ফাল্গুনের ঝিরি ঝিরি হিমেল হাওয়ায় পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে পড়ে। তখন শুধু কিছু তারা জেগে থাকে রাতের আকাশে। মিটি মিটি হাসতে থাকে আকাশজুড়ে! আর তখন আমিও জেগে থাকি তারাদের সাথে। বিশেষ করে যখন ফাল্গুন মাস আসে। তখন আমার দুই চোখে ঘুম আসে না। কোনো এক ফাল্গুনে তুমি আমার জীবনে এসেছিলে। আমি খুব পুলকিত হয়ে স্বপ্ন বুনেছিলাম সে ফাল্গুনে। ভেবেছিলাম প্রকৃতির মতো আমার জীবনেও বুঝি বসন্ত এলো! কিন্তু না। মানুষ খুব সহজে নিজের স্বরূপ বদলাতে পারে। যার প্রমাণ শুধু তুমি। শুধু স্বরূপ বদলেই ক্ষান্ত থাকোনি! অপবাদ দিয়ে আবার ধোঁকাও দিলে। আমি কিছু মনে করিনি বিশ্বাস রাখতে পার। আমি সত্যি সত্যিই কিছু মনে করিনি! কারণ আমার জীবনে বসন্ত না এলেও তোমার জীবনে তো বসন্ত এসেছে। আর আমি কখনোই তোমার জীবন আর আমার জীবনের পার্থক্য করিনি। ‘নিলা’ তুমি হয়তো জান না। আজ এত বছর পরও ফাল্গুন এলে স্বপ্নে তোমায় খুঁজে পাই!
হয়তো এবারো ফাল্গুনের রাতে তুমি স্বপ্নে এসে আমার ঘুম ভেঙে দিবে। আর আমার কানে চুপি চুপি বলবে, ‘আমি ফিরে এসেছি আর মন খারাপ করে থেকো না।’
লোকমুখে শুনেছি তুমি খুব ভালো আছ। কিন্তু আমি আজো তোমায় খুঁজে বেড়াই নিলা! আমি আজো তোমার ছুঁয়ে দেয়া তরু-লতাদের ছুঁয়ে দেখি। তোমার হেঁটে যাওয়া সেই পথে হাঁটি। শূন্য পথে চেয়ে চেয়ে কল্পনা করি তুমি ফিরে এসেছ। এসে আমায় ছুঁয়ে দিয়ে বলবে, ‘আমার চলে যাওয়াটা ছিল তোমার দুঃস্বপ্ন! বাস্তবে এমন ঘটেনি।’
কিন্তু না এমনটি আর হয় না। প্রতিটা ফাল্গুনই আমার দুঃস্বপ্নের ভেতর কেটে যায়। ফাল্গুন আসে ফাল্গুন যায়। তবুও শুনে রেখ নিলা, চুপিসারে বলে যাচ্ছি। আমি আজো তোমায় ভালোবাসি। আজো তোমায় মনে রাখি। আজো ফাল্গুনের রাতে স্বপ্নের মাঝে তোমার ছোঁয়া অনুভব করি। প্রতিটা ফাল্গুনে তোমার পথ চেয়ে থাকি প্রতীক্ষায়...।
প্রিয়জন-১৬২৪
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী