংলা ভাষার যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট আহমদ রফিক বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। একটি সাক্ষাৎকারে বাংলা ভাষা অবহেলার স্বীকার হওয়ার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেনÑ আমাদের ১৯০ বছর বিদেশী শাসন, রাজ ভাষা এবং তার সংস্কৃতি। ইংরেজি সংস্কৃতির প্রভাবে যে শিক্ষিত শ্রেণী তৈরি হয়েছিল তাদের ধারাবাহিকতায় ঊনিশ শতক থেকে একের পর এক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেটি লালিত হয়েছে, পালিত হয়েছে। সেটি যেমন ’৪৭-এর আগে হয়েছে ’৪৭-এর পরে হয়েছে এবং ’৭১-এর পরেও সেই ধারাবাহিকতাটাকে আমরা বহন করছি। আমরা এখনো ঔপনিবেশিক রাজ ভাষার প্রভাবমুক্ত নই। সেই ধারাবাহিকতা বহন করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যারা অতিমাত্রায় রাজনীতি সচেতন আদর্শিক দিক থেকে শুদ্ধ এবং সৎ তারা খুব সামান্যসংখ্যক ব্যতিক্রম। আর বাদ-বাকিদের এই ভাষার ব্যাপারে মমত্ববোধ নেই। তেমনিভাবে সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ বলেছেনÑ উর্দুকে যদি রাষ্ট্র ভাষা করা হয় তবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ নিরক্ষর এবং সব সরকারি পদের ক্ষেত্রেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারি মাতৃভাষার গুরুত্ব কতখানি। এমতাবস্থায় সমকালীন লেখকরাই তাদের লেখার মাধ্যমে ভাষার বিশ্লেষণধর্মী গুরুত্বের বিষয়টি সাধারণ মানুষের দরোজায় পৌঁছে দিতে পারেন। শুধু লেখকরা নন, সংশ্লিষ্ট সবাই এর জন্য কাঁধে কাঁধ মেলাতে হবে। একুশের এই চেতনা সাধারণের মধ্যে সঞ্চারণে সাহিত্যিক একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকে, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সুতরাং গণমানুষের মধ্যে চেতনার বীজ বুনে অঙ্কুরে সহায়ক ভূমিকা পালন করা সম্ভব। নইলে একুশের চেতনাকে ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করা হলে তার দায়ভার প্রথমে সাহিত্যিককেই নিতে হতে পারে। কেননা, জাতি আজো বিশ্বাস করে, ‘বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র।’ সুতরাং সাহিত্যিককে আরো কতবেশি দায়িত্বশীল হতে হবে তা স্পষ্ট। শুধু শখের বশে লিখতে আসা কিছু লেখকশ্রেণীর লেখা থেকে পাঠক তথা গণমানুষ খুব বেশি উপকৃত না-ও হতে পারে। যারা ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে লিখে চলেছে, তাদের লেখা থেকে গণমানুষ শুধু উপকৃতই হয় না, একটি নব জাগরণের সূচনা হয়Ñ একটি নতুন স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। তার প্রমাণ আমরা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। একজন সাহিত্যিকের একটি মাত্র শব্দই পাল্টে দিতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রের ধোঁয়াটে কুসংস্কার।
জীবিকা ও জীবনাচরণের জন্য প্রয়োজন ভাষা। জীবনবোধের ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে আঞ্চলিক ভাষার উৎপত্তি। মানুষ জন্মের পর থেকেই তার মাটি ও মাকে চিনে থাকে। সে সুবাদে, মাটির সোঁদা গন্ধের পাশাপাশি বোল শিখে যায় মায়ের মুখ থেকে। এজন্য জীবনবোধের দর্শনে মা ও মাটি একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ধরতে পারি। যে ভাষার সাথে একুশ শব্দটি মিশে আছে, সে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাটির কাছাকাছি থেকে জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করা জরুরি। আহমদ রফিক একুশের চেতনা ও সার্বজনীন জাতিরাষ্ট্র কি স্বপ্নই থেকে গেল প্রবন্ধে বলেছেনÑ স্বভাবতই মাতৃভাষা জাতীয় পর্যায়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামী প্রেরণা, তেমনি কখনো হয়ে ওঠে মুক্তি সংগ্রামেরও প্রেরণা। এখানে লেখক স্পষ্ট করেছেন, মাতৃভাষার অধিকারের সাথে মুক্তিযুদ্ধের নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক। কেননা, কোনো কোনো সংগ্রাম অন্য একটি অধিকার আদায়ের সাথে সরলরেখায় মিলে যায়। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বহু সাহিত্যিক বিভিন্ন মতাদর্শ উপস্থাপন করেছেন তাদের লেখনীর মাধ্যমে। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে। তবে এসব লেখা থেকে পাঠক কি পাঠোদ্ধার করছে তার বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাও জরুরি। আগেই বলা হয়েছে ইতিহাস বিকৃত করে নতুন প্রজন্মের হাতে কিছু তুলে দিলে, সেটি হাতের ভাঙা-মোয়া ছাড়া কিছুই হবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাহিত্যিককে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। হয়তো বা এই মতাদর্শের সাথে কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করতেই পারে। কিন্তু দেশ ও গণমানুষের কথা ভেবে সাহিত্যিকদের আরো বেশি সজাগ হতে হবে, আরো বেশি তথ্যনির্ভর হতে হবে। সাহিত্যিক কোথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে; সে উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য তা ভেবে দেখার প্রয়োজন। কারণ একটি