২১ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। অর্ধশতাব্দী পার করে আরো এক যুগের বেশি কাল অতিক্রম করে ফেলেছি আমরা ইতোমধ্যে। ‘ভাষা আন্দোলন’ কী, কেন, এসব প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়, আন্দোলনের সাথে যুক্ত ‘ভাষা’ শব্দটি। এ আন্দোলন ভাষার জন্য, মাতৃভাষার মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য। ভাষাকে সুরক্ষিত আর নিরাপদ রাখার জন্য।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো। হাজার মাইল দূরের অজানা-অচেনা ভিন্ন ভাষা সংস্কৃতির একটা দেশকে মিলিয়ে দেয়া হলো আমাদের সাথে। তখনই বাঙালিরা মনে মনে শঙ্কিত ছিল, ওদের সাথে মিল হবে তো! আশঙ্কা অমূলক ছিল না। পাকিস্তানের ক্ষমতালোভী শাসকেরা নির্যাতনের খড়গ চালাতে শুরু করল নিরীহ বাঙালির ওপর। অবিবেচনাপ্রসূত ও নীতিবহির্ভূত কাজ চালাতে থাকল একের পর এক। যার প্রতিটি কাজই ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থের প্রতিকূল। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও আঘাত শুরু করল তারা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্য নস্যাৎ করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হলো ক্ষমতাশ্রয়ীরা।
পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের মাতৃভাষা বাংলা। এ ভাষা তাদের প্রাণ। শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। আর তখন থেকেই শুরু হলো ভাষা আন্দোলনের। প্রাণের ভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার দাবিতে তুমুল আন্দোলনে যেতে বাধ্য হলো বাঙালিরা। নির্যাতন, জেল-জুলুমের শিকার হলো তারা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিবর্ষণে প্রাণ হারালেন সালাম, বরকত, রফিকসহ নাম না জানা শহীদেরা। এ আত্মত্যাগে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের আগুন। ছাত্র আন্দোলন রূপ নিলো ছাত্র-জনতার বাঁধভাঙা গণ-আন্দোলনে। একুশে ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হলো ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার বাইরে, সারা দেশে। জেলায় জেলায় এমনকি মহকুমা পর্যায়েরও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি গঠিত হলো। শুরু হলো মিটিং-মিছিল শহীদ মিনার নির্মাণ আর প্রতিদানে গুলিবর্ষণ।
যেকোনো জাতির সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যম ভাষা। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাহনও ভাষা। তাই ভাষার ওপর আঘাত মানে পুরো জাতিসত্তার ওপর আঘাত। এ আঘাতে শঙ্কিত হয়ে উঠল বাঙালিরা। হলো আতঙ্কিত। সর্বপ্রাণে আঘাত প্রতিহত করতে উদ্যোগী হলো। সোজা কথায় কাজ হলো না। বাঙালির দাবি ওরা মানল না। তাই বাঙালি এগিয়ে যায় রক্তাক্ত পথে। এগিয়ে যায় আত্মদানের রথে।
একুশে ফেব্রুয়ারি প্রমাণ করেছে পূর্ব বাংলার জনগণের আচার-আচরণ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, জীবনচিন্তা স্বতন্ত্র। এই স্বাতন্ত্র্যকে সংরক্ষণ করতে জনগণ প্রাণ পর্যন্ত পণ করে বসে। এই স্বাতন্ত্র্য থেকেই সৃষ্টি হয় এক নতুন জাতীয়তাবোধের। ’৫২-এর ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, তারপর ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে এক বিরাট ঘটনাবহুল অধ্যায়। একুশে ফেব্রুয়ারি এ জাতির জীবনে এক অমূল্য সম্পদ। আর যেকোনো অমূল্য সম্পদের সৃষ্টি হয়ে থাকে কোনো এক দুর্লভ মুহূর্তকে কেন্দ্র করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তেমনই এক দুর্লভ মুহূর্ত। যার ফলে এ দেশে স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।
ভাষা আন্দোলনই বীজ বুনেছিল মুক্তিযুদ্ধের। গড়ে ছিল পাটাতন। ভাষার অধিকার আদায় করতে অদম্য ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়েছে। অমিত তেজে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ভাষাভিত্তিক স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছে পূর্ব বাংলার মুক্তিপাগল জনগণ। তারা পেয়েছে নতুন পতাকা রক্তরঞ্জিত পথে। পেয়েছে নতুন পরিচয়, নতুন ঠিকানা।
ভাষা আন্দোলন আমাদের অস্তিত্ব¡ রক্ষার আন্দোলন। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’, ‘সর্বস্তরে বাংলা চাই’-এর মতো আবেগময় সেøাগানে সেøাগানে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে ভাষাপ্রেমী জনগণ। পূর্ব বাংলার বঞ্চিত, নিপীড়িত, অবহেলিত ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নতুন সংবিধানে উর্দুর সাথে বাংলাকেও অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানে বাধ্য হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক বিজয় সূচিত হয় সেদিন। ১৯৯৯ সালে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো মহান ভাষা আন্দোলন দিবস একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই স্বীকৃতি বাঙালি জাতির আরেকটি বিশাল বিজয়। ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দান করে বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনসমষ্টিকে কৃতজ্ঞতাপাশে বেঁধেছে। কৃতজ্ঞ করেছে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি বাংলাভাষীকে। ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগো নগরীর ‘হে মার্কেটে’ কিছুসংখ্যক শ্রমজীবী আট ঘণ্টা শ্রমকালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। তাদের আত্মদানের মাধ্যমে বিশ্বময় স্বীকৃতি লাভ করেছে মে দিবস। বাংলাদেশের দামাল ছেলেরাও তেমনি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে বাংলা ভাষার দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা ভাষা পৃথিবীর চার সহস্রাধিক ভাষার মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। ফরাসি ভাষার চেয়েও বাংলাভাষী জনগণের সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে বিশ্বের ২৫ কোটিরও বেশি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। এমনকি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লন্ডনে যেখানে ৩০৭টি ভাষায় মানুষ কথা বলে সেখানেও বাংলা হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা। আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরা লিওনে বাংলাকে সে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাই ২০১৯ সালে শুধু বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতিপালিত হবে না, জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি দেশে পালিত হবে। বিশ্বের সর্বত্র শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হবে শহীদ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিকের নাম। উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নাম।
একুশে ফেব্রুয়ারির এই গৌরবময় কাহিনী আজ বিশ্ববাসীর জানা। জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা দিবস। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন হয়ে উঠেছে দেশ ও বিদেশের অসংখ্য মানুষের তীর্থক্ষেত্র। ২১ ফেব্রুয়ারিকে উপলক্ষ করে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বইমেলা। মেলায় অংশগ্রহণ করেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষ। তর্পণ করেন একুশের।
তবে এ কথা উল্লেখ্য, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হলেও এটি বাংলাদেশের একান্ত আপন অর্জন। বাংলাদেশের বাইরেও বাংলা ভাষা প্রচলিত রয়েছে। আসাম ও ত্রিপুরার বিরাট জনসমষ্টির, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের মাতৃভাষা বাংলা। আসামের বরাক উপত্যকার জনগণও ভাষার জন্য আন্দোলন করেছে ১৯৬১ সালের ১৯ মে; আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রায় ১০ বছর পর। তবে ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির মতো মহান অধ্যায় কিন্তু রচিত হয় পূর্ব বাংলায়। শহীদ মিনার নির্মাণ হয় ঢাকায়। কলকাতায় নয়, অন্য কোথাও নয়। বাংলাদেশের ভাষা বাংলা সৃষ্টি করেছে স্বতন্ত্র এক আবহ। সৃষ্টি করেছে স্বতন্ত্র এক জীবনবোধ। স্বতন্ত্র এক সংস্কৃতি। এটি স্বয়ংসম্পন্ন বাংলাদেশী সংস্কৃতি। বাংলাদেশের জনগণ এ জন্য গর্বিত। জাতি হিসেবে গর্বিত মহান একুশের উত্তরাধিকার মাথায় নিয়ে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের বীর নায়কদের সীমাহীন ত্যাগের কাহিনী জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। স্মরণ করে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে একুশে ফেব্রুয়ারিকে। শ্রদ্ধাবনত হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পূর্ণ স্মৃতি স্মরণে রেখে।
স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছু কিছু আইনও জারি করা হয়েছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ তেমনভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ৬৭ বছর সময় একটা জাতির জীবনে মোটেই কম সময় নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, যে আদর্শ, চেতনা ও প্রত্যাশা নিয়ে এত আত্মদানের বিনিময়ে আমরা মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, সে অনুপাতে দেশে সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রয়োগ ও প্রচলন করতে সক্ষম হইনি আমরা। ভাষা আন্দোলনের ছয় দশক পেরিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ করতে গেলে তাই প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি বড়ই কম।
স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে তথা উচ্চশিক্ষাসহ প্রশাসনে, আদালতে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার অতি সীমিত। দেশে অসংখ্য ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে দেশে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা ব্যয়বহুল, যা গ্রহণ করা সমাজের ধনী শ্রেণীর সন্তানদের পক্ষে সম্ভব। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পক্ষে সে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব নয়। তাই পিছিয়ে পড়েছে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুণ সমাজ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এ দেশে বুদ্ধিজীবী বা ভাষাপ্রেমী হিসেবে স্বীকৃত অনেক মানুষও তাদের সন্তানদের পড়িয়েছেন ইংরেজি মাধ্যমে। অভিবাসী হয়েছেন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায়। তারা মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। আর এসেই দেশপ্রেম, ভাষাপ্রেমের বাণী বর্ষণ করেন। এমনকি তারা পুরস্কারও পান। সে পুরস্কার হাত পেতে গ্রহণও করেন। এ দেশকে বসবাসের অযোগ্য মনে করে একজন শিল্পী বহু বছর আগে আমেরিকা প্রবাসী হয়েছেন। তাকে ডেকে এনে জাতীয় পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আমাদের দীনতার সত্যিই শেষ নেই!
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের মধ্যে অনেকেরই ইংরেজির মোহ আজো কাটেনি। তারা বাংলা মাধ্যমের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনে আগ্রহী নন। বিষয়টি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও প্রচলনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। সরকারি নির্দেশে অফিস-আদালতে নথি ও নোট তৈরি, অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র আদান-প্রদানে বাংলা ভাষার ব্যবহার মোটামুটিভাবে চালু হলেও দলিলপত্র, দস্তাবেজ, চুক্তিনামা ইত্যাদি এখনো অনেকাংশে ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে। এসব দলিলপত্রে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
বাংলা ইংরেজি মিশিয়ে এক অদ্ভুত ধরনের বিজাতীয় ভাষায় কথা বলছে বিভিন্ন প্রাইভেট রেডিওর পারফরমাররা। একইভাবে কথা বলছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া কিছু ছেলেমেয়ে। আঞ্চলিকতার নামে অদ্ভুত ধরনের এক জগাখিচুড়ি ভাষায় কথা বলছে টেলিভিশন নাটকের পাত্রপাত্রীরা। একবার এক টেলিভিশন এমন ভাষায় একটা নাটক করল তারপর থেকে এটা রেওয়াজ হয়ে গেল। ভালো-মন্দ না ভেবে অন্ধ অনুকরণ আমাদের বৈশিষ্ট্য। ভাষার এমন পোস্টমর্টেম করার অধিকার কারো নেই। এ দিকে নজর দিতে হবে তথ্য মন্ত্রণালয়কে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও কৃষি প্রযুক্তির বইপুস্তক বাংলায় প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তা জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। রাস্তাঘাটে অসংখ্য ব্যানার টানানো দেখি আমরা। দোকানের নাম, প্রতিষ্ঠানের নামে ভুলের ছড়াছড়ি। এ দিকে নজর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। উল্লেখ্য, ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। ইংরেজি ভাষার সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা ইংরেজি পড়ব, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে।
মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চাই জাতীয় অগ্রগতির চাবিকাঠি। চীন, জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, জার্মানি মাতৃভাষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় এবং বিজ্ঞানে চরম উৎকর্ষ লাভ করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। আমরাও পারব। এ ব্যাপারে মূল বাধা চিহ্নিত করে তা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগোতে হবে আমাদের। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনমত সৃষ্টিতে এবং আইনের প্রয়োগে শিক্ষিত শ্রেণী ও সরকারের দায়িত্ব অপরিসীম। বাংলার শিক্ষকেরা কতটুকু বাংলা জানেন বা বলেন, শিক্ষক নিয়োগদানের সময় সেটা দেখা একান্তই জরুরি। বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটা সেল গঠন করা যেতে পারে।
আমরা চাই, অনেক রক্তের বিনিময়ে যে ভাষাকে আমরা পেয়েছি সে ভাষা মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকুক। হ