ভুল তথ্য যতটা অপকার করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে ইতিহাসকে। ইতিহাসের ওপর নির্ভর করেই জাতি এগিয়ে যায় সামনের দিকে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সাহিত্যিকদের এ ক্ষেত্রে কী করণীয়। সত্যিকার অর্থে, সাহিত্যিকেরাই এ ক্ষেত্রে তাদের লেখাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। অস্তিত্বকে ধরে রাখতে গেলে প্রয়োজন দ্যোতনাধর্মী বোধ ও দর্শন। এতগুলো বছর পরে একুশের চেতনা নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের কতটুকু প্রয়োজন আছে বা নেই সেটি আমাদের সবার জানা। একটি পক্ষ অবশ্য দাবি করতেই পারে, এটির গঠনশৈলী বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কারণ, নতুন প্রজন্মের দরোজায় গঠনশৈলী তথ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন আছে। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের হাত থেকে নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে বা হতে পারে। তারুণ্য কখনো হারতে শেখেনি। এ জন্য হয়তো বা কবি আসাদ চৌধুরী শহীদ মিনার কবিতায় বলেছেন এভাবেÑ
শহীদ মিনার মানি অসমাপ্ত
বারবার ভাঙচুরের শিকার
আমাদের কীর্তি ও সাফল্যের
প্রথম সোপান তবু
তারুণ্যের স্বপ্নমাখা
শহীদ মিনার
কবির কবিতায় আমরা দেখতে পাই, ভাষা আন্দোলনের স্মারকস্তম্ভ শহীদ মিনার বারবার ভেঙে ফেলা হলেও তারুণ্যের কাছে পাক-হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়েছে। অবশেষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের সাক্ষীÑ শহীদ মিনার। শহীদ মিনারের মতো তরুণদেরও বারবার ভেঙে গেলেও আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। সাহস সঞ্চার করতে হবে অস্তিত্বের নিশান মাথায় বেঁধে। তবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব। একটু ভেবে দেখলে আরো স্পষ্ট হওয়া যায় যে, ১৯৪৮, ১৯৫২ কিংবা ১৯৭১ সালের চাওয়াগুলো একই সরলরেখায় মিশেছিলÑ রাষ্ট্র ভাষা উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়া। খেটে খাওয়া মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব থাকলেও তারা এতটুকু অনুধাবন করতে পেরেছিল যে, ছাত্রসমাজ-বুদ্ধিজীবীদের সংগ্রামের সাথে একীভূত হওয়া। খেটে খাওয়া মানুষ ভাষার গুরুত্ব বুঝে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই দীর্ঘ সংগ্রাম আর অপেক্ষার পর অবশেষে বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়া হলো রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে। আমরা ফিরে পেলাম মায়ের শেখানো বোল। তাদের এই অসীম সাহসের মূল্য কোনো দিন কোনো কিছু দিয়ে শোধ দেয়া সম্ভব নয়। বাংলা বোলের জন্য কত মা তার সন্তানকে, স্ত্রী তার স্বামীকে, বোন তার ভাইকে হারিয়েছে। যখনই কোনো সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ, তখনই পেছন থেকে আমাদের মুঠোভরা সাহস জুুগিয়েছে চেতনার বাতিঘরÑ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। জাতীয় পর্যায়ে একুশের উত্তাপ ছড়িয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দ্যোতনায়। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতি ও দেশের কল্যাণে একুশের অগ্রনায়কেরা অমর হয়ে ঋণী করেছে আমাদের। তারুণ্যের গতিশীলতার ফলাফল মহান একুশ কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধ।
একুশের চেতনাকে লালন করার জন্য প্রয়োজনÑ সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন। যদিও প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় জীবনে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষাসহ দেশের সব শিক্ষাব্যবস্থা, অফিস-আদালত, সচিবালয় ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও বাংলাকে প্রাধান্য দিতে হবে। অতি আধুনিকতার নামে আমাদের শিক্ষাক্রম থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে অবহেলা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা দিনে দিনে উপহাসের বিষয় হতে চলেছে। বহির্বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের জীবিকায়ন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নিজেদের মাতৃভাষাকে মুখ্যভাষা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে অন্য কোনো ভাষা গৌণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আমরা পাশ্চাত্য কিংবা প্রাচ্যকে অনুসরণ-অনুকরণ করা শুরু করেছি বহু আগে থেকে। অথচ তাদের ভাষার প্রতি তাদের প্রীতির মমতাটুকু, আমরা আজো শিখে নিতে পারিনি। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাকে সব ক্ষেত্রে প্রচলনের জন্য প্রয়োজন বাংলা ভাষার জন্য একটু সদিচ্ছা। প্রয়োজন, জীবন ও জীবিকার সাথে বাংলাকে যৌক্তিকভাবে সংযুক্ত করা। হ
একুশ শব্দটি কিভাবে আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সঞ্চারিত হয়েছে, সেটি নতুনভাবে বলার প্রয়োজন আসে না। একুশ কথাটি মনের ভেতর আলাদা একটি সাহস জোগানোর মতোই...
